প্রয়োজন ছিলো বঙ্গসোনাহাট ব্রীজটি বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়া

প্রয়োজন ছিলো বঙ্গসোনাহাট ব্রীজটি বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়া

প্রয়োজন ছিলো বঙ্গসোনাহাট ব্রীজটি বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়া

সুজন প্রামাণিক : পুর্ব দুধকুমরের বিস্তীর্ণ জনপদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজন বঙ্গসোনাহাট ব্রীজটি বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়া।

রাত্রির শেষ প্রহর। (কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার একটি ইউনিয়ন) জয়মনিরহাট। সামনে ঘনআমবাড়ি জায়গাটা পার হওয়ার সময় বুকের ভেতরটা ক্যামন দুলকি চালের মতন ধড়াম করে ওঠে সাবু মিয়ার। আকাশের চাঁদটা রাত্রি শেষের গান ধরেছে।

অনেকদিন বগলের চুলকাটা হয় না। দীর্ঘ সাইত্রিশ মাইল পথ হেঁটে-দৌড়িয়ে-ক্রলিং করে একনাগারে ছুটে চলার দরুণ ঘাম আর ধূলোয় মাখামাখি হয়ে বগল থেকে বোঁটকা গন্ধ বেরুচ্ছিল। ক্যামন মাদকতাময় গন্ধ। নিজের ঘামের এই গন্ধটার জন্য সাবু নিজেকে ভাগ্যবান মনে করে। কেননা ওঁর বাবার গায়ের গন্ধটা ১১ সন্তানের মধ্যে সেই শুধু পেয়েছিল। বাবার কথা মনে পরে সাবুর। বাবা কোথায় সে জানে না। 

মা কোথায়, ভাই-বোন, আত্মীয়-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব, কিংবা ফেলে আসা শেলীর মুখ... সবাই গাছের পাতার ছায়ার মত একে একে রেখাপাত করতে থাকে সাবুর মানসপটে। আর মনে পড়ে লজিং বাড়িতে ফেলে আসা তার মেট্রিকুলেশন পরীক্ষার জন্য বহু কষ্টে কেনা বইগুলোর কথা। বইয়ের জন্য খুব কষ্ট অনুভব হতে থাকে সাবুর। বইয়ের প্রত্যেকটা পড়া, প্রত্যেক বর্ণমালা, পাটিগণিত, জ্যামিতি কিংবা ইতিহাস সবটার জন্য তার মন আরও দৃঢ় ও বিদ্রোহী হতে থাকে। একেক সময় ফিরতে উদ্বেল হয় সে 'পাটেশ্বরী উচ্চ বিদ্যালয়ে' ! 

ধেউ....!

সাবুর আচমকা সম্বিত ফেরে তার পায়ের গোড়ালিতে যখন একটা পঁচা কাঁকড়ার খোলস খ্যাঁশ করে ওঠে। আরও সাবধানি হয় সে। বুকের কাছে স্যান্ডো গেঞ্জির ভেতরে কৌশলে মুড়িয়ে রাখা একটা গোপন চিঠি নিয়ে ছুটে চলেছে সে সোনাহাট ক্যাম্পের অভিমুখে। এই চিঠি আজ রাত্রেই পৌছাতে হবে ইউ কে সিংয়ের কাছে। 

(ধারাবাহিক চলবে)।
২৪.০২.২০২১
সুবল পাড়। 

পাঠকের মন্তব্য