“জয় পশ্চিম; বাংলা জয় মমতা”

জয় পশ্চিম; বাংলা জয় মমতা

জয় পশ্চিম; বাংলা জয় মমতা

আমিনুর রহমান : বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম সীমান্ত লাগোয়া ভারতের পশ্চিম বাংলার রাজ্য সরকার নির্বাচনে তৃর্ণমুল নেত্রী মমতা ব্যানার্জী দ্বিতীয় বারের মতো নিরঙ্কুশ জয়লাভ পেয়ে ফের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। এ জয় শুধু মমতার নয়, এ জয় তৃর্ণমুলের নয়; এ জয় সাম্প্রদায়িকের বিরুদ্ধে অসাম্প্রদায়িকের জয়, এ জয় মানবতার জয়, এ জয়কে গণ মানুষের জয় হিসেবে অবহিত করলে খুব বেশী ভুল হবে না।

আমি এ বিজয়ের আনন্দে আত্মহারা। এখন আর নাগরিক সনদের ধুয়া তুলে পশ্চিম বাংলার হিন্দু-মুসলিমকে নিজ দেশে পরবাসী হয়ে রহিঙ্গার মতো প্রতিবেশী বাংলাদেশে পাড়ি জমানোর আশঙ্কা থাকলো না। 

প্রশ্ন আসতে পারে বাংলাদেশের তিস্তা ইস্যু নিয়ে মমতার অবস্থানের কথা। আমি মনে করি তিস্তা ইস্যু নিয়ে অযাথাই মমতার উপর দোষারোপ করা হচ্ছে। এখানে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের একটি চালাকি রয়েছে। মুলত ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার চাইছে না বাংলাদেশ তিস্তা নদীর পানির নায্য হিস্যা পাক। তারা কৌশলে মমতার উপর দোষ চাপিয়ে নিজেদের দায় এড়িয়ে যাচ্ছে।

ভারতের ফরেন পলিসি কন্ট্রোলের রিমোর্ট কনট্রোল থাকে কেন্দ্রীয় সরকারে হাতে। যদি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আন্তরিকভাবে তিস্তা ইস্যু নিয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করতে চায় তাহলে মমতার কিছুই করার থাকবে না। 

প্রসঙ্গক্রমে বলা প্রয়োজন- ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার যদি রাজ্য সরকারের সম্মতির উপর ভর দিয়ে  চীন, মিয়ানমার, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ সহ অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদনের নীতি অনুসরণ করতে যায় তাহলে ভারতের সাথে কোন প্রতিবেশী দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সৌহার্দ্য এবং শান্তিপুর্ণ থাকতো না।

প্রশ্ন আরো আসতে পারে যে, মমতা কেন তিস্তা চুক্তি ইস্যুতে বাঁধা দিচ্ছে? এর সরল উত্তর হলো- মমতা তার অবস্থান থেকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য বিরোধীতা করার ঘটনা অতি স্বাভাবিক। মৌলিক প্রশ্ন হলো-ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কেন মমতার বিরোধীতাকে ইস্যু বানিয়ে তিস্তা নিয়ে বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করছে না? আরো প্রশ্ন হচ্ছে- ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কি চীন, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সহ অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সীমানার সাথে লাগোয়া রাজ্য সরকারের সম্মতি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করার কোন নজীর আছে? উত্তর সহজ বাংলাদেশের তিস্তা ইস্যু ব্যতিত আর কোন প্রতিবেশী দেশের সাথে এমন নির্লজ্য নজীর নাই। অতএব তিস্তা চুক্তি ইস্যু নিয়ে শুধুমাত্র মমতার কাঁধে দোষ চাপানো এক্কেবারেই অযৌক্তিক এবং বোকামী ছাড়া আর কিছু নয়। তিস্তা চুক্তি ইস্যু নিয়ে দোষারোপ করতে হলে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকেই করতে হবে।

যদিও একদা পুর্ব বাংলা অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের পশ্চিম বাংলা উন্নয়নের দিক থেকে এগিয়ে ছিল, কালের পরিক্রমায় এখন আর সেদিন নেই। এখন সার্বিক দিক থেকে ভারতের পশ্চিম বাংলার চেয়ে আমাদের বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। 

আর একারনেই বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া ভারতের প্রতিটি রাজ্য বাংলাদেশকে রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত করে থাকে। যার সুর শোনা যায় ভারতের পশ্চিম বাংলা রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃর্ণমুল নেত্রী মমতা ব্যানার্জীর মুখে। এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি বলেছেন- "আমিও শেখ মুজিবুর রহমানের মতো জয় বাংলা শ্লোগান দিবো"। বিরোধী পক্ষ তার পা ভেঙ্গে দিতে পেরেছিল, কিন্তু তার ইস্পাত কঠিন মনোবল ভাঙ্গতে পারেনি বলেই জয় তার হাতের মুঠোয় ধরা দিয়েছে।

সত্যি বলতে কি ভারতের পশ্চিম বাংলা রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃর্ণমুল নেত্রী মমতা ব্যানার্জীর সাদা মাটা জীবনাচারণ, তার নির্মোহ মনোভাব, রাজনীতির জন্য ত্যাগ, তার হাত ধরে পশ্চিম বাংলা রাজ্য উন্নয়নের পথে হাঁটা, সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি তার সহমর্মিতা, এবং আরো নানাবিধ কারণে তাকে বড্ড বেশী ভালবাসী। তাকে বলা যেতে পারে তিনি দক্ষিণ-পুর্ব এশিয়ার একজন রোল মডেল রাজনৈতিক নেতা। সবার উচিত তাকে অনুসরণ করা।
জয় পশ্চিম বাংলা, জয় মমতা।

লেখক পরিচিতিঃ সাধারণ সম্পাদক, জেলা প্রেসক্লাব, কুড়িগ্রাম।

পাঠকের মন্তব্য