শিক্ষা কার্যক্রম শুরুকে অনিশ্চিত বলছেন কুবি প্রশাসন  

শিক্ষা কার্যক্রম শুরুকে অনিশ্চিত বলছেন কুবি প্রশাসন  

শিক্ষা কার্যক্রম শুরুকে অনিশ্চিত বলছেন কুবি প্রশাসন  

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরুকে অনিশ্চিত বলছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

গত ২২ ফেব্রুয়ারি অনলাইনে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সরকারের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই মাসের ২৪ তারিখ থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো ১৭ মে থেকে খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন৷  

একই সময়ে তিনি হলগুলো খুলে দেওয়ার আগেই আবাসিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাইকেই টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান৷ এরই প্রেক্ষিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েদের চারটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন প্রদানের জন্য তালিকাও প্রণয়ন করা হয়। এই তালিকার বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট এমদাদুল হক বলেন, ভ্যাকসিন নিয়ে ২৪ তারিখ  উপাচার্য স্যারের সাথে মিটিংয়ের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, সরকার ভ্যাকসিন দিবে বলছে কিন্তু এখন তো সবকিছুই পিছিয়ে গেছে। এখনো সরকার থেকে নতুন কোন নির্দেশনা আসে নাই। এখন আমরা কিছুই বলতে পারবো না কখন বিশ্ববিদ্যালয় খুলে। ২৯ মে পর্যন্ত চলমান ছুটি বহাল আছে এটুকু জানি। 

তিনি আরও বলেন, সরকার থেকে বলা হয়েছে শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে। এখন এটা অনিশ্চিত। কখন খুলবে এটা সরকারের সিদ্ধান্ত।

এদিকে ২৪ মে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে হল-ক্যাম্পাস খুলে দেয়ার দাবিতে মানববন্ধনে অংশ নিবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের খোলার আগে তাই ভ্যাকসিন নিশ্চিত করাটা জরুরি বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী রাশেদ ইবনে নূর  বলেন, এবার বিশ্বিবদ্যালয় নিয়ে ভাবা উচিত দেশের হর্তাকর্তাদের। অামরা ক্যাম্পাসে ফিরতে চাই। বাড়িতে অার কতদিন! এত অনিশ্চয়তার মধ্যে  শিক্ষার্থীরা ভালো নেই। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগে দ্রুতই যে ভ্যাকসিন দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। আর যদি ভ্যাকসিন দিতে দেরি হয় তবে যেন দ্রুতই বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের এই দাবিকে যৌক্তিক উল্লেখ করে কুমিল্লা  বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. শামিমুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি নিঃসন্দেহে যৌক্তিক। প্রথমত আমি ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষার্থীদের এই সেন্টিমেন্ট ধারণ করি। পাশাপাশি সার্বিক দিকটাও বিবেচনা করতে হয়। প্রায় এক বছরের অধিককাল ক্যাম্পাস বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন দীর্ঘায়িত হচ্ছে, এটা তো কোনোভাবেই কাম্য না। সামগ্রিকভাবেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

পাঠকের মন্তব্য