অনলাইনে পরীক্ষা; আমাদের সক্ষমতা ও কিছু কথা

অনলাইনে পরীক্ষা; আমাদের সক্ষমতা ও কিছু কথা

অনলাইনে পরীক্ষা; আমাদের সক্ষমতা ও কিছু কথা

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে এক বছরের ও বেশি সময় ধরে স্থবির হয়ে রয়েছে আমাদের শিক্ষাঙ্গন। দীর্ঘ এ সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি, আমাদের স্বায়ত্তশাসিত চার বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যক্রম দেখে একবারের জন্যও মনে হয়নি, শিক্ষার অনিশ্চয়তা নিয়ে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা চিন্তিত। একটা সময় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এসে উপলব্ধি করলো অনলাইন ক্লাসের কথা কিন্ত তখন তারা এটা চিন্তা করতে ব্যর্থ হলেন যে, কেবল ক্লাস নিলেই হবেনা সেই সাথে পরীক্ষাও নিতে হবে!আমাদের দায়িত্বশীল জায়গা গুলো যদি আগে থেকেই পরীক্ষা নেওয়ার কথা বিবেচনা করতো তাহলে আজ এক বছরের ও বেশী সময় পর আমাদের সক্ষমতা ও মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হতো না।

অনলাইন ক্লাস চালুর ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে আমাদের শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা আমাদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। বিভিন্ন গবেষণা ও সংবাদ সূত্রে আমরা জানতে পাই, তিন ভাগের এক ভাগ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে উপস্থিত থাকছেন। ব্যয়বহুল ও ধীরগতির ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভ্রাট, দুর্বল নেটওয়ার্ক, স্মার্ট ডিভাইস সঙ্কট, প্রযুক্তিগত অদক্ষতা, আর্থিক অসচ্ছলতা, করোনাকালীন মানসিক অশান্তি ইত্যাদি কারণে শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণের হার কম। ফলে সরকার থেকে ডিভাইস ক্রয়ের জন্য শিক্ষার্থীদের আট হাজার টাকা করে ঋণ দেয়।

ইউজিসির দেওয়া তথ্য মতে, ৩৯ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় মোট ৪১হাজার ৫০১জন শিক্ষার্থীর তালিকা পাঠায় ইউজিসির কাছে।যা শতকরা হিসেবে মোট শিক্ষার্থীর ২৯ শতাংশ। ইউজিসি এই তালিকা সংশোধন করে মাত্র ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে ঋণ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই যে ১৪শতাংশ শিক্ষার্থী ঋণ পেল না,তারা কিভাবে অনলাইন পরীক্ষায় অংশ নিবে ? ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা করার কারণে খুব জোর দিয়ে বলতে পারি, বাস্তবিক অর্থে ডিভাইস নেই এমন ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশী।তাহলে প্রশাসন ঠিক কিভাবে এই ডিভাইস বিহীন ছাত্র-ছাত্রীদের অনলাইনে পরীক্ষা নিবে ? একজন শিক্ষার্থী ও যদি অনলাইন সুবিধা বঞ্চিত থাকে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি করবে?

এখন আসি সক্ষমতার প্রশ্নে, ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা করার কারণে ব্যক্তিগত ভাবে অধিকাংশ শিক্ষকদের সাথে ভালো একটা সম্পর্ক রয়েছে।গত কয়েকদিনে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে একটা বিষয় বুঝতে পারি, অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে উনারা যথেষ্ট ইতিবাচক নয়।এখানে উল্লেখ্য যে অনলাইন ক্লাস চালু করার পর থেকে শিক্ষকদের একটা বড় অংশ কিন্ত অনলাইনে ক্লাস নেওয়া থেকে বিরত থাকেন।রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা তো কোন ক্লাস না নিয়েই ফাইনাল পরীক্ষা নিয়েছেন। অনেক শিক্ষকেরই প্রযুক্তিগত দক্ষতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে ।কোন ধরনের প্রশিক্ষণ সুবিধা ছাড়া অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণ ও খাতা মূল্যায়নের বিষয়টি ও কিন্ত প্রশ্নসাপেক্ষ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে,বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কিন্ত অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।বিষয়টি তারা সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কমিটির মিটিংয়ে অনুমোদন ও নিয়েছেন।ফলে কৌতুহলী হয়ে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ন কয়েকজন শিক্ষকের কাছে জানতে চাই, কোন পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং কয় তারিখ থেকে ? পদ্ধতি এবং পরীক্ষার বিষয়ে উনাদের প্রায় সবাই অন্ধকারেই রয়েছেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেরোবি উপাচার্য প্রফেসর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ জানান, চলতি মাসের ১৩তারিখ থেকে অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহন শুরু হবে। এ সময় কোন পদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহন করা হবে, জানতে চাইলে তিনি জানান খুব দ্রুতই একটা কমিটি গঠন করা হবে।এই কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই অনলাইনে ফাইনাল পরীক্ষা নেওয়ার বিপক্ষে।সুতরাং প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করবো, অনলাইন পরীক্ষা পদ্ধতির বাস্তবতা উপলব্ধি করে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ার।

পাঠকের মন্তব্য