বলাৎকারের অভিযোগে অভিযুক্ত হচ্ছে মাদরাসার শিক্ষকরা

বলাৎকারের অভিযোগে অভিযুক্ত হচ্ছে মাদরাসার শিক্ষকরা

বলাৎকারের অভিযোগে অভিযুক্ত হচ্ছে মাদরাসার শিক্ষকরা

প্রতিটি মাদ্রাসায় বাধ্যতামূলকভাবে জাতীয় সংগীত গাইতে হবে ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে। কারণ এটা সংবিধানে উল্লেখ করা আছে। এই দেশে বাস করতে হলে সংবিধান মেনে চলতে হবে। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, মসজিদের ঈমাম সাহেবদের বলছি, ভাস্কর্য নিয়ে বিভিন্ন অপপ্রচার ও ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরী করা হচ্ছে। আপনারা মসজিদে খুতবায় এ ব্যাপারে পরিস্কারভাবে বলবেন ইসলামে ভাস্কর্য সাংঘর্ষিক নয়, নিষিদ্ধও নয়। এই ভাস্কর্য ইস্যু নিয়ে দেশের বিরুদ্ধে অপব্যাখ্যা চাই না। কুসংস্কার লালন করে ঘরমুখী রাজনীতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করে যারা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আপনাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

কোন ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে সমাজের পরিবর্তন হয়েছে ? আমি ঘন্টার পর ঘন্টা ইউটিউবে ৫০০ এর উপরে ওয়াজ মাহফিল শুনেছি। কমবেশি সব বক্তার বক্তব্য শুনেছি। দেলোয়ার হোসেন সাঈদী তার ওয়াজে বলতেন, মন্দির গির্জায় দান করে শেরকী কাজ। অথচ এই সাঈদী ২০০১ সালে যখন এমপি। তখন নিজেও পুজামন্ডবে গেছেন। এবং তৎক্ষণিক ৫০ হাজার টাকা অনুদানও দিয়েছেন। এরা নিজের সুবিধামতন ওয়াজের বয়ানও পরিবর্তন করে ফেলেন। তারিক মনোয়ার এক মাহফিলে বললেন সে নাকি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। সে ইংলিশ প্রিমিয়াম লীগও খেলেছে। ভণ্ডামির একটা সীমা থাকা উচিত। আরেক মাওলানা ইব্রাহিম; তার নাকি করোনা ভাইরাসের সাথে দেখা হয়েছে কথা হয়েছে। সে ওষুধের ফর্মুলাও দিলো। আমার প্রশ্ন হলো এসব মিথ্যাচার করে কোন নৈতিকতা শেখাচ্ছে এরা ? এদের কাছ থেকে সাধারণ মানুষ কি শিখবে ? সৎ কাজ করলে আল্লাহতায়ালা কি পুরস্কৃত করবেন সেটার ব্যাখ্যা তারা কিন্তু তাদের ওয়াজে করে না। আরেকজন আছে আমির হামজা। একের পর এক উদ্ভট ব্যাখ্যা নিয়ে জাতির সামনে হাজির হয়। আপনারা আসলে কোন ইসলাম কায়েম করছেন ?

আপনারা যে ইসলামের কথা বলছেন সেটা মওদুদীপন্থী ইসলাম। আপনারা সৌদি আরব, মিশর, তুরস্ক, ইরান, ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে দেখেন, সব দেশে ভাস্কর্য আছে। ইরানে তো এমন কোন শহর নেই যেখানে ভাস্কর্য নেই। ‘৪৭ এর ইসলাম কায়েমের চেষ্টা এখানে চলবে না। পাকিস্তানেও অসংখ্য ভাস্কর্য আছে।

ইসলাম অন্তরের ধর্ম। হেফাজত ইসলাম এখানে রাজনীতি করছে ইসলাম রক্ষার নামে। ইসলামকে হেফাজতের জন্য কোন হেফাজত ইসলামের দরকার নেই। সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং ইসলামের হেফাজত কর্তা।

বঙ্গবন্ধু কখনো কোন হঠকারী সিদ্ধান্ত নেন নি। গোটা জাতিকে একত্রিত করে, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই ‘৭১ এর ৭ ই মার্চ তিনি স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। যে চারটি মূলনীতির উপর ভিত্তি করে তিনি বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছিলেন তার অন্যতম ছিল ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’। ধর্মনিরপেক্ষতা মানে কিন্তু ধর্মহীনতা নয়। যার যার ধর্ম সেই সেই পালন করবে। আমাদের নবী করীম (সা:) ও ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা তো এটা বলতে পারি না, আল্লাহপাক শুধু আমাদেরই সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কোরআণের আলোকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা এক এবং অদ্বিতীয়।

ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে এই গোষ্ঠী আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো। ইসলামে কোন ‌অনাচার অবিচারের জায়গা নেই। এরা রাজাকার আলবদর বাহিনী তৈরি করেছিলো ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে। নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছিলো। ফতোয়া দিয়েছিলো নারীরা গণিমতের মাল। এদেরকে ভোগ করা জায়েজ। এই গোষ্ঠী কখনোই স্বাধীনতা মেনে নিতে পারে নি। বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা মানতে তাদের আপত্তি কিন্তু কায়েদে আজম মোহম্মদ আলী জিন্নাহকে জাতির পিতা মানতে তাদের কোন অসুবিধা হয় নি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, আমার আলেম ভাইদেরকে বলছি, আপনাদেরকে ভুল বুঝিয়ে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখছে এই দূর্বৃত্তরা। আপনারা চোখকান খোলা রাখুন। আসল আর নকলের পার্থক্য বুঝতে পারবেন। শান্তির ধর্ম ইসলামের নামে কোন নৈরাজ্য, অশান্তি কায়েম করার চেষ্টা করবেন না।

মাদরাসার শিক্ষকরা এখন বলাৎকারের অভিযোগে অভিযুক্ত হচ্ছে। তাদের নৈতিকতা কোথায় ? পোষাকে নয় ইসলামকে ধারণ করতে হবে অন্তরে। পাকিস্তানপন্থী ইসলাম নয়; নবী করীম (সা:) এর ইসলাম কায়েম করতে হবে। ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠা  সম্ভব নয়। ধর্মের সঠিক চর্চা, সততা, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে। তবেই প্রকৃত ইসলাম কায়েম হবে।

এই সমস্ত অপ্রাসঙ্গিক, অযৌক্তিক, কল্পকাহিনী নির্ভর ওয়াজ মাহফিলে ইসলামের কোন লাভ হবে না। ইসলাম হলো একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। ইসলামের জীবনবিধানগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করলে ইহকালের পথ সুন্দর হয় এবং সেই পথ ধরে পরকালেও বেহেশতের রাস্তা সুগম হয়। আজ কুষ্টিয়ায় সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও নাশকতামূলক কার্যক্রম প্রতিহত করণের লক্ষ্যে মসজিদের ঈমাম ও ওলামাদের সাথে মতবিনিময় সভায়।

পাঠকের মন্তব্য