মহান আল্লাহর নিয়ামতকে এভাবেই ধ্বংস করছি !

মহান আল্লাহর নিয়ামতকে এভাবেই ধ্বংস করছি !

মহান আল্লাহর নিয়ামতকে এভাবেই ধ্বংস করছি !

কোথায় আছে, কেমন আছে আমার মা...
অনেক কেঁদেছি, আর কাঁদতে পারি না !

এই মাছটি বা পোনাগুলো একটি পরিবারের একবারের খাবারের অংশ মাত্র। অথচ কি নির্মমভাবে ডিমওয়ালা মাকে পেটে কুচবিদ্ধ করে ধরে এনেছি। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাচ্চাগুলোকেও শেষ করে দিচ্ছি। দেশের মহামূল্যবান সম্পদ বিনষ্ট করতে গ্রামগঞ্জে প্রতি বছর প্রজনন  সময়ে এভাবেই উৎসবে মেতে উঠি আমরা! রাতেও চলে ডিমওয়ালা মাছ মারতে টর্চলাইট, পলো ও কুচ / টেটা নিয়ে মহড়া। ফলে, খাল-বিলের স্বাধের দেশীয় মাছ দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে; বাজারে তিনগুন বেশী দামেও মিলছে না সেই মাছ।

বড় হলে এগুলোতেই ভরে যেত খাল বিল নদী নালা; হতে পারতো হাজার হাজার পরিবারের খাবার। মিঠা পানির প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন বাড়তো হাজার হাজার গুণ; অগণিত মৎস্যজীবীর জীবিকা নির্বাহের সুযোগ বহু গুণে বেড়ে যেতো। দেশবাসীও সস্তায় দেশী মাছের স্বাধ নিতে পারতো। মাছে ভাতে বাঙালি; চাষের মাছ ঠিকই আছে। কিন্তু স্বাধের মাছ নেই !

কাজেই, পোনা মাছ না ধরি এবং শিশু মাছকে মা হারা না করি। ডিমওয়ালা মাছগুলোকে বাঁচতে দেই। নিজে সচেতন হই এবং অপরকে সচেতন করি। নিজের (মানুষের) মা ও শিশুসন্তাসের কথা মনে করে হলেও ওদের প্রতি সদয় হই। মানুষের জন্য মহান আল্লাহর দেয়া এই অশেষ নিয়ামতকে রক্ষা করি।

ঝাটকা নিধন এবং মা ইলিশ ধরায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় এবং বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ায় দেশে ইলিশ মাছের উৎপাদন বহুগুনে বেড়েছে। তেমনিভাবে, দেশীয় প্রজাতির মা-মাছ এবং পোনামাছ রক্ষা করতে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সরকারি নিষেধাজ্ঞাসহ কঠোর আইনী / প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হোক। পাশাপাশি, বুক ভরা কষ্ট ও বেদনা নিয়ে বিনীত অনুরোধ- জাতির বিবেক হোক আরো দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক।

ফেসবুক লিঙ্ক : নাজনীন আলম
ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর)

পাঠকের মন্তব্য