Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ , সময়- ৫:৪৫ অপরাহ্ন
Total Visitor:
শিরোনাম
উন্নয়নের জন্য দুর্ভোগ মেনে নিতে হবে: কাদের প্রশ্ন ফাঁসে সরকারি লোকজন জড়িত : দুদক রংপুর সিটি নির্বাচন যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয় তা হবে বিএনপির সদিচ্ছাতেই জেরুজালেম: মার্কিন স্বীকৃতি বাতিলে জাতিসংঘে খসড়া প্রস্তাব ঢাকা উত্তরে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে নির্বাচন রাজধানীর দুই প্রান্তে এক লাশের কয়েক টুকরো মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধা আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসের দায়িত্ব নিলেন রাহুল গান্ধী জেরুজালেম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে গিয়ে প্রস্তাব করবে মিশর যুবলীগ থেকে বহিষ্কার ভূমিমন্ত্রীর ছেলে তমাল

না, ওদের কোনও দেশ নেই ! 


সম্পাদকীয়

আপডেট সময়: ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১২:২১ এএম:
না, ওদের কোনও দেশ নেই ! 

সম্পাদকীয় - রাষ্ট্রহীন নাগরিকের পরিচয়েই চলে গেছে, চলে যাচ্ছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। ওঁরা রোহিঙ্গা মুসলিম। বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেটলেস কমিউনিটি। প্রাণের দায়ে ভিটেমাটির আশা ত্যাগ করে মায়ানমার ছেড়ে পালাচ্ছেন এই রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশে আছড়ে পড়ছে উদ্বাস্তু স্রোত। 

কেউ গুলিবিদ্ধ, কেউ আগুনে পুড়ে ছটফট করছেন, কারো পা উড়ে গেছে ল্যান্ডমাইনে। শরীরের ভাঁজে ভাঁজে যন্ত্রণা। অনাহারে-অর্ধাহারে দিনের পর দিন পাহাড়, জঙ্গল, নদী পার হয়ে যখন বাংলাদেশে ঢুকবেন ঠিক তখনই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন অসহায় রোহিঙ্গারা। কেউ মরছেন নৌকাডুবিতে, কেউবা যন্ত্রণায় কাঁতরাতে কাঁতরাতে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছেন। আবার কাউকে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে এসেই গুলি করে হত্যা করছে মিয়ানমার সৈন্যরা। 

গত কয়েকদিনে দেড় লক্ষের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমের ঠাঁই হয়েছে কক্সবাজারের আশ্রয় শিবিরে। চরম মানবিক সঙ্কটের মুখে এই উপমহাদেশ। মায়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের ঠাঁই দিতে নারাজ। মানবাধিকার শব্দটা এখানে অভিধানের বাইরে। তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে এতদিন রাখাইনে কোনওভাবে কাটছিল দিন। এখন তারও আর জো নেই। বাঁচতে চাইলে পালাতে হবে। যদি বা একে বাঁচা বলে।

মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে গত দু-সপ্তাহে দেড় লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা পা রেখেছেন বাংলাদেশে। কক্সবাজারের কাছে উদ্বাস্তু শিবিরে আপাতত ঠাঁই হয়েছে। কিন্তু, সেই বা আর কতদিন! ব্রিটিশ ইন্ডিয়ায় রোহিঙ্গাদের একটা বড় অংশ পা রেখেছিল আরাকানে। এখনকার মায়ানমার ১৮২৩ সালের পরে সে দেশে যাওয়া কাউকে নাগরিকত্ব দিতে নারাজ। রোহিঙ্গারা তাই রাখাইনে অবমানব। 

পরিচয় নেই, স্বাধীন চলাফেরার অধিকার নেই। অন্য কোথাও চলে যাওয়ারও তো উপায় নেই। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিজেদের বলে মানে না। যাঁরা ঢুকে পড়েছেন ভারতে, তাঁদের ফিরিয়ে দিতে চায় দিল্লিও। গত মাসে আচমকাই মায়ানমারের রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে বসে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি নামে একটি সংগঠন। পাল্টা এথনিক ক্লিনসিংয়ে নেমে পড়ে রাষ্ট্র।

খাবার নেই। জল নেই। আছে আগুনে পোড়া বাড়ি, খুন-ধর্ষণের ভয় আর শিশুদের কান্না। তাই ওঁরা ভিটে-মাটি ছেড়ে চলেছেন বাংলাদেশে। যদি প্রাণটা বাঁচে। শান্তির নোবেল জয়ীর মুখে আজ কোনও কথা নেই। দু-দিন পর প্রতিবেশী দেশও যখন খেদিয়ে দিতে চাইবে, তখন কী হবে জানা নেই। ভবিষ্যত নিয়ে ভাবার সময় নেই। প্রাণে বাঁচতে শুধু বর্তমানে বেঁচে থাকার চেষ্টা।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top