Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ , সময়- ১২:১১ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা নিয়ে রিটের আদেশ আগামীকাল  মনোনয়নপত্র ফিরে পাচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলম নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন শেখ হাসিনা, ১২ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য ২০১৫ থেকে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ২০৩০ প্রধান নির্বাচন কমিশনাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল ভোট প্রচারণায় সোহেল তাজের ছেলে ব্যারিস্টার তুরাজ  মহাজোটের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা । প্রজন্মকণ্ঠ  আওয়ামী লীগ শাসনামলে বাংলাদেশের উন্নয়ন চিত্র দেশের ৫৮টি নিউজ পোর্টালের ওয়েবসাইট বন্ধের নির্দেশ দিলো বিটিআরসি

১৪ ধরনের ঋণ সুবিধা দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক


অনলাইন ডেস্ক

আপডেট সময়: ২০ এপ্রিল ২০১৭ ৪:১৩ এএম:
১৪ ধরনের ঋণ সুবিধা দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক

জামানত ছাড়াই ঋণ পাচ্ছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা

গ্রাহকের বিভিন্ন চাহিদা মেটাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ঋণ সুবিধা দিয়ে থাকে। দেশের দ্রুত বর্ধমান ব্র্যাক ব্যাংকেরও বেশ কিছু ঋণ সুবিধা রয়েছে। পৃথক ১৪টি ঋণসেবা রয়েছে ব্যাংকটির। যার মধ্যে ১০টিই ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য। রয়েছে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পৃথক ঋণ সুবিধাও। 

সেলারি লোন : একজন স্থায়ী বেতনভুক্ত চাকরিজীবী এই ঋণ সুবিধা নিতে পারবেন। আবেদনকারীর বেতনের ১৫ গুণ পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয় এ সার্ভিসের মাধ্যমে। সুদের হার ১৯ শতাংশ থেকে ১৯.৫ শতাংশ। ১২ থেকে ৬০ মাস মেয়াদে সমান কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করা যাবে। আবেদনকারীর মাসিক বেতন নিম্নে ১২ হাজার টাকা হতে হবে। ২৩ থেকে ৬০ বছর বয়সী সরকারি-বেসরকারি যেকোনো চাকরিজীবী এই সার্ভিসের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে। আর এ জন্য কোনো অতিরিক্ত জামানতও দিতে হবে না। বিদ্যমান সুদের হার থেকে ১ শতাংশ কর অবকাশ পাবে ঋণ গ্রহীতা। এই ঋণসেবা পেতে আবেদনকারীকে সর্বশেষ ছয় মাসের ব্যাংক হিসাব, বেতনের রনিদ, জাতীয় পরিচয়পত্র ও এক বছরের চাকরির অভিজ্ঞতার কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এ ছাড়া ১৫ শতাংশ প্রসেসিং ফি ও ঋণের অর্থের ওপর মূসক দিতে হবে। অগ্রিম সেটেলমেন্ট ফি দিতে হবে ১ থেকে ২ শতাংশ হারে। 

ব্র্যাক ব্যাংক অটো লোন : ঋণ নিয়ে নতুন কিংবা রিকন্ডিশন্ড গাড়ি কিনতে চাইলে ব্র্যাক ব্যাংক অটো লোন যে কারো জন্য হতে পারে সহজ সমাধান। এই ঋণের পরিমাণ গাড়ির মূল্যের ৯০ শতাংশ। তবে তা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত। এক থেকে পাঁচ বছর মেয়াদে পরিশোধ করা যাবে। সুদের হার ১৫-১৬ শতাংশ। মাসিক ২৫ হাজার টাকা স্থায়ী বেতনভুক্ত কর্মকর্তা এবং ৩৫ হাজার টাকা উপার্জনক্ষম ব্যবসায়ী, স্বনির্ভর ও জমির মালিকরা এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে চাকরির সময়কাল কমপক্ষে এক বছর আর ব্যবসার ক্ষেত্রে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বয়সসীমা ২১ থেকে ৬৫ বছর পর্যন্ত। আবেদনে জন্য গত এক বছরের ব্যাংক হিসাব, গাড়ির মূল্য বিবরণী, ব্যক্তিগত টিআইএন সনদপত্র, বেতনের রসিদ (বেতনভুক্ত কর্মকর্তার জন্য), ট্রেড লাইসেন্স (ব্যবসায়ীর জন্য), মেমোরেন্ডাম অফ আর্টিকেল (লিমিটেড লয়াবিলিটি কম্পানির ক্ষেত্রে), জমির কাগজপত্র অথবা ভাড়ার রসিদ (জমির মালিকের ক্ষেত্রে) জমা দিতে হবে। প্রসেসিং ফি ঋণের ১ শতাংশ। 

আপন ঘর হোম লোন : ব্র্যাক ব্যাংকের গৃহঋণের নাম আপন ঘর। নির্মাণাধীন, আংশিক নির্মিত, সম্পূর্ণ নির্মিত অথবা ব্যবহৃত অ্যাপার্টমেন্ট কিংবা বাড়ি কেনার জন্য এই ঋণ দেওয়া হয়। এমনকি বাড়ির সংস্কার, পরিবর্ধন বা সম্প্রসারণের জন্যও ঋণ দেওয়া হয়। ঋণ অধিগ্রহণের মাধ্যমে অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চলমান গৃহঋণটি ব্র্যাক ব্যাংকে স্থানান্তরেরও সুযোগ রয়েছে। সুদের হার ১১.৫০ শতাংশ। ঋণ পরিশোধের সর্বোচ্চ মেয়াদ ২০ বছর। প্রসেসিং ফি ঋণের পরিমাণ ১৫ লাখ পর্যন্ত হলে ২ শতাংশ। আর ১৫ লাখের বেশি হলে ১.৫০ শতাংশ। তিন বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন যেকোনো স্থায়ী বেতনভুক্ত চাকরিজীবী এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে মাসিক বেতন কমপক্ষে ২৫ হাজার টাকা হতে হবে। ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে মাসিক আয়ের সর্বনিম্নসীমা ৩০ হাজার টাকা। আপন ঘর গৃহঋণের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত সম্পত্তিটি অবশ্যই ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকা অথবা বৃহত্তর ঢাকা যেখানে রাজউক ক্রয় অনুমোদন আছে এমন এলাকার মধ্যে অবস্থিত হতে হবে। 

কুইক লোন বা দ্রুত ঋণ : ব্যবসায়ী কিংবা স্বনির্ভর ব্যক্তিদের দ্রুত অর্থের সংস্থান করতেই ব্র্যাক ব্যাংকের কুইক লোনের ব্যবস্থা। স্বনির্ভর ব্যক্তি বলতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, স্থপতি, হিসাবরক্ষকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের বোঝানো হয়েছে। মাসিক ২০ হাজার টাকা উপর্জনক্ষম ২৩ থেকে ৬৫ বছর বয়সী যে কেউ এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবে। ঋণের পরিমাণ এক লাখ টাকা। আর এ জন্য কোনো জামানত দিতে হবে না। ১২ থেকে ৬০ মাস মেয়াদে কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করা যাবে। এ জন্য আবেদনকারীকে গত এক বছরের ব্যাংক হিসাব, ট্রেড লাইসেন্স এবং টিআইএন সনদপত্র দিতে হবে। প্রসেসিং ও অগ্রিম সেটেলমেন্ট ফি অন্যান্য ঋণের মতোই। 

এসএমই ব্যাংকিং : ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ব্র্যাক ব্যাংকের ১০টি ঋণ কার্যক্রম রয়েছে। ব্যাংকটির হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স জিশান কিংশুক খান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা এসএমই ব্যাংকিংকে গুরুত্ব দিয়ে থাকি। আমার মনে করি, ঢাকার বাইরে যে মানুষগুলো গ্রামে আছে, তারাই আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। ক্ষুদ্র ও মাঝারি এইসব উদ্যোক্তা ছাড়া অর্থনৈতিক মুক্তি সম্ভব নয়। ব্র্যাক ব্যাংক সব ধরনের উদ্যোক্তাদের পাশে আছে। আমরা তিন লাখ থেকে শুরু করে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত এই খাতে ঋণ দিচ্ছি। এ পর্যন্ত আমরা সোয়া তিন লাখ মানুষকে এসএমই ঋণ দিয়েছি। এই ঋণের পরিমাণ সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা। এসব ঋণের ৯৮ শতাংশই জামানত ছাড়া।' ঋণ অনুমোদন করাতে কোনো অদৃশ্য খরচ আছে, কিনা জানতে চাইলে জিশান কিংশুক খান বলেন, 'এখন কোনো অদৃশ্য খরচ নেই। তিন বছর আগে হয়তো এটা ছিল। কিন্তু এখন এটা নেই। আমরা একটা ক্যাম্পেইন চালাচ্ছি গ্রাহক অধিকার নিয়ে, যেখানে আমরা বলছি সমস্ত প্রকার চার্জ গ্রাহককে আগেই জানাতে হবে। আমাদের মাঠপর্যায়ের সকল কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া আছে।' 

অনন্য : ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য অনন্য ঋণের মাধ্যমে দুই থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়। সুদের হার নতুন ঋণের ক্ষেত্রে ১৭.৮ শতাংশ। পরবর্তী ঋণের জন্য প্রথমবার সুদের হার ১৭.২৫ শতাংশ আর দ্বিতীয়বার ১৭ শতাংশ। 

অপূর্ব : মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ১৭ শতাংশ হারে ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে অপূর্বর মাধ্যমে। পরিশোধের মেয়াদ ১২ থেকে ৩৬ মাস পর্যন্ত। 

আরোগ্য : ক্ষুদ্র এবং মাঝারি পরিমাপের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসেবাদাতাদের জন্য সুবিধা দিতে ব্র্যাক ব্যাংকের আরোগ্য ঋণ। তিন থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত এই ঋণ পরিশোধ করা যাবে ১২ থেকে ৪৮ মাসের মধ্যে। সুদের হার ১৭.২৬ শতাংশ। 

দ্বিগুণ : এই খাতে ছয় থেকে ৩০ লাখ টাকার ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ১২ থেকে ৩৬ মাস পর্যন্ত। আর একক কিস্তিতে তিন থেকে ৯ মাস। সুদের হার ১৭ থেকে ১৭.৮ পর্যন্ত। 

প্রথমা : নারী উদ্যোক্তার জন্য এই ঋণের আওতায় দুই লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়। সুদের হার ১৫ শতাংশ। পরিশোধের মেয়াদ ১২ থেকে ৩৬ মাস পর্যন্ত। 

বিজনেস ঋণ : বিজনেস ঋণের মাধমে ১০ থেকে ৫০ লাখ টাকা ঋণসেবা দেওয়া হয়। সুদের হার ১৭.৮ শতাংশ। পরিশোধের মেয়াদসীমা ১০ থেকে ২০ লাখ টাকার জন্য ১২ থেকে ৪৮ মাস। ২০ থেকে ৫০ লাখ টাকা ঋণের জন্য ১২ থেকে ৬০ মাস পর্যন্ত। 

সাপ্লাইয়াসং অ্যান্ড ডিস্টিবিউটর : সরবরাহজনিত ব্যবসার ক্ষেত্রে সাপ্লাইয়ার্স ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে। ঋণের পরিমাণ তিন থেকে ১০ লাখ টাকা। সুদের হার ১৭.২৫ শতাংশ। আর পরবর্তী ঋণের জন্য ১৭ শতাংশ। এ ছাড়া ক্ষুদ্র এবং মাঝারি উদ্যোক্তাদের আমদানিমুখী ব্যবসার জন্য আর্থিক সেবা দিতে আছে ট্রেড প্লাস। ঋণের মাত্রা এক থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত। পরিশোধের মেয়াদ সর্বোচ্চ ছয় মাস। ম্যানুফ্যাকচারিং উদ্যোক্তাদের জন্য রয়েছে তিন থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থা। আর ব্যবসায়িক প্রয়োজনে নিজস্ব বাড়ি বা বাণিজ্যিক ভবনের জন্য জামানতের বিপরীতে দেওয়া হচ্ছে ১০ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৫ কোটি টাকা।।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top