মেয়ের আকুতি- আমার মায়ের লাশ যেন ডোম না ছোঁয়

মেয়ের আকুতি- আমার মায়ের লাশ যেন ডোম না ছোঁয়

মেয়ের আকুতি- আমার মায়ের লাশ যেন ডোম না ছোঁয়

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে দাফনের ৫ দিন পর বোনের স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে থানায় অভিযোগ দায়ের করে মৃতের ভাই। তার প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে কুমারখালী থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। মঙ্গলবার এই মামলা রুজু হয় মামলা নং- ৬। মৃতের মা, বোন ও মেয়ের আরজি এটা স্বাভাবিক মৃত্যু এবং মৃতের বাবার বাড়িতে থাকাকালীন মৃত্যু হয়েছে।

শৈলকূপা থানার কাঁচের কোল মির্জাপুরের সাবু মিয়ার মেয়ে সেলিনা আক্তার শিলার সাথে কুমারখালী বাঁশগ্রাম পূর্বপাড়ার উজ্জলের ২০০৫ সালে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। তাদের ১৩ বছরের মেয়ে ও ৮ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। গত এপ্রিল মাসের ২০ তারিখে বাবার বাড়ি থাকাকালীন শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা নিয়ে শিলা অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে বৃত্তিপাড়া বাজারে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার পর রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে তিনি দ্রুত কুষ্টিয়া সদরে নিয়ে যেতে বলেন। কুষ্টিয়াতে নেবার পথে শিলা মারা যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিলার ভাই আবু আব্বাস জিটু মিয়া  দাফনের ৫ দিন পর তার বোনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে তার বোনের স্বামী উজ্জ্বল মর্মে কুমারখালী থানায়  অভিযোগ দায়ের করেন। থানা থেকে আদালতে দরখাস্ত দিলে আদালতের নির্দেশে নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে।

এ বিষয়ে মৃতের মা আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, তার মেয়ে শিলা তাদের বাড়িতে থাকাকালীন ২০ এপ্রিল বেশী অসুস্থ হয়ে পরলে সকাল ১০ টার দিকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। তার জামাই শ্বাসরোধ করে মেয়েকে মেরে ফেলেছে কিনা জিজ্ঞেস করলে জানান এটা মিথ্যা তার জামাই ছিলো না। অসুস্থ হবার ১ ঘন্টা পর আসছে।

মৃতের বোন আফরোজা আক্তার বিউটি বলেন, গলাটিপে মারতে গেলে দুজনের তো এক জায়গা থাকতে হবে। দুজন তো একসাথেই ছিলোনা। তার বোন কুষ্টিয়াতে যাবার পথে মারা যায় সেসময় তিনি গাড়িতে ছিলেন।

মৃতের মেয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী আয়েশা আক্তার আশা বলেন, তার মা পূণ্যবতী মহিলা ছিলেন। তার মা নানার বাড়িতে অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে কুষ্টিয়া নেবার পথে মারা গেছে। তার বাবা হত্যা করে নাই। আর যে মামা অভিযোগ দিয়েছে সে কখনো তাদের বাড়িতে আসে নাই বা খোঁজ নেয়নি। সে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলে "আমার মায়ের লাশ যেন কবর থেকে তোলা না হয়। আমার মায়ের লাশ যেন ডোম না ছোঁয়"।

এ বিষয়ে পল্লী চিকিৎসক আকামউদ্দিন বলেন, রোগী যখন তার কাছে নিয়ে আসা হয় তখন রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ ছিলো অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। তিনি রোগীর সাথের মা ও বোনকে বলেন দ্রুত কুষ্টিয়া নিয়ে যেতে। এবং কুষ্টিয়া নেবার পথে মারা গেছে পরে শুনেছেন।

পাঠকের মন্তব্য