দেশে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভে আরেকটি মাইলফলক

দেশে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভে আরেকটি মাইলফলক

দেশে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভে আরেকটি মাইলফলক

বিশ্বব্যাপী চলমান করোনাভাইরাসের মধ্যেও দেশে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভে আরেকটি মাইলফলক হয়েছে। সোমবার দিন শেষে বাংলাদেশের রিজার্ভ ৩৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ঈদুল আজহার পরও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের উর্ধ্বগতিতে এমনটা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, দেশের ইতিহাসে এত বেশি রিজার্ভ এর আগে কখনই ছিল না। রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাওয়ায় গত দেড় মাসে রিজার্ভ বেড়েছে ৪০০ কোটি ডলার। ফলে ৩৪ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে রিজার্ভ হয়েছে ৩৮ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে রিজার্ভ পাঁচ বার রেকর্ড গড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি মাসে ৪ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় হিসাব করলে, প্রায় সাড়ে নয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব এই রিজার্ভ দিয়ে।

রিজার্ভের নতুন রেকর্ডের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, মূলত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের কারণেই রিজার্ভে একটার পর একটা রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। এ জন্য প্রবাসীদের কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান তিনি। কারণ বিশ্ব মহামারির মধ্যেও বেশি বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়ে তারা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ভূমিকা পালন করছেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির পেছনে সরকারের বড় ভূমিকা রয়েছে। আর সেটা হলো- বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত বছরের জুলাই থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে প্রবাসীরা উৎসাহিত হয়ে বেশি বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন।

তবে অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, রেমিট্যান্স বাড়ার একটি অন্যতম কারণ হলো মহামারিতে হুন্ডি বন্ধ হয়ে যাওয়া। এর ফলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসছে।

তারা আরো বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা মোকাবেলায় প্রবাসীরা তাদের পরিবারে যেমন বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন, তেমনি সংকটের কারণে অনেকে বিদেশের পাট চুকিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং জমানো টাকা দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। আর এসবই রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে।

পাঠকের মন্তব্য