Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮ , সময়- ১২:৩৯ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
রাসেল, রাসেল তুমি কোথায় ? বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্পিকার আজ শোক দিবস : বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে আজ শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু হত্যা ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা  বিশ্বের বসবাসের অনুপযুক্ত শহরগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় ঢাকা ১৫ আগস্টের রাত বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কজনক রাত : আইনমন্ত্রী এশিয়া কাপের জন্য ঘোষিত ৩১ সদস্যের প্রাথমিক দল জনগণ খুশি থাকলেই আমাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সার্থক হবে : ওবায়দুল কাদের মায়া চৌধুরীর ১৩ বছর সাজার রায় বহাল থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত ৭ অক্টোবর

না, ওদের কোনও দেশ নেই ! 


সম্পাদকীয়

আপডেট সময়: ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১২:২১ এএম:
না, ওদের কোনও দেশ নেই ! 

সম্পাদকীয় - রাষ্ট্রহীন নাগরিকের পরিচয়েই চলে গেছে, চলে যাচ্ছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। ওঁরা রোহিঙ্গা মুসলিম। বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেটলেস কমিউনিটি। প্রাণের দায়ে ভিটেমাটির আশা ত্যাগ করে মায়ানমার ছেড়ে পালাচ্ছেন এই রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশে আছড়ে পড়ছে উদ্বাস্তু স্রোত। 

কেউ গুলিবিদ্ধ, কেউ আগুনে পুড়ে ছটফট করছেন, কারো পা উড়ে গেছে ল্যান্ডমাইনে। শরীরের ভাঁজে ভাঁজে যন্ত্রণা। অনাহারে-অর্ধাহারে দিনের পর দিন পাহাড়, জঙ্গল, নদী পার হয়ে যখন বাংলাদেশে ঢুকবেন ঠিক তখনই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন অসহায় রোহিঙ্গারা। কেউ মরছেন নৌকাডুবিতে, কেউবা যন্ত্রণায় কাঁতরাতে কাঁতরাতে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছেন। আবার কাউকে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে এসেই গুলি করে হত্যা করছে মিয়ানমার সৈন্যরা। 

গত কয়েকদিনে দেড় লক্ষের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমের ঠাঁই হয়েছে কক্সবাজারের আশ্রয় শিবিরে। চরম মানবিক সঙ্কটের মুখে এই উপমহাদেশ। মায়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের ঠাঁই দিতে নারাজ। মানবাধিকার শব্দটা এখানে অভিধানের বাইরে। তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে এতদিন রাখাইনে কোনওভাবে কাটছিল দিন। এখন তারও আর জো নেই। বাঁচতে চাইলে পালাতে হবে। যদি বা একে বাঁচা বলে।

মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে গত দু-সপ্তাহে দেড় লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা পা রেখেছেন বাংলাদেশে। কক্সবাজারের কাছে উদ্বাস্তু শিবিরে আপাতত ঠাঁই হয়েছে। কিন্তু, সেই বা আর কতদিন! ব্রিটিশ ইন্ডিয়ায় রোহিঙ্গাদের একটা বড় অংশ পা রেখেছিল আরাকানে। এখনকার মায়ানমার ১৮২৩ সালের পরে সে দেশে যাওয়া কাউকে নাগরিকত্ব দিতে নারাজ। রোহিঙ্গারা তাই রাখাইনে অবমানব। 

পরিচয় নেই, স্বাধীন চলাফেরার অধিকার নেই। অন্য কোথাও চলে যাওয়ারও তো উপায় নেই। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিজেদের বলে মানে না। যাঁরা ঢুকে পড়েছেন ভারতে, তাঁদের ফিরিয়ে দিতে চায় দিল্লিও। গত মাসে আচমকাই মায়ানমারের রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে বসে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি নামে একটি সংগঠন। পাল্টা এথনিক ক্লিনসিংয়ে নেমে পড়ে রাষ্ট্র।

খাবার নেই। জল নেই। আছে আগুনে পোড়া বাড়ি, খুন-ধর্ষণের ভয় আর শিশুদের কান্না। তাই ওঁরা ভিটে-মাটি ছেড়ে চলেছেন বাংলাদেশে। যদি প্রাণটা বাঁচে। শান্তির নোবেল জয়ীর মুখে আজ কোনও কথা নেই। দু-দিন পর প্রতিবেশী দেশও যখন খেদিয়ে দিতে চাইবে, তখন কী হবে জানা নেই। ভবিষ্যত নিয়ে ভাবার সময় নেই। প্রাণে বাঁচতে শুধু বর্তমানে বেঁচে থাকার চেষ্টা।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top