Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮ , সময়- ১:৫১ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
বিকল্প ধারার তিন শীর্ষ নেতাকে বহিস্কার করে নতুন কমিটি গঠন শহীদ মিনারে আইয়ুব বাচ্চুকে ভক্ত, অনুরাগীসহ সর্বস্তরের মানুষের শেষ শ্রদ্ধা বাংলাদেশের উন্নয়নে অংশীদার হতে চান সৌদি যুবরাজ | প্রজন্মকণ্ঠ ঐক্যফ্রন্ট বিজয়ী হলে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন ? প্রশ্ন কূটনীতিকদের   দেশের বৃহত্তর আন্দোলনের স্বার্থে জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করা হবে : নজরুল ইসলাম জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি : হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে ক্রিকেট বোর্ড | প্রজন্মকণ্ঠ সৌদি ঘাতক টিমের ১ সদস্য গাড়িচাপায় নিহত : তুর্কি দৈনিক 'ইয়ানি শাফাক' নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা হতে পারে : ইসি সচিব হেলালুদ্দীন

আজ ২ এপ্রিল, কেরানীগঞ্জ গণহত্যার ভয়াল দিন  


কামাল পাশা চৌধুরী 

আপডেট সময়: ২ এপ্রিল ২০১৮ ৩:১৩ পিএম:
আজ ২ এপ্রিল, কেরানীগঞ্জ গণহত্যার ভয়াল দিন  

ফেসবুক স্ট্যাটাস : ১৯৭১ সালে এই দিনে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী তাদের সংগঠিত বাংলাদেশের বৃহত্তম গণহত্যা গুলোর একটি ঘটিয়েছিল কেরানীগঞ্জে। শুধু হত্যার দিক থেকেই বৃহত্তম নয় নৃশংসতার দিক দিয়েও তা সভ্যতার ইতিহাসের এক কলংকজনক অধ্যায়। সেই বিষাক্ত ক্ষত এখনও দেহে ও মনে বয়ে বেড়াচ্ছেন বুড়িগঙ্গার পারের আসংখ্য নারী পুরুষ।

সেদিন শুক্রবার ভোর থেকে শুরু হওয়া নয় ঘণ্টার রোমহর্ষক গণহত্যাটি সংঘটিত হয় কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা, শুভাড্যা ও কালিন্দী তিনটি ইউনিয়নে । ঢাকার আশে পাশের এলাকায় পাক বাহিনীর পরিকল্পিত গণহত্যার মাঝে জিঞ্জিরার গণহত্যাটিই প্রথম। এই এলাকাটি ছিল হিন্দুপ্রধান। আওয়ামীলীগের শক্ত ঘাটি হিসাবেও এর পরিচিতি ছিল । 

তাছাড়া ২৫ শে মার্চে ঢাকা থেকে পালিয়ে বহু মানুষ এই এলাকায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল স্থানীয় মানুষদের বাড়িতে। বিশেষ করে আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের বহু নেতাকর্মী কেরানীগঞ্জ থেকে পাকসেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতিও নিচ্ছিল। ২৬ মার্চেই কেরানীগঞ্জের থানার সব অস্ত্র লুট করে আওয়ামী-ছাত্রলীগের নেতা ও কর্মীরা। অস্ত্র লুটে বাধা দিতে গিয়ে নিহত হয় অনেক অবাঙ্গালী পুলিশ।

এই কেরানীগঞ্জ দিয়েই তাজউদ্দীন আহমদ, আব্দুর রাজ্জাক সহ আওয়ামীলীগের প্রথম সারির বহু নেতা ঢাকা থেকে ভারতে গিয়েছিলেন। 

কেরানীগঞ্জের মানুষ তখন ছিল ঘুমে অচেতন। তাদের ঘুম ভাঙ্গে পাকসেনাদের মর্টার শেল ও মেশিনগানের শব্দে।পাকি নরপশুরা কেরানীগঞ্জের নিরীহ জনগনকে হত্যার প্রস্তুতি নিচ্ছিল রাতভর। কেরানীগঞ্জকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়েছিল যেন কোন লোক পালিয়ে যেতে না পারে। এই হত্যাযজ্ঞটি পরিচালনা করে কুখ্যাত পাক ব্রিগেডিয়ার রশিদ। মিটফোর্ড হাসপাতাল ও এর পার্শ্ববর্তী মসজিদের ছাদের উপর থেকে পাকসেনা অফিসাররা এই পরিকল্পিত নরহত্যাকে পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণ করে । উল্লেখ্য যে, মসজিদের উপর থেকে ফ্লেয়ার ছুঁড়ে গনহত্যা শুরু করার জন্য সিগনাল দেওয়া হয়েছিল। 

কেরানীগঞ্জে পৌঁছেই পাকসেনারা প্রথমে জিঞ্জিরা ও বড়িশুর বাজা্রে করডাইট পাউডার ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। মানুষ যে যে দিকে পারে দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে প্রাণের ভয়ে। যে যেখানে পারে আত্বগোপণ করে। জনোয়ার পাকসেনারা চারদিক থেকে নির্বিচারে গুলি চালায় নারী পুরুষ সবার উপর, এমনকি মায়ের কোলের শিশুসহ মা দু'জনকেই ঝাঁজড়া করে দেয় সয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে । পুড়িয়ে দেওয়া হয় গ্রামের পর গ্রাম । তুলে নেওয়া হয় যুবতী মেয়েদেরকে । সবচেয়ে অমানবিক ঘটনাটি ঘটে মান্দাইল ডাকের পুকুরের পারে। ষাট জন নিরপরাধ মানুষকে দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ার করা হয়। পাশবিক অত্যাচার করে এগার জন মহিলাকে হত্যা করা হয় কালিন্দ গ্রামের এক বাড়িতে ( দৈনিক বাংলা, ১নভেম্বর ১৭৭২)। পুরো কেরানীগঞ্জ এলাকায় মৃত মানুষের দেহ বহুদিন রাস্তায়, ঝোপঝাড়ে, পুকুর পাড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল । এই নয় ঘণ্টার পাশবিক গণহত্যায় দুই হাজারের বেশী নিরীহ মানুষ নিহত হয় । 

এই গনহত্যার বিষয়টি পাকিস্তান টেলিভিশনে ২রা এপ্রিল প্রচার করে । বলা হয়েছিল, যে সব বিছিন্নতাবাদি ,দুস্ষ্কৃতিকারী কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরায় আশ্রয় নিয়েছিল পাক সেনা বাহিনী তাদের উপর সামরিক একশন নিয়েছে । ৩রা এপ্রিল মর্নিং সান পত্রিকা এই গনহত্যাকে নগ্ন সমর্থন দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করেছিল। উল্লেখ করা হয়েছিল যে এই সামরিক ব্যবস্হার মধ্য দিয়ে কেরানীগঞ্জকে মুক্ত করা হল দুষ্কৃতিকারীদের হাত থেকে।

এক বালুচ সৈন্যর সাক্ষাতকারেও এই গণহত্যার কিছুটা নমুনা পাওয়া যায়-“...we were told to kill hindus and kafirs (non-believers in God). One day in June, we cordoned a village and were ordered to kill the kafirs in that area. We found all the women reciting from the Holy Quran and the men holding special congregational prayers seeking God’s mercy. But they were unlucky. Our commanding officer ordered us not to waste any time”.( comfession of a Pakistani Soilder)।

ফেসবুক স্ট্যাটাস লিঙ্ক 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top