ভিক্ষাবৃত্তির টাকা নিয়ে নেতা চম্পট; বিধবার ঠাঁই গোয়াল ঘরে

ভিক্ষাবৃত্তির টাকা নিয়ে নেতা চম্পট; বিধবার ঠাঁই গোয়াল ঘরে

ভিক্ষাবৃত্তির টাকা নিয়ে নেতা চম্পট; বিধবার ঠাঁই গোয়াল ঘরে

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সত্তর্ধ এক বিধবা দরিদ্রের কষাঘাতে বাধ্য হয়ে গবাদী পশুর সাথে দীর্যদিন ধরে বসবাস করছেন। জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পের একটি ঘর পাবার আশায় স্হানীয় এক নেতাকে দু'বছর আগে ভিক্ষাবৃত্তির ১৫ হাজার টাকা উৎকোচ দিলেও বিধবা নুরজাহানের ভাগ্যে মেলেনি সরকারি ঘর। বিধায় অভাবের তারনায় বাধ্য হয়েই পশুর সাথেই বসবাস করতে হচ্ছে নুরজাহানকে।

ঘর দেয়ার কথা বলে টাকা আত্মসাতকারী নেতার পরিচয় দিয়ে অভিযোগ করলেও ভয়ে প্রতারক নেতার পরিচয় পত্রিকায় প্রকাশে অনিচ্ছুক বিধবা।

এ বিষয়ে প্রতারিত বিধবা নুরজাহান বেগম ঘর না পেয়ে টাকা ফেরত চেয়ে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে অভিযোগ করেও এখনো টাকা ফেরত পায়নি বলে জানা গেছে। যার ভিডিও ক্লিপ এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। হৃদয় বিদায়ক অমানবিক এ ঘটনাটি ঘটেছে ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউপির পশ্চিমদেবত্তর (চকিদারপাড়া) গ্রামে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নুরজাহানের স্বামী মোস্তাফিজার ২০ বছর আগে অসুস্হজনিত রোগে  মারা গেছেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর একটা সময় অন্যের বাড়িতে কাজ করলেও এখন আর বয়সের ভাড়ে কাজ করতে পারেন না। পাড়া প্রতিবেশীর সাহায্য সহযোগীতার উপর নির্ভরশীল তার জীবন। তিন সন্তানের জননী তিনি। দুই মেয়ে এক ছেলে। মেয়ে দুটির বিয়ে হয়েছে অনেক আগেই। তারা স্বামীর বাড়িতে অবস্হান করছেন। একমাত্র ছেলে নজরুল ইসলাম দিনমজুর।  দিন আনে দিন খায়। কাজ চললে পেটে ভাত, কাজ না চললে উপবাস। বিধবার বাড়িতে জরাজীর্ণ দুটি ঘর। একটি ঘরে বসবাস করে ছেলে ও ছেলের বউ নাতি নাতনি। অন্য গোয়াল ঘরটির এক কোনে বিধবার বিছানা অন্যদিকে খর বিছানো গরুর থাকার জায়গা। গোয়াল ঘরে একটি গরুর বাছুর নিয়ে এভাবেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন বিধবা। অনাহারে-অর্ধাহারে বৃষ্টির পানিতে ভিজে রোদে পুড়ে ভাঙা ঘরের এক কোণে চলে বসবাস। সামান্য ঝড়ো হাওয়ায় ঘটতে পারে প্রাণহানির মত দূর্ঘটনা। 

বিধবা নুরজাহান কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন, যাই মোর মতো গরীব মাইনসের টাকা খাইছে! আল্লাহ তার একদিন বিচার করবে। মোর বাপে মোক ৮ শতক জমি দিছে। সেই জায়গাত একটা ছাপড়া ঘর করে এক পাকে গরুর বাছুর আর এক পাকে মুই থাকোং। চেয়ারম্যান মেম্বারও কোন কার্ড টাড দেয়না।

মরার আগে মাথা গুজার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি ঘর চেয়ে  আকুল আবেদন করেছেন বিধবা নূরজাহান।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য হারুনুর রশিদ বলেন, নুরজাহানের নামে বিধবা ভাতার কার্ড করে দেয়া হয়েছে। আগামীতে বিধবার আরও সরকারি সাহায্য সহযোগীতার ব্যবস্হা করা হবে। 

পাঠকের মন্তব্য