বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়া; ৫ বছরেও রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে না জমি

বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়া; ৫ বছরেও রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে না জমি

বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়া; ৫ বছরেও রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে না জমি

ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন ভুমির মালিকরা

জমির মালিক হয়েও তা বিক্রি করে রেজিস্ট্রেশন ও হস্তান্তর করতে পারছেন না বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার অধিবাসীরা। গত ৫ বছর ধরে এমর ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন ভুমির মালিকরা। তা ছাড়াও মৌজা মূল্য নির্ধারনের জটিলতা থাকায় খতিয়ান হাতে পেলেও মাঠ রেকর্ডের ঝামেলায় রয়েছে অনেকেই। দৈনন্দিনের সমস্যা গুলো মিটিয়ে দিচ্ছেন ধার দেনা করে। এতে করে দেনার টাকার বড় অংকের হচ্ছে অনেকের। অর্থনৈতিক সমস্যা হলেও বিক্রি করতে পাচ্ছেন না নিজস্ব জমি। এমতাঅস্থায় চরম বিপাকে রয়েছেন তারা।

জানাগেছে, ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্য রাতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মুজিব-ইন্দিরা স্থল সীমান্ত চুক্তি'র বাস্তবায়ন হয়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরের থাকা ১১১টি ছিটমহল আয়তন ১৭ হাজার ১৬০ দশমিক ৬৩ একর রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১ টি ছিটমহল ৭ হাজার ১১০ দশমিক ২একর  ভু-খন্ড তাদের সাথে যুক্ত হয়। তার মধ্যে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ার ছড়ার আয়তন সব চেয়ে বড়। এটি ৬৬৫ হেক্টর জমি রয়েছে। এর মধ্যে আবাদি জমি রয়েছে ৫৬৬ হেক্টর।এ সকল জমির উপর নির্ভরশীল অধীবাসীরা। এখানে যা ফলন হয় তা নিয়ে কৃষকরা দৈনন্দিনের সমস্যা সমাধান করে থাকেন। এতে করে অর্থনৈতিক চাহিদা মেটাতে পারেন না অনেকেই। বিক্রি করতে হয় জমি। কিন্তু অনেকের জমির মালিকানা থাকলেও রেকর্ড জটিলতা ও কাগজপত্র না পাওয়ায় তাদের জমির সংক্রান্ত মূল সমস্যা গুলো এখনো কাটছে না সহজেই। 

তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি জরুরী টাকার চাহিদা দেখা দিলে জমির উপর নির্ভর করতে হয় তাদের। ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা,চাকুরী বিয়ে-শাদী, পরিবারের কোন সদস্যের আকষ্মিক অসুস্থতায় জমি বিক্রি করা ছাড়া অর্থ সংস্থানের অন্য কোন উপায় নেই। মৌখিক ভাবে পারিবারিক জমি গুলো ভাগ-বন্টণ করে চাষাবাদ করছেন অনেকেই। তাদের মাঝে সমস্যা সৃষ্টি হলে পাছে না জমি বিক্রি করতে। দীর্ঘ দিন ধরে এ অবস্থায় থাকায় বিপাকে রয়েছেন বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়া অধিবাসীরা। 

দাসিয়ারছড়া খড়িয়াটারী গ্রামের জায়দুল হক ও সমন্বয়টারীর  মৃত আব্দুর রহমানের স্ত্রী মর্জিনা বেগম জানান টাকার চাহিদায় জমি বিক্রি করতে পাচ্ছে না। ফলে মানুষকে স্বাক্ষী করে ধার দেনা করে অনেক টাকা নিয়েছি।এখন সে টাকা ফেরত দিতে পাচ্ছেন না। চরম বিপাকে রয়েছি আমরা।ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির দাসিয়ারছড়া ইউনিটের সাবেক সভাপতি আলতাফ হোসেন বলেন,গত ৫ বছরে বর্তমান সরকার যেভাবে দাসিয়ারছড়ায় উন্নয়ন করেছে তাতেই আমরা সরকারের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। কিন্তু দাসিয়ারছড়াবাসী জমি কেনা-বেচা করা থেকে এখনো বঞ্চিত। খতিয়ান পেয়েছি ঠিকেই কিন্তু জমি কেনা-বেচা করতে না পারায় ছেলে-মেয়েদের বিয়ে, পড়াশুনার খরচ, বৃদ্ধ বাবা-মার চিকিৎসাসহ নানান সমস্যায় আছি। 

ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকতার্ (তহশিলদার) মোঃ রোকনুজ্জামান তালুকদার জানান দাসিয়ারছড়ায় অনেকেই জমির খাজনা দিচ্ছেন কিন্তু জমি রেজিস্ট্রির না হওয়ার কারনে অনেকের খাজনা আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। ফুলবাড়ী উপজেলা সেটেলমেন্ট কর্মকতার্ (চলতি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান মাঠ রেকর্ডের পর দাসিয়ারছড়া প্রায় তিন হাজার ৩শ খতিয়ান সরবরাহ করা হয়েছে। আর যাদের খতিয়ানের  সমস্যা হয়েছে ,তারা এক বছরে মধ্যে ট্রাইবুনালে মামলা করতে পাবে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান জানান, দাসিয়ারছড়ার প্রায় মৌজার আরএস খতিয়ান পাওয়া গেছে। এসব মৌজার মূল্য নির্ধারনের জটিলতা থাকায় দাসিয়ারছড়ায় জমি রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে না। তবে বিষয়টি উর্দ্ধতন কতৃর্পক্ষকে অবগত করা হয়েছে। আশা করী শীঘ্রই দাসিয়ারছড়া অধিবাসীদের জমি ক্রয় বিক্রয়ের সমস্যা সমাধান হবে। 

পাঠকের মন্তব্য