যুবলীগের টেলিমেডিসিন সেবা পেল ১৫ হাজার মানুষ

যুবলীগের টেলিমেডিসিন সেবা পেল ১৫ হাজার মানুষ

যুবলীগের টেলিমেডিসিন সেবা পেল ১৫ হাজার মানুষ

করোনার এই মহাসংকটে ১৫ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে টেলিমেডিসিন সেবা দিল বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে গঠিত 'টেলিমেডিসিন সেবা টিম'।

গত ৫ এপ্রিল সোমবার বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক আলাহাজ মোঃ মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নির্দেশে করোনা মহামারীকালীন বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা/স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য শতাধিক চিকিৎসক নিয়ে টেলিমেডিসিন টিম গঠন করা হয়। জরুরি এই টেলিমেডিসিন সেবা কার্যক্রমের সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডাঃ খালেদ শওকত আলী। সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন- সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. হেলাল উদ্দিন, স্বাস্থ্য সম্পাদক ডাঃ ফরিদ রায়হান, উপ-স্বাস্থ্য সম্পাদক ডাঃ মাহফুজুর রহমান উজ্জ্বল, সহ সম্পাদক ডাঃ মনজুরুল ইসলাম ভূঁইয়া রাফি, কার্যনির্বাহী সদস্য ডাঃ আওরঙ্গজেব আরু, কার্যনির্বাহী সদস্য ড. মোঃ রায়হান সরকার রিজভী।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নিবেদিত প্রাণ প্রতিশ্রুতিশীল যুবলীগের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে এই টিম গঠন করা হয়।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ এর টেলিমেডিসিন টিম দিবা-রাত্রি নিরলসভাবে কাজ করে এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার  মানুষকে টেলিফোনের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছেন। অনেক গভীর রাতেও অসহায় অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে যুবলীগের টেলিমেডিসিন টিম।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, "এই দুর্যোগ ও মহামারির সময় যদি আমরা মানুষের পাশে না দাঁড়াতে পারি, আর কখন দাঁড়াবো? এই অনুভূতি বা চেতনাবোধ থেকেই  যুবলীগের চিকিৎসকবৃন্দ দিন-রাত মানুষকে বিনামূল্যে টেলিমেডিসিন সার্ভিস প্রদান করে যাচ্ছে। আপনারা জানেন যে, যুবলীগের কমিটিতে পেশাজীবী সমাজের একটা প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। ১০-১৫ জন ডাক্তার আছে আমাদের যুবলীগের কমিটিতে। এরা সবাই প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার। এদের নেতৃত্বেই যুবলীগের টেলিমেডিসিন সার্ভিস পরিচালিত হচ্ছে। মানবসেবা করা এই টিমের মূল লক্ষ্য, যে কারণে করোনার এই মহাসংকটে দিনরাত টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে তারা মানুষকে স্বাস্থ্যসেবাটা দিয়ে যাচ্ছে। এর আগেও আমরা গত বছরও স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছি, এবছরও আমরা সেটার পুনরাবৃত্তি করছি। এবছর আমরা অলরেডি ১৫০০০ (পনের হাজার) মানুষকে টেলিমেডিসিন সেবা দিতে পেরেছি। বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিতে পেরে আমাদের চিকিৎসকরা খুবই অনুপ্রাণিত, গর্বিত; কেননা মানুষের সেবা করতে পারা  তাদের কাছে মানবিক-নৈতিক দায়িত্ব। এই ব্যাপারে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরমধ্যেই আমরা কিছু সুফল পেতে শুরু করেছি। অনেকে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ইতিমধ্যে স্বাভাবিক জীবনে ফেরৎ গিয়েছে। করোনার মহামারি চলাকালীন আমাদের টেলিমেডিসিন টিম তাদের এই মহৎ কর্মযজ্ঞ অব্যাহত রাখবে।"

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মাইনুল হােসেন খান নিখিল বলেন, "রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নির্দেশে, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এর পরামর্শে আমরা মানুষের পাশে রয়েছি। করোনার কারণে লকডাউনে থাকা অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখতে আমরা এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ঘরে বসেই যেন তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন, সেজন্য টেলিমেডিসিন সেবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনগণ কিছুটা উপকার পেলেই আমরা সার্থক। ইতোমধ্যে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ যুবলীগের টেলিমেডিসিন সেবা পেয়েছে।"

টেলিমেডিসিন টিমের চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকল ধরণের করোনা সংক্রান্ত চিকিৎসার পাশাপাশি প্রসূতি মা ও শিশু, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি জটিলতা, বন্ধাত্ব, দাঁতের সমস্যাসহ বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে যাচ্ছে যুবলীগের টেলিমেডিসিন সার্ভিস টিম। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বিশেষ করে যেসকল জায়গায় লকডাউনের কারণে মানুষ ঘরের কাছের চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত ছিল, যুবলীগের এই টেলিমেডিসিন টিমের চিকিৎসা সেবার কারণে তারাও পেয়েছে হাতের নাগালে চিকিৎসাসেবা। বাংলাদেশের পাশাপাশি বাংলাদেশের বাইরে থেকেও প্রবাসী বাঙালিরা টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসকদের থেকে পরামর্শ গ্রহণ করছেন।

পাঠকের মন্তব্য