এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ

এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ

এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ

২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

শনিবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফলাফল ঘোষণার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে একটি শিক্ষাবর্ষ যেন নষ্ট না হয় সেজন্য এভাবেই মূল্যায়ন করা হয়েছে এবার। ফলাফল প্রস্তুত করা কঠিন কাজ ছিলো। ফলাফল নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করবেন না।

প্রধানমন্ত্রী আরো জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশে ঘরে বসেই পাঠদান সম্ভব হচ্ছে। অনলাইনে ক্লাস চলছে, দেশের যে কোন প্রান্ত থেকেই শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই ক্লাস করতে পারছে। অ্যাসাইনমেন্ট পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীদের মেধার মূল্যায়ন করা যাচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় মার্চ অথবা এপ্রিলে সীমিত আকারে খুলে দেয়া হতে পারে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকলকে টিকার আওতায় আনা হবে।

এর আগে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট থেকে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ৯টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ড ও কারিগরি ও মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে ফলাফল গ্রহণ করেন। এসময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার ফল মূল্যায়ন বিশ্বমানের করতে একটি ফল মূল্যায়ন কেন্দ্র খোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সনদ নির্ভর নয়, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলায় সরকারের মূল লক্ষ্য। অভিভাবকরা সন্তানদের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় ঠেলে দিবেন না।

তিনি আরো বলেন, ফলাফল নিয়ে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে সে আবেদন করতে পারবে। এবার পরীক্ষা না হওয়ায় ব্যয় কম হয়েছে, অতিরিক্ত টাকা শিক্ষার্থীদের ফেরত দেয়া হবে।

এবার সকল পরীক্ষার্থীই পাস করেছেন। সারা দেশে ৯টি সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জন। জিপিএ-৫ এর শতকরা হার ১১.৮৩ শতাংশ।

এবার ঢাকা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৯২৬ জন। এছাড়া রাজশাহী বোর্ডে ২৬ হাজার ৫৬৮ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১৪ হাজার ৮৭১ জন, যশোর বোর্ডে ১২ হাজার ৮৯২ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ১২ হাজার ১৪৩ জন, কুমিলা বোর্ডে ৯ হাজার ৩৬৪ জন, বরিশাল বোর্ডে ৫ হাজার ৫৬৮ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডে ১০ হাজার ৪০ জন, সিলেট বোর্ডে ৪ হাজার ২৪২ জন, মাদ্রাসা বোর্ডে ৪ হাজার ৪৮ জন ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৪ হাজার ১৪৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

ফলাফল সংগ্রহের জন্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জমায়েত সম্পূর্ণ নিষেধ উল্লেখ করে করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফল পেতে ক্লিক করতে হবে ডাব্লিউ ডাব্লিউ ডাব্লিউ ডট, এডুকেশন বোর্ড রেজাল্টস ডট, জিওভি ডট, বিডি (www.educationboardresults.gov.bd) তে। এসএমএসের মাধ্যমে ফল পেতে আগেই প্রি রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। HSC স্পেস বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর স্পেস রোল নাম্বার স্পেস টু- জিরো- টু- জিরো (2020) টাইপ করে পাঠাতে হবে ওয়ান সিক্স-টু -টু -টু (16222) নম্বরে।

গত ৭ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, অষ্টমের সমাপনী এবং এসএসসির ফলাফলের গড় করে ২০২০ সালের এইচএসসির ফল নির্ধারণ করা হবে। জেএসসি-জেডিসির ফলাফলকে ২৫ এবং এসএসসির ফলকে ৭৫ শতাংশ বিবেচনায় নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল ঘোষিত হবে।

২০২০ সালে ১১ শিক্ষা বোর্ডের ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ শিক্ষার্থীর এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিলো। পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল ১ এপ্রিল থেকে। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে শুরু করলে ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনীর মতো এইচএসসি পরীক্ষাও নেওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু আইনে পরীক্ষা নিয়ে ফল প্রকাশের বিধান থাকায় তা সংশোধন করে বিশেষ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা ছাড়াই ফল প্রকাশের বিধান যুক্ত করতে হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) ‘ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২১’ ‘বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) অ্যাক্ট-২০২১’, ‘বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) অ্যাক্ট-২০২১’ গেজেট প্রকাশ করে সরকার। এর মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ পরামর্শক কমিটির সুপারিশ মোতাবেক নয়টি সাধারণ বোর্ডের সঙ্গে মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডকে এ ক্ষমতা দেয় সরকার।

গেজেটে বলা হয়ে, চলমান বৈশ্বিক মহামারি করোনাজনিত কারণে ২০২০ সালে অনুষ্ঠিতব্য উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব না হওয়ায় এ সংক্রান্ত আইনগুলো সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত আইনের ক্ষমতাবলে এ সংক্রান্ত গঠিত পরামর্শক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বোর্ডগুলোকে এ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য