অন্তঃকোন্দলে জর্জরিত কুবির আওয়ামীপন্থী শিক্ষকগণ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শিক্ষক সমিতি নির্বাচন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শিক্ষক সমিতি নির্বাচন

বরাবরের মতো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শিক্ষক সমিতি নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন শিক্ষকরা। পাস করে আসা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক, আঞ্চলিকতা কেন্দ্রিকসহ বিভিন্ন কারণে তারা নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হচ্ছেন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের জেষ্ঠ্য কয়েকজন অধ্যাপক বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ইতিহাস অনুযায়ী, মূলত শিক্ষক সমিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসাকে কেন্দ্র করে আওয়ামীপন্থী নীল দলে এতো ভাগ হয়। যে দলের শিক্ষকেরা পদে আসেন তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ যেমন প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভিন্ন শাখার পরিচালক ইত্যাদির দায়িত্ব পাওয়া থেকে শুরু করে কিছুক্ষেত্রে অসৎ স্বার্থ হাসিলের জন্যেও উপাচার্যকে চাপ দিয়ে থাকেন। 

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখানে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন শুরু হয় ২০১২ সালে। সামনে একাদশ কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি নির্বাচনের ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের মধ্যে মোটা দাগে দুইটি দল বিদ্যমান। ২০১০ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত সময়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল হক, মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান ও অ্যাকাউন্টিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. তোফায়েল হোসেন মজুমদার মিলে একটি দল চালিয়েছেন। এই দলের সিনিয়র শিক্ষকরা শিক্ষা ছুটিতে থাকায় ২০১৭ পরবর্তী অর্থাৎ ২০১৮ থেকে ২০২২ পর্যন্ত সময়ে এই গ্রুপ চালাচ্ছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এন এম রবিউল আউয়াল চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী ওমর সিদ্দিকী ও অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. স্বপন চন্দ্র মজুমদার। 

অপরদিকে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের একটি দলের নেতৃত্ব দেন। যেটি মূলত কিছু উপদলের একটি মিশ্রণ। যেখানে রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা শিক্ষকদের একটি অংশ, তাদের সাথে আবার দক্ষিণ বঙ্গের শিক্ষকদের নিয়ে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: শামীমুল ইসলামের একটি উপদল এবং পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দীর নেতৃত্বাধীন একটি উপদলও এসে মিশেছে। এমন বেশ কয়েকটি উপদল মিলে তাহের-শামীম দলও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতিতে প্রভাব ফেলে আসছে। 

তবে এসব দল-উপদল যে সবসময় একই শাখায় যুক্ত থাকে তা না। পরিস্থিতি ও নানা স্বার্থের কারণে সেখানে পরিবর্তনও আসতে দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি নির্বাচনের ইতিহাস বলছে, অধ্যাপক ড. মো. তাহের, ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী, ড. শামীমুল ইসলাম, ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ক্ষমতায় আসার জন্য অনেকবার দল পাল্টেছেন। কখনও নীল দলে থেকেও অন্য প্রার্থী দাঁড় করিয়েছেন, কখনও হলুদ দল বানিয়েছেন, কখনও বঙ্গবন্ধু পরিষদকে দুইভাগ করে আলাদা নির্বাচন করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জেষ্ঠ্য অধ্যাপকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০১০ সালের ৭ জুলাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষকদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’ গঠিত হয়। যার উদ্দেশ্যে ছিল বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষকদের এক ছাদের নিচে নিয়ে আসা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যান্য মতের শিক্ষকদের উপস্থিতি থাকায় সকল শিক্ষকদের জন্য ২০১২ সালে তৈরি করা হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। 

গঠনতন্ত্র মোতাবেক একই বছরের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু পরিষদ থেকে একটি, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দুর রহমানের নেতৃত্বে প্রগতিশীল শিক্ষক পরিষদ থেকে একটি ও বিএনপিপন্থী সাদা দল থেকে একটি প্যানেল দেওয়া হয়েছিল। সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. রায়হান উদ্দিন। এই নির্বাচনে ২০১২ সালের জুলাই মাসে হওয়া নির্বাচনে জয়ীরা ক্ষমতায় থাকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। 
এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু পরিষদ থেকে একটি প্যানেল দেয়া হয়। সেই প্যানেলে সভাপতি প্রার্থী ছিলেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ  সৈয়দুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ছিলেন মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান। 

এই নির্বাচনে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামিমুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু পরিষদে থাকলেও তারা সৈয়দুর রহমানকে নির্বাচনে হারানোর জন্য মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো: আব্দুল্লাহকে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে দাঁড় করান এবং আব্দুল্লাহ জয় লাভ করে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাদা দল থেকে লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: মশিউর রহমান ও আইসিটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো: ইমরান হোসেন জয় লাভ করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল হোসেন জয় লাভ করেন। 

পরবর্তীতে ২০১৫ সালে  বঙ্গবন্ধু পরিষদ সমর্থিত নীল দল থেকে সভাপতি প্রার্থী দেয়া হয়  পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রার্থী দেয়া হয় একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো: তোফায়েল হোসেন মজুমদারকে। তারা উভয়ই নির্বাচনে জয় লাভ করে।  কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচনে আবু তাহের- শামীম গ্রুপ বঙ্গবন্ধু পরিষদে গ্রহণযোগ্যতা না পেয়ে ২০১৫ এর নির্বাচনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচনের ইতিহাসে প্রথমবার এবং শেষবারের মত হলুদ দল থেকে একটি প্যানেল ঘোষণা করা হয়। সেই প্যানেলে সভাপতি প্রার্থী  ছিলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। তারা উভয়ই নির্বাচনে হারে।

২০১৬ সালে হলুদ দলের তাহের-শামীম গ্রুপ বঙ্গবন্ধু পরিষদে এসে যোগ দেন। এবং নীল দল থেকে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে ছিলেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল হক ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ  কামাল উদ্দিন।  এই নির্বাচনে তারা উভয়ই জয়ী হন।

২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মত বঙ্গবন্ধু পরিষদে দুটি ভাগ  করা হয়। ভাগটি শুধুই ক্ষমতায় আসাকে কেন্দ্র করে। অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী ও একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ্র দেব  মিলে দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ চালু করেন। দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ থেকে ২০১৭ সালের নির্বাচনে দেয়া প্যানেলে সভাপতি প্রার্থী ছিলেন অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ্র দেব ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। তারা উভয়ই এই নির্বাচনে পরাজিত হন কেন্দ্রীয় অনুমোদন দাবিকৃত বঙ্গবন্ধু পরিষদের নীল দলের প্রার্থী অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের ও  সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসানের কাছে।

২০১৮ সালের নির্বাচনে আবারো নীল দল থেকে থেকে সভাপতি প্রার্থী দেয়া হয় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহেরকে এবং সেক্রেটারি প্রার্থী দেয়া হয় নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এন এম রবিউল আউয়াল চৌধুরীকে। পূর্বের নির্বাচনের মতো দ্বিতীয়  বঙ্গবন্ধু পরিষদ (কামাল-বিশ্বজিৎ) থেকে আরেকটি প্যানেল দেয়া হয়। সেখানে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ্র দেব ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জি. এম. আজমল আলী কায়সারকে। 

পরবর্তীতে ২০১৯ ও ২০২০  সালের নির্বাচনে দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ (বিশ্বজিৎ-কামাল) থেকে কোনো প্যানেল দেয়া হয়নি। এদিকে নিয়মবহির্ভূতভাবে শিক্ষকদের বেতনের টাকা কেটে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাতর প্রচেষ্টার অভিযোগে দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ও ড. দুলাল চন্দ্র নন্দীর সদস্য পদ স্থগিত করেছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। এতে শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ-২০১৮ এর নির্বাচন ঐ দুই শিক্ষকের নাম ভোটার তালিকায় রাখেনি শিক্ষক সমিতির নির্বাচন কমিশন। এই ঘটনার কারণে  ২০১৮ পরবর্তী দুই নির্বাচনে তাদের দেখা যায়নি। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম  বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও কেন্দ্রীয় অনুমোদন দাবিকৃত সংগঠনটি ২০২১ এর নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী দেয় নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এন এম রবিউল আউয়াল চৌধুরী ও অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির হুসেইনকে। ক্ষমতায় আসাকে কেন্দ্র করে দুই বছর বিরতি দিয়ে  ২০২১ সালের নির্বাচনে আবারো প্যানেল দেয় বিশ্বজিৎ-কামাল নিয়ন্ত্রিত বঙ্গবন্ধু পরিষদ। এই প্যানেলে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীমুল ইসলাম ও একই বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। 

২০২২ সালের নির্বাচনেও ২০২১ এর ধারাবাহিকতায় বিশ্বজিৎ-কামাল নিয়ন্ত্রিত বঙ্গবন্ধু পরিষদ প্যানেল দেয়। এতে সভাপতি প্রার্থী ছিলেন পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী ও বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম। একই নির্বাচনে কেন্দ্রীয় অনুমোদন দাবিকৃত বঙ্গবন্ধু পরিষদ থেকে সভাপতি প্রার্থী দেয়া হয় ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী ওমর সিদ্দিকী ও ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. এমদাদুল হককে।

এরকম দলাদলির ব্যাপারে নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও এক সময়কার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আইনুল হক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদের ভাঙনটা শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যক্তিস্বার্থ চিন্তা করে। মোটাদাগে যদি বলি, তাহলে বঙ্গবন্ধু আদর্শে যারা বিশ্বাসী তারা একসাথে থাকার কথা৷ যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ নিয়ে থাকে তাদেরকে আসলে বঙ্গবন্ধুর আর্দশের বলা যায় না। তারা আসলে ব্যক্তিস্বার্থটাকে প্রাধান্য দিয়ে এই পরিষদকে ভাগ করেছে।‘ 

তিনি আরো বলেন, ‘এখানে নিজেদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদ পদবীকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিভাজনগুলো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স বাড়ার সাথে সাথে শিক্ষক সমিতিরও বয়স বাড়ছে। তাই সকলের উচিত ম্যাচিউর আচরণ করা। আদর্শের জায়গাগুলো ঠিক রেখে সর্বোপরী শিক্ষকদের স্বার্থে এই শিক্ষক সমিতিকে ব্যবহার করা উচিত। ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য বারবার বঙ্গবন্ধু পরিষদ ভাগ করার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে।‘

এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু পরিষদের একাংশের সভাপতি সাইদুল আল-আমিন বলেন, ‘আমি কখনোই চাই না যে আমরা বঙ্গবন্ধু পরিষদ দুইটা থাকি। আসলে বঙ্গবন্ধু পরিষদ মানে তো বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে চর্চা করবো বা বঙ্গবন্ধুর নীতি আদর্শকে নিয়ে আমরা থাকবো। আমরা প্রথম থেকেই আছি। কিন্তু পরবর্তীতে একটি গ্রুপ নতুন করে বঙ্গবন্ধু পরিষদ বানালো। সেটিও বেশীদিন হয়নি। যদি কেউ সরে যায় বা স্বার্থের দ্বন্দ্বে কেউ যদি নতুন কিছু করতে চায় তাহলে আমাদের কী করার আছে! ‘

তিনি আরো বলেন, ‘কেন্দ্রের অনুমোদন খুব মজার একটি বিষয়। আমরা বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধুর নীতি আদর্শকে চর্চা করি৷ এখানে অনুমোদন করার কিছু নেই। ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের আশেপাশে অসংখ্য মাতৃভান্ডার আছে। সেগুলো তো নকল। তাই বলে কি মনোহরপুরে যে আসল মাতৃভান্ডার রয়েছে তারা কি তাদের নামের আগে আসল কথাটি উল্লেখ করে? সেই সূত্রে বলতে চাই,  আমাদের বঙ্গবন্ধু পরিষদ কখনোই মনে করেনি যে অনুমোদন আনতে হবে। কারণ, আমরা নীতি আদর্শকে চর্চা করি।‘

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় অনুমোদনপ্রাপ্ত বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে দুইভাগ করার কোনো সুযোগই নেই। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে যারা তারা একসাথেই আছে। কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতৃত্বেই আমরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ চালাচ্ছি। এর বাইরে বঙ্গবন্ধু পরিষদ করার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের বাইরে বঙ্গ

সার্বিক বিষয়ে কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, বঙ্গবন্ধু পরিষদ একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠন। কোনো রাজনৈতিক সংগঠন না। বঙ্গবন্ধু পরিষদ করার ক্ষেত্রে অনেকের আগ্রহ থাকার বিষয়টা ভালো। তবে অনুমোদন বিষয়টি হচ্ছে একটি প্রক্রিয়া। যদি কেউ সেই অনুমোদন না মানে বা সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে না যায় তাহলে সেটাকে আমরা স্বীকার করবো না। প্রক্রিয়ায় না আসলে তো আমরা কেন্দ্রের লোকেরা জানবো না ওখানে জামায়াতে ইসলামের লোক আছে কি না, শিবির লোক আছে কি না, কোনো জঙ্গি আছে কি না! তাহলে আমরা এটিকে কিভাবে স্বীকৃতি দিব ! 

তিনি আরও বলেন, যত বড়ই ডিগ্রিধারী হোক, যত বড়ই পিএইচডিধারী হোক, যত বিখ্যাত লোকই হোক; আমাদের প্রক্রিয়াটা অনুসরণ করেই আসতে হবে। আমরা এর বাইরে যেতে পারবো না। আমি অনুরোধ করবো ওখানে যারা আছে মিলেমিশে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আসেন। দরকার হলে আমরা কেন্দ্র থেকেও লোক পাঠাবো। এছাড়া কার্যক্রম চালানো সম্ভব না। কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের অনুমোদন ছাড়া কোনো কমিটি বৈধ না। অনুমোদন ছাড়া যারা আছেন তাদেরকে আহ্বান জানাবো কাজ না করার জন্য।

পাঠকের মন্তব্য