‘শ্রমিকদের জন্য কেমন বাজেট চাই’ 

‘শ্রমিকদের জন্য কেমন বাজেট চাই’ 

‘শ্রমিকদের জন্য কেমন বাজেট চাই’ 

আসন্ন জাতীয় বাজেট (২০২১-২২) নিয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে ‘শ্রমিকদের জন্য কেমন বাজেট চাই’ শীর্ষক ভার্চ্যুয়াল গোল টেবিল বৈঠক ২০ মে সকাল ১১টায় বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এড. মাহবুবুর রহমান ইসমাইলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত ভার্চ্যুয়াল গোল টেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ের সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি, অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, বিজিএমইএ’র সভাপতি মো: ফারুক হাসান, বিকেএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি, মোহাম্মদ হাতেম, সিপিডির পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম, টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কাস ফেডারেশনের সভাপতি আবুল হোসাইন, বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি সালাউদ্দিন স্বপন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সাধারণ সম্পাদক আশিকুল আলম পটল, একাত্তর টিভির বিজনেস এডিটর আজিজুল ইসলাম, জাতীয় গার্মেন্টস শ্র্রমিক জোট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নইমুল আহসান জুয়েল, গার্র্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম সবুজ, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির আহবায়ক তাসলিমা আক্তার, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ ও কনক বর্মন।

শাজাহান খান এমপি বলেন, বাজেট সমাজের দর্পন। সমাজ দর্পনে শুধু আয় ব্যয়ের হিসাব নয়, সরকারের লক্ষ্য উদ্দেশ্য বাজেট আলোচনায় উঠে আসে এবং এই বাজেটে সবসময় গুরুত্ব দেয়া হয় স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ অন্যান্য খাতে। কিন্তু শ্রমিকদের বাজেট নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হয় না, তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে দেখেন এবং কথা বলেন। শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধির পাশাপাশি আবাসন ব্যবস্থার বিষয়টি মালিক পক্ষের নজরে আনতে হবে। এছাড়া শ্রমিকদের যাতায়াত ব্যবস্থার বিষয়টিও মালিক পক্ষকে দেখতে হবে। স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বিজিএমইএ, বিকেএমইএ নেতৃবৃন্দের প্রতি বিশেষ অনুরোধ করছি শ্রমিকদের চাকরি নিরাপত্তা নিশ্চিত এর বিষয়ে।  বাজেটে শ্রমিকদের রেশনিং ব্যবস্থা, চিকিৎসা, আবাসন ব্যবস্থার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া দরকার। বিজিএমইএ, বিকেএমইএ’র সাবেক অনেক সভাপতি এখন সংসদ সদস্য, তাদেরকেও এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে সংসদে কথা বলা উচিত। মালিক প্রতিনিধি ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা সংসদে রেশনিং ব্যবস্থা, চিকিৎসা, আবাসন ব্যবস্থার বিষয়ে মত বিনিময় করলে সংসদে উপস্থাপন করা সহজ হবে। তিনি আরো বলেন, আলোচনার সারমর্ম অর্থমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। তিনি সংসদে বাজেট আলোচনায় এ বিষয়ে কথা বলবেন।

অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেন, শ্রমিকদের জীবন জীবিকার স্বার্থে যে যেখানে আছে, সেখান থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি তার বক্তব্যে প্রশ্ন উপস্থাপন করে বলেন, ৫০ বছর আগে আদমজী শ্রমিকদের আবাসন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও ৫০ বছর পরে শ্রমিকরা এ অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ল কোন কারণে? তাহলে ৫০ বছরে আমাদের অর্জন কী? এই প্রশ্ন জোড়ালো ভাবে সবাইকে সংগঠিত হওয়ার আহবান জানান।

বিজিএমইএ’র সভাপতি মো: ফারুক হাসান জাতীয় বাজেটে শ্রমিকদের জন্য অন্ততপক্ষে চাল-ডাল রেশনিং এবং যাতায়াতের জন্য পরিবহন ব্যবস্থার জন্য  মত প্রকাশ করেন। 

বিকেএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বর্তমান করোনাকালীন প্রেক্ষাপটে জাতীয় বাজেটে যদি শ্রমিকদের জন্য রেশনিং এর ব্যবস্থা বরাদ্দ করা হয় তাহলে শ্রমিকরা ভালো থাকবে বলে মনে করছি। 

সিপিডির পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, জাতীয় পর্যায়ে শ্রমিকদের ডাটাবেস থাকা দরকার। জাতীয় বাজেটে অন্যান্য খাতের ন্যায় শ্রমিকদের জন্য কি বরাদ্দ হবে তা বাজেট ঘোষণায় থাকতে হবে। তিনি সংসদে অভিজ্ঞ সাংসদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে শ্রমিকদের জন্যে আলাদা কক্কাস করার দাবী জানান। শ্রমিকদের বীমা স্কীমের আওতায় আনা এবং শ্রমিকদের ভ্যাকসিনেশন ও সরকারিভাবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উপর গুরুত্বারোপ করেন। 

এছাড়া অন্যান্য বক্তাগণ আগামী বাজেটে অন্যান্য বাজেটের মতো শ্রমিকদের জন্যও বাজেট রেখে বাজেট ঘোষণা করা, শ্রমিকদের রেশন কার্ডের মাধ্যমে চাল-ডাল- তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী স্বল্প মূল্যে ক্রয়ের ব্যবস্থা করা, শ্রমিকের জন্য স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা তহবিল গঠন করার বিষয়ে গুরত্বারোপ করা হয়।

পাঠকের মন্তব্য