কলাবাগানে ছাত্রী ধর্ষণের পর হত্যার সূত্রে গ্রেপ্তার ৬

কলাবাগানে ছাত্রী ধর্ষণের পর হত্যার সূত্রে গ্রেপ্তার ৬

কলাবাগানে ছাত্রী ধর্ষণের পর হত্যার সূত্রে গ্রেপ্তার ৬

রাজধানীর কলাবাগানে বিকৃত যৌনচারে এক স্কুলছাত্রীর মরদেহে ‘ফরেন বডির’ আলামত পেলে আলোচনায় উঠে আসে কয়েকটি চক্রের অনলাইনে সেক্স টয় বাণিজ্যের তথ্য। পুলিশের অপরাধ গোয়েন্দা বিভাগ-সিআইডি অভিযান চালিয়ে এ চক্রের ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার মিরপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি’র সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সিআইডি’র সাইবার ক্রাইম কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি মো.কামরুল আহসান।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- রেজাউল আমিন হৃদয় (২৭), মীর হিসামউদ্দিন বায়েজিদ (৩৮), মো.সিয়াম আহমেদ ওরফে রবিন (২১), মো. ইউনুস আলী (৩০), আরজু ইসলাম জিম (২২) ও চক্রের মূলহোতা মো. মেহেদী হাসান ভূইয়া ওরফে সানি (২৮)।

তাদের কাছ থেকে সেক্স টয়, ৫টি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ ও নয়টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

কামরুল আহসান বলেন, ‘গত ৭ জানুয়ারি রাজধানীর মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের এক ছাত্রীর ধর্ষণের ফলে মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তে জানা যায়, বিকৃত যৌনাচারের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যায় সে। বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুসারে, তাকে নির্যাতনের সময় এক ধরনের ফরেন বডি ব্যবহার করা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সিআইডি’র সাইবার মনিটরিং এবং সাইবার ইনভেস্টিগেশন টিম ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানে জানতে পারে, কয়েকটি সংঘবদ্ধচক্র নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে যৌন উদ্দীপক বিভিন্ন পণ্যের ছবি এবং ভিডিওসহ বিক্রির বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। সাইবার মনিটরিং এবং সাইবার ইনভেস্টিগেশন টিম এ ধরনের কয়েকটি ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এসব পণ্য বিক্রির আর্থিক লেনদেন হয় বিকাশ ও রকেটে।’

অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘তারা বিদেশ থেকে বৈধ পণ্য আমদানির আড়ালে এসব নিষিদ্ধ পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে আসছে। পরবর্তীতে ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লোভনীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে উচ্চমূল্যে বিক্রি করছে।’
 
তিনি জানান, ‘ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে এসব পণ্য বিক্রির কার্যক্রম চলছে। যেমন লাইকি, টিকটক ব্যবহার করে একটি ক্লোজ গ্রুপ তৈরি করে হোটেল, রেস্টুরেন্ট এবং ডিজেপার্টির আড়ালে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলছিল।’

আমদানি নিষিদ্ধ এসব পণ্য দেশে আসার ক্ষেত্রে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দায়ভার এড়াতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে অনুসন্ধান মাত্র শুরু করেছি। বিষয়টি তদন্ত চলছে।’

ডিএনএ টেস্টের প্রতিবেদন ছাড়া ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং তার শরীরে ফরেন বডির উপস্থিতি ছিল কীভাবে তারা বুঝেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সিআইডি’র ডিএনএ টেস্ট এখনো চলছে এবং ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এখনো আসেনি। তবে ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিলেন, ওই ছাত্রীকে নির্যাতন করার সময় ফরেন বডির উপস্থিতি ছিল। আর তাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে সে মারা যায়।’

দারাজ এসব সেক্স টয় খোলামেলাভাবে বিক্রি করছে কিভাবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তদন্ত মাত্র শুরু করেছি। ওয়েবসাইটে যারা এসব বিক্রি করছে তাদের ফুটপ্রিন্ট আছে। এ বিষয়গুলো আমরা ধরে ধরে কাজ করব।’

পাঠকের মন্তব্য