রাজকীয় প্রাসাদ “ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র”

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

ইউনিয়ন পর্যায়ে অপার সৌন্দর্যের একটা রাজকীয় রাজ প্রাসাদের নাম হল “ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র”। যেই প্রাসাদের কার্যক্রম হল প্রান্তিক পর্যায়ের গরিব অসহায় গর্ভবতী মহিলাদের ANC/PNC ও স্বার্বক্ষণিক প্রসব সেবা প্রদান করা...। 

এক কথায় বলতে গেলে বর্তমান সরকারের একটি যোগান্তকারী উদ্যোগ। যা স্বাস্থ্য সেবাকে একেবারে জন মানুষের দ্বোর-গোড়ায় পৌছে দিয়েছে।সফলতা কতটুকু কুড়িয়েছে তা হয়ত আমি বলতে পারবো না। আমি শুধু হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মত বাশি বাজিয়ে সবাইকে বলতে পারব;এর বেশি নয়…। 

চল দেখি, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র-এ কি কি সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়…। 

১. শুক্রবার ও সরকারী ছুটি ব্যতীত প্রতিদিন ০৮:৩০ হতে ০২:৩০ পর্যন্ত
সেবা কেন্দ্র চালু থাকবে।
২. বেশির ভাগ কেন্দ্র 24/7 সেবা প্রদান করে থাকে।
৩. গর্ভবতী মহিলাদের ANC/PNC, প্রসব সেবা প্রদানসহ শিশু, কিশোর-কিশোরীদের বয়োসন্ধিকালীন সেবা এবং পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সেবা প্রদান করা হয়।
৪. পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ও উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার পদধারী সেবা কর্মীগণ উক্ত কেন্দ্রে সেবা প্রদান করে থাকেন। দ্বিতল এই ভবনে তাদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ও উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারগণের উক্ত কেন্দ্রে স্বার্বক্ষণিক অবস্থান করার বিধান রয়েছে।আবাসনে থাকা বাবদ সরকার তাদের কাছ থেকে নাম মাত্র বাড়ি ভাড়া যার পরিমাণ ৫০০/- মাত্র কর্তন করে থাকেন।
৫. সেবা প্রদান সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
৬. ঔষধ, পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পূর্ণও বিনা মূল্যে প্রদান করা হয়।
৭. প্রত্যেকটা কেন্দ্রেই উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার এর পদ রয়েছে। যেখানে উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার পদের সেবা প্রদানকারী কর্মরত থাকেন সেখানে সাধারন রোগীরাও সেবা পেয়ে থাকে...। 

কিন্তু দুঃখজনক ও আফসোসের বিষয় হল সরকারের নির্মিত এই প্রাসাদতুল্য সেবা কেন্দ্রের দু-একটা বাদে বেশির ভাগই আশানুরূপ ভাবে সেবা প্রদান করতে পারছে না। তাই সার্বিক ফলাফলও শূন্য, নিরাশার ধূয়াশায় টইটুম্বুর...। 

কারণ বিশ্লেষণ, কেন এমন হচ্ছে ?

গত বছর হবিগঞ্জ জেলার বেশ কিছু কেন্দ্র ঘুরে ফিরে দেখেছি যে, বেশির ভাগ কেন্দ্রেই সেবা প্রদানকারী পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ও উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারগণ তাদের জন্য বরাদ্দকৃত আবাসনে অবস্থান করেন না। প্রায় জনই কেন্দ্র থেকে দূরের শহরে অবস্থান করেন।শহর থেকে কেন্দ্রে পৌছাতে পৌছাতে দিনের অর্ধেক সময়ই কেঁটে যায়; রাস্তায়।পত্র-পত্রিকায় ও টিভিতে সংবাদ/প্রতিবেদন প্রচার হলেও কর্তৃপক্ষ নিরব ভূমিকা পালন করে বছরের পর বছর কাঁটিয়ে দেন। কেন এমন করেন তা আমার অজানা....। 

আমি গত বছরে দেশে যাওয়ার পর হবিগঞ্জ জেলার কয়েকটা কেন্দ্র ঘুরে দেখেছি যার মধ্যে পৈল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি আমার কাছে বেশ চমৎকার লেগেছে। আমি দেখেছি সেবা কেন্দ্রে সেবার মান অত্যন্ত চমৎকার ও ফলপ্রসু ছিল। আমি আশাহত হয়েছি বানিয়াচং উপজেলার পুকড়া, খাগাউড়া ও বড়ইউড়ি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সেবা কার্যক্রম ও তার মান দেখে।সেখানে সেবা প্রদান কার্য এমনভাবে পরিচালিত হচ্ছিল বা হয় তা এক কথায় প্রকাশ করলে এমনটা দাড়াবে যে, “বেঁচে আছি কোন রকম; অক্সিজেন বিহীন”। দেখে আমার কাছে যা মনে হয়েছে তা হল, সেবা কেন্দ্র গুলো নিজেই রোগী।সে সাধারন রোগীর সেবা কেমন করে প্রদান করবে;আমার তা অজানা!তবে কর্তৃপক্ষ নিশ্চই বলতে পারবেন...। 

আমি এটুকুই বলব, আমাদের মধ্যে যদি সামান্যতম বিবেকবোধ বেঁচে থাকে তাহলে অবশ্যই কেন্দ্র গুলো সচল করাসহ সেবা প্রদানকারীকে সংশ্লিষ্ট সেবা কেন্দ্রের বাসস্থানে অবস্থান করানোর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। আর যদি দাপ্তরিক কর্তৃপক্ষ সেটা করতে না পারেন তাহলে দায়িত্বের ঐ চেয়ার’টা যোগ্য নেতৃত্বের হাতে তুলে দিন...। 

আমি জানি আমার এই লেখাটি দেশের সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক কর্তপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করে সরে যাবেন তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয়ের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমি দৃঢ় প্রত্যাশা রাখি যে, দেশের সকল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র গুলো হবিগঞ্জ জেলার পৈল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের মত করে সেবা প্রদান করবে...। 

ফেসবুক স্ট্যাটাস লিঙ্ক : Rehena Akther Renu
লেখক : কবি ও ছড়াকার এবং লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশী 

পাঠকের মন্তব্য