রংপুরের ৮০ বছর বয়স্ক আবিয়া'র ভাগ্যে জোটেনি 'বয়স্ক ভাতা'  

রংপুরের ৮০ বছর বয়স্ক আবিয়া'র ভাগ্যে জোটেনি 'বয়স্ক ভাতা'  

রংপুরের ৮০ বছর বয়স্ক আবিয়া'র ভাগ্যে জোটেনি 'বয়স্ক ভাতা'  

সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয় বা সামাজ সেবা অধিদফতর এর ওয়েব সাইট থেকে জানা জানা যায় ১৯৯৭-৯৮ অর্থ বছরে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয় বা সামাজ সেবা অধিদফতর ব্যাস্তবায়ন কারী প্রতিষ্ঠান হিবাবে কাজ করে। তাদের ওয়েব সাইটে ভাতা প্রাপ্তীর যোগ্যতা ও শর্তাবলীতে উল্লেখ আছে যে ভাতা ভুগীকে অবশ্যই বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। জন্ম নিবন্ধন বা জাতীয় ভোটা আইডি কার্ড নম্বর থাকতে হবে এবং পুরুষের ক্ষেত্রে বয়স সীমা ধরা হয়েছে ৬৫ বছর আর নারীদের ক্ষেত্রে বয়স সীমা ধরা হয়েছে ৬২ বছর সহ প্রতি বছর গড় আয় ধরা হয়েছে অনূর্ধ ১০ হাজার টাকা হতে। তাহলে সেই ব্যাক্তি বয়স্ক ভাতার যোগ্যতা লাভ করতে পাড়ে। কিন্তু অনূর্ধ ১০ হাজার টাকা আয়ের নিচে থেকেও ৮০ বছরেও বয়স্ক ভাতা পায়নি রংপুর বদরগঞ্জ এর গোপালপুরের আবিয়া।

জানা যায়, রংপুর বদরগঞ্জ উপজেলার ১১ নং গোপালপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে ১০ই অক্টোবর ১৯৪০ সালে জন্মগ্রহণ করেন আবিয়া। আবিয়া বছর বর্তামানে ৮০ পেরিয়ে ৮১ বছের ছুই ছুই করছে। তার পরে এখনো এই বৃদ্ধা পায়নি বয়স্ক ভাতা দাবী এলাকাবাসীর। এলাকাবাসিল আরো দাবী যে ১৮ বছর আগেই আবিয়ার বয়স্ক ভাতা পাবার কথা থাকলেও এখন পযর্ন্ত কোন ভাতায় পাননী তিনি।

আবিয়া বলেন, আমার ছেলে মেয়ের সংখ্যা পাঁচ জন। একজন মেয়ে আর চার জন ছেলে।

আমরা ছেলেরা সাবাই দিন মুজুরী। তাদের সংস্যার চালাতে তারা হিমসিম খাচ্চে। তারা আর আমাকে তারা কি দেখবে বলেই একটি দির্ঘ্য শ্বাস ফেলে আবার বলতে শুরু করে আবিয়। তিনি আরো বলেন তার পরেও একনা করে খাবার দেয়। আমার একনা চকি ছিল সেটাও পুরাতন হয়ে ভেঙ্গে গেছে। মাটিতে শুইতে পাড়ি না। তাই কখন নন এর কাছে কখন বা মানুষের বাড়িতে থাকি। যদি সরাকার বা চেয়ারম্যান, মেম্বার আমাকে বয়স্ক ভাতা বা সহায্য করতো তাহলে সেই ভাতার টাকা কোনা দিয়া আমি আমার চিকিৎসা সহ তিন বেলা তিন মুটো খাবার খেতে পারতাম বলে দাবী করেন আবিয়া।

আবিয়ার পুত্র বধু বানু খাতুন বলেন, আমার স্বামী একজন রিকশা চালক। লকডাউনের কারণে আমার স্বামী এখন রিশকাও চালাতে পারছেনা। বর্তমানে তিনি দিন মুজুরি করে যে টাকা আয় করে সেই টাকা দিয়ে আমার দুই সন্তান সহ আমাদের তিন বেলা তিন মুটো খাবার খেতেই হিমসিম খাচ্ছি তার পরেও আমরা চেষ্টা করি সাধ্যের মধ্যে না হলেও কিছু দেবার। তবে তিনি দাবি করে বলেন, আমার শাশুড়ী যদি বয়স্ক ভাতা পেতে তাহলে তিনি নিজের টাই নিজে করে খেত পারবেন।

ইউপি সদস্য আনারুল হোসেন বলেন, আবিয়া সহ অনেক এর নাম অনলাইনে দেয়া আছে। এখন চেয়ারম্যান দেখছে। সব গুলো তোর আর এক সাথে আসে নাই। যেহেতু অনলাইনে আছে সেহেতু তিনি পাবেন এখন বলে দাবী করেন ইউপি সদস্য আনরুল হোসেন। তিনি আরো বলেন, দুই চার করে ভাগে পাইছি ওটা ঐ দিক চলে গেছে। উনি পাওনাদার অনলাইন করা আছে পাবে আর কি ?

ইউপি চেয়ারম্যান আজিজার রহমানের সাথে মুটো ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, এগুলো এই মুহুত্বে করার কিছু নাই। সব গুলো ফাইনাল হবার পর যখন দুই চারটা বাতিল হবে তখন বিবেচনা করা হবে। তিনি আরো বলেন, ঐ ব্যাক্তিকে ১৫ দিন পর পর যোগাযোগ রাখতে বলেন যদি সুযোগ পাই করে দিব। এই সিস্টেমটা উনাদের বুঝিয়ে দিবেন। তা না হলে চার বছরেও পাবে না বলে জানান তিনি।

শুধু বাবিয়া নয় অনেক বৃদ্ধা ও বৃদ্ধ আছে যাদের বয়স হয়েছে এবং পাবার যোগ্য কিন্তু তার পরেও তারা পাচ্ছেনা বয়স্ক ভাতা। বয়স্ক ভাতার জন্য ভুক্তভোগীরা জনপ্রতিনিধীদের দ্বারে দ্বারে ঘুড় বেড়াচ্ছে তার পরেও বয়স্ক ভাতা পাচ্ছে না তারা। আবার অন্য দিকে বয়স বেশী হবার জন্য তাদের সন্তানেরা তাদের সংস্যারের বোঝা মনে করে বাড়ি থেকে বের করে দিচ্ছে। অবশেষে এই বৃদ্ধা বাবা মার জায়গা হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রম কিংবা রাস্তার ধারে সহ ফুটপাতে। আর প্রতিদন বৃদ্ধ মা বাবার নির্যাতনে কথা বা খবর সহ ভিডিও ভাসছে সোস্যাআল মিডিয়া ফেজবুকে। তাই সকল বয়স্ক ভাতা পাবার উপযোগী ব্যাক্তিদের বয়স্ক ভাতা প্রদানের ব্যাবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরকার ও সরকারে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকার সুশিল সমাজের ব্যাক্তি।

পাঠকের মন্তব্য