ফুলবাড়ী ব্লাড ব্যাংক ও হেল্পলাইনের ভিন্নধর্মী ঈদ উদযাপন

ফুলবাড়ী ব্লাড ব্যাংক ও হেল্পলাইনের ভিন্নধর্মী ঈদ উদযাপন

ফুলবাড়ী ব্লাড ব্যাংক ও হেল্পলাইনের ভিন্নধর্মী ঈদ উদযাপন

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে মাস দুয়েক আগে 'ফুলবাড়ী ব্লাড ব্যাংক ও হেল্পলাইন' এর এক সহোযোগীর ফেসবুক স্ট্যাটাসের  মাধ্যমে উঠে আসে এক হাফেজ ছাত্রের পরিবারের করুন কাহিনী। 

লালমনিরহাটের  বড়বাড়ির কাছাকাছি একটি গ্রামে হাফেজ ছাত্রটির বাসা। অবশ্য অন্যের বাসায় লজিং থেকে কুড়িগ্রামের একটি মাদ্রাসা থেকে হেফজ বিভাগ পাশ করেছিল। খোঁজ নিয়ে জানা যায় তার পরিবারের অবস্থা সমন্ধে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবা মানসিক রোগী। পরিবারে উপার্জনক্ষম আর অন্য কেউ না থাকায় এই দিনে এসেও তাদের অনাহারে অর্ধাহারে দিন যাচ্ছিল।

আর তাছাড়া এখনও বয়সে অনেক ছোট হওয়ায় তার পক্ষে পরিবারের হাল ধরাটা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেদিন যে রকম উপার্জন হতো সেদিন সেভাবে খেয়েই দিন যাপন করতো। অধিকাংশ দিনই তার মা-বাবা ও ছোট বোনটি রাতে না খেয়েই কাটাতো। হাফেজ ছাত্রটির একটি ছোট বোন আছে, তার‌ও পড়াশোনা আর্থিক সংকটের কারনে বন্ধ আছে। হাফেজ ছাত্রটি  তার বোন পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায়।

স্ট্যাটাসটি আমলে নেয় "ফুলবাড়ী ব্লাড ব্যাংক ও হেল্পলাইন" স্বেচ্ছাসেবীরা। 

হাফেজ ছাত্রটির পরিবারের অবস্থা বিবেচনা করতঃ কিভাবে তাদের সমস্যার সঠিক এবং স্থায়ী সমাধান করাতে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা নিজস্ব অর্থায়নে ৬ মাস বয়সী ১টি ছাগল,১ বস্তা (২৫ কেজি) চাল, ১ কেজি ছাগলের মাংস কিনে ঈদের কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী মিলে সব জিনিসপত্র নিয়ে গিয়ে হাফেজ ছাত্রটি বাসায় উপস্থিত হয় এবং  ঈদ উপহার প্রদান করে তাদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফুলবাড়ী ব্লাড ব্যাংক ও হেল্পলাইন" এর সভাপতি এনামুল হক বসুনিয়া জানান, মানবিক কারণে আমরা তাদের কোনো ছবি পোস্ট দিচ্ছি না। আমরা চাইনা একটা ছবির কারণে তাদের ঈদ আনন্দ টা নষ্ট হয়ে যাক। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনটি সকলের সহযোগিতা পেলে আগামীতেও এরকম অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াবো ইনশাআল্লাহ।

পাঠকের মন্তব্য