স্বাস্থ্যঝুঁকি কমলে স্কুল খুলব, এবার অটোপাস নয় : শিক্ষামন্ত্রী

স্বাস্থ্যঝুঁকি কমলে স্কুল খুলব, এবার অটোপাস নয় : শিক্ষামন্ত্রী

স্বাস্থ্যঝুঁকি কমলে স্কুল খুলব, এবার অটোপাস নয় : শিক্ষামন্ত্রী

বিশ্ব মহামারি করোনার কারণে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রায় একবছর ধরে বন্ধ রয়েছে। তবে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসেও শিক্ষা প্রতিস্থানগুলো খোলা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি।

গতকাল রাজধানীতে আয়োজিত ‘নিরাপদে স্কুলে ফিরি’ নামক এক প্রচারাভিযানের উদ্বোধন করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘পুরোপুরি পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে, আমরা কী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি বা শেষ দিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সুযোগ পাব নাকি মার্চ মাসে খোলার চেষ্টা করব। মোটকথা, আমরা স্বাস্থ্যঝুঁকি নেব না। যখন মনে করব, ঝুঁকিটা খুবই কম, তখনই আমরা স্কুল খুলব।’

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশসহ ১৫টি উন্নয়ন সংস্থা এই প্রচারাভিযানের আয়োজন করে। এ প্রচারাভিযানের লক্ষ্য হলো সরকারকে সহায়তা করা যাতে করে শিশু, পরিবার, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রস্তুত হতে পারে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘যদি মার্চে স্কুল খুলতে পারি, সেই হিসেবে আমরা নতুন করে এসএসসি ও এইচএসসির জন্য সিলেবাস তৈরি করেছি। এসএসসির জন্য ৬০ কর্মদিবসে ও এইচএসসির জন্য ৮৪ কর্মদিবসের সিলেবাস তৈরি করেছি। এখন যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে একটু দেরি হয়, তাহলে পরীক্ষা আরেকটু পরে নেব।’

তবে এবার এসএসসি বা এইচএসসিতে কোনো অটো পাস দেয়া হবে না বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

ডা. দীপু মনি বলেন, কোভিড পরিস্থিতি আমাদের সামনে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্মুল্যায়ন ও সংস্কারের একটি সুযোগও তৈরি করেছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগ, প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন ও দাতা সংস্থা সবাই একসাথে কাজ করেই শিশুদের নিরাপদে স্কুলে ফেরাতে চায় সরকার।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সোহেল আহমেদ, বাংলাদেশে ইউনিসেফের উপ-প্রতিনিধি ভিরা মেন্ডোনকা এবং বাংলাদেশস্থ কানাডার হাইকমিশনের হেড অব ডেভলপমেন্ট এ্যাসিট্যান্স ফেদ্রা মুন মরিস।

ইউনিসেফের উপ-প্রতিনিধি ভিরা মেন্ডোনকা মহামারির মধ্যে শিশুদের জন্য স্কুলকে সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হিসেবে নিশ্চিতে উন্নয়ন সংস্থা এবং সরকারের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করার পাশাপাশি সরকারকে এটাও ভাবতে হবে মহামারী পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদেরে ঝরে পড়া ও বাল্য বিবাহের হারও বেড়ে গেছে। ফলে এই পরিস্থিতির উন্নয়নে কিভাবে কাজ করা যায় তা বের করা জরুইর।

ওদিকে, বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে প্রথম ভাইস-চ্যান্সেলর’স অ্যাওয়ার্ড প্রদান ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছেন, 'শিক্ষকদের টিকা দেয়ার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। আগামী সপ্তাহ থেকে অনাবাসিক ও আবাসিক শিক্ষকদের করোনার টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে। সে জন্য নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিক্ষকদের টিকা দিয়ে স্কুল-কলেজ খোলা হবে। ধাপে ধাপে শিক্ষার্থীদেরও টিকার আওতায় আনা হবে।'

শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আমাদের শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি অর্জন করে চাকরির পেছনে ছুটতে শুরু করে। মনে হয় যে তারা চাকরি পাওয়ার জন্য পড়ালেখা করে, সেটি তাদের একমাত্র লক্ষ্য। এ ধারণা থেকে আমাদের শিক্ষার্থীদের বের করে আনতে চাই। এ জন্য অনেক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি নিয়ে যেন বের হওয়ার সঙ্গে তাদের দক্ষ, জ্ঞান ও মানবিকতা নিয়ে বের হতে পারে।'

অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, দেশের ২৮ লাখ শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে কিনা তা ভাবতে হবে। আমাদের অর্থনীতিতে অদক্ষ ডিগ্রিধারীদের চাহিদা আছে কিনা তা নিয়ে দেখতে হবে।

তিনি বলেন, সবার জন্য উচ্চশিক্ষার দ্বার খোলা রাখতে হবে। কায়িকশ্রম বিশিষ্ট শিক্ষা ও দক্ষ প্রদান করা আমাদের বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পাঠকের মন্তব্য