নাগরিক টিভিতে প্রচারিত সংবাদের বিরুদ্ধে বেরোবি'র প্রতিবাদ

নাগরিক টিভিতে প্রচারিত সংবাদের বিরুদ্ধে বেরোবি'র প্রতিবাদ

নাগরিক টিভিতে প্রচারিত সংবাদের বিরুদ্ধে বেরোবি'র প্রতিবাদ

নাগরিক টিভি'-তে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ।এক প্রতিবাদ লিপিতে জানানো হয়,গত ২৬, ২৭ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে আপনার বহুল প্রচারিত স্বনামধন্য টেলিভিশন চ্যানেল ' রংপুর প্রসঙ্গে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রতিবেদন প্রচারিত হয়, যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে প্রচারিত 'ছেলে আর মা মিলে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড' শিরোনামে প্রতিবেদনে প্রতিবেদক বিভিন্ন বিষয়ে যথাযথভাবে সত্য তথ্য অনুসন্ধান না করেই ভুল, মিথ্যা ও বানোয়াট এবং অসত্য তথ্য সম্বলিত সংবাদ প্রচার করেছেন। যা উত্তর জনপদের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে।   

প্রতিবেদনে সমাজবিজ্ঞান ও জেন্ডার এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডে চারজন সদস্যের কথা বলে সেখানে প্রফেসর ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে উপাচার্য হিসেবে বোর্ডের সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন ও বিভাগগুলোর প্রধান হিসেবে সদস্য দেখানো হয়েছে। যেখানে আরো বলা হয়েছে তাঁর মা সেই বোর্ডের সদস্য এবং চার জনেই নিয়োগ বোর্ড সম্পন্ন করে শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। প্রতিবেদনের এসব তথ্য সম্পুর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। উক্ত দুই বিভাগে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি এবং বিভাগগুলোর প্রভাষক/সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের বোর্ডগুলোতে উপাচার্যের মা সদস্যই নন। প্রকৃত তথ্য হলো উপাচার্য উক্ত বোর্ডসমুহের সভাপতি হিসেবে আছেন এবং ডিন ও বিভাগীয় প্রধান ছাড়া উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার এবং দুই জন বিশেষজ্ঞ সদস্য আছেন। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে আছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান এবং জাহাঙ্গীর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. আকবর হোসেন। এছাড়াও জেন্ডার এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে আছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেসনালস্ এর উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আবুল কাশেম মজুমদার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. শুচিতা শরমিন।  

মুলত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও-এর মাতা বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক এমডিএস, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম-সচিব এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক জনাব নীলুফার বেগমকে গত ১৮ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে সমাজবিজ্ঞান এবং জেন্ডার এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের 'অধ্যাপক/সহযোগী অধ্যাপক' নিয়োগ বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে দুই বছরের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ^বিদ্যালয়ের আচার্য। উল্লিখিত দুই বিভাগে 'অধ্যাপক/সহযোগী অধ্যাপক' পদে কোন নিয়োগ প্রদান করা হয়নি। অথচ প্রতিবেদনে ভুল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বলা হয়েছে 'ছেলে ও মায়ের ইচ্ছে অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ হয়'। 

উক্ত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে- ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর নিয়োগে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেন করা হয়েছে, যা পুরোপুরি বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত শর্ত পূরণ করে যথাযথভাবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্বকারী একজন দক্ষ ফেন্সারকে ফিজ্যিকাল ইন্সট্রাক্টর হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। এছাড়াও উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) হিসেবে আবুল কালাম আজাদ এর শাস্তি থাকা অবস্থায় তাকে পদোন্নতি প্রদানের কথা বলা হয়েছে যা সম্পুর্ণ মিথ্যা। সেমিনার সহকারী পদে থেকেই তিনি উপাচার্যের পিএ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভায় তাঁকে শাস্তি থেকে দায়মুক্তির সুপারিশ করা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পেয়েছেন। 

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রচারিত দ্বিতীয় প্রতিবেদনে প্রতিবেদক আপ্যায়নের বিলে অনিয়মের কথা উল্লেখ করেছেন, যা সম্পুর্ণ মনগড়া। সেখানে বলা হয়েছে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ২০ লাখ টাকা এবং ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ২২ লাখ টাকা আপ্যায়ন বাবদ তুলে নিয়েছেন উপাচার্য। এই তথ্য শুধু অবাস্তবই নয় হাস্যকর, কারণ ১৪ জুন ২০১৭ তারিখে বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রায় চার বছরে উপাচার্য দপ্তরে আপ্যায়ন বাবদ ব্যয় হয়েছে ২,৬৮,৪৬০/- (দুই লাখ আটষট্টি হাজার চারশত ষাট টাকা) এবং উপাচার্যের রেসিডেন্স কাম অফিসে আপ্যায়ন বাবদ ব্যয় হয়েছে ৫,৩৩,৩৫০/- (পাঁচ লক্ষ তেত্রিশ হাজার তিনশত পঞ্চাশ টাকা)। প্রফেসর ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ দায়িত্ব নেয়ার পর দেশি-বিদেশী বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথির আগমনে এই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে যা কোনভাবেই মাত্রাতিরিক্ত নয়। প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এবং অর্থ মন্ত্রণালয় যথাযথভাবে এসব খরচের অডিট করে থাকেন। সুতরাং এখানে অনিয়ম করে অর্থ উত্তোলন কিংবা ভুয়া ভাউচার সংযুক্ত করা হলে ওই সংস্থাগুলোর অডিট আপত্তি দেয়ার কথা। কিন্তু বর্তমান উপাচার্য যোগদানের পর কোন অর্থ ব্যায়ের বিষয়ে অডিট আপত্তি দেয়া হয় নি। প্রতিবেদনে বিতর্কিত একজন শিক্ষকের ভাষ্য নেয়া হয়েছে যেখানে তিনি একই গাড়ির বিভিন্নভাবে জ্বালানি বিল উত্তোলন ও ৩৯০ টাকা দরে চাল কেনার কথা বলা হয়েছে যা সম্পুর্ন মিথ্যা। উপাচার্যের বাসভবনে বিভিন্ন সময় ভিআইপি অতিথি আসেন এবং তাদের আপ্যায়নের জন্য ভালো মানের বাসমতি চাল কেনা হয় ২৮০-২৯০ টাকা দরে যা বাজার দরের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। অথচ প্রতিবেদনে তথ্য বিকৃত করে ৩৯০ টাকা কেজি দরে চাল কেনার কথা বলা হয়েছে।
 
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রচারিত তৃতীয় প্রতিবেদনে সেশনজটের জন্য বর্তমান প্রশাসনকে দায়ী করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব গ্রহণের পর একদিনের জন্যও বিশ^বিদ্যালয়ের ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ হয়নি। পূর্বের উপাচার্যের সময় থেকে চলে আসা সেশনজট নিরসনে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। তিনি যোগদানের পর বেশ কয়েকটি বিভাগকে সেশনজটমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ২০২০ সালের মার্চে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সেশনজট নিরসন প্রক্রিয়া থেমে যায়। ২০২১ সালের শুরুতে সব বিভাগের সেশনজট নিরসনে উদ্যোগ গ্রহণ করে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন। একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তক্রমে আগামী ৩০ এপ্রিল ২০২১ তারিখের মধ্যে সব বিভাগের সেশনজট নিরসনে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। যা গত ২২ ফেব্রুয়ারি সরকারের নির্দেশক্রমে বন্ধ করা হয়্।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এর উপাচার্য মহোদয়ের অনিয়ম, দূর্নীতি ও ক্যাম্পাসে অনুপস্থিতি সম্পর্কিত যে তথ্য দেয়া হয়েছে, তা বিকৃত। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্বার্থান্বেষী মহল, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুন্ন করে নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য উপাচার্য মহোদয়কে নিয়ে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর কর্তৃপক্ষ এই মিথ্যা প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং ভুল তথ্য প্রত্যাহার করে প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ সঠিক তথ্য পরিবেশনের দাবি জানাচ্ছে। একই সাথে প্রচারিত  প্রতিবেদনসমূহ নাগরিক টিভির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজসহ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে দ্রুত প্রত্যাহার করার আহবান জানাচ্ছে।   

পাঠকের মন্তব্য