Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, শনিবার, ২৬ মে ২০১৮ , সময়- ৬:০৫ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী আজ বাংলাদেশে স্রোতের মতো রোহিঙ্গা, সুনামির মতো মাদক পাঠাচ্ছে মিয়ানমার :  ওবায়দুল কাদের  এবার এমপি বদির বেয়াই ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত  বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‌‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন শেখ হাসিনা ভারত থেকে এক বালতি পানিও আনতে পারেননি : রিজভী আমি সারা বিশ্বের শিশুদের প্রধানমন্ত্রী হতে ওদের ভালোবাসব : প্রিয়াঙ্কা প্রধানমন্ত্রী কোলকাতা যাচ্ছেন আজ  আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আরও নিহত ১০ হাসিনাদি’র সঙ্গে একটি মিটিং রয়েছে, তিস্তা চুক্তির নয় : মুখ্যমন্ত্রী মমতা মাদকের ৩৫০ গডফাদার, শীর্ষে আছে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য বদির নাম

খুলনা সিটির পর গাজীপুরেও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী আ'লীগ  


নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রজন্মকণ্ঠ

আপডেট সময়: ১৮ মে ২০১৮ ১২:২১ এএম:
খুলনা সিটির পর গাজীপুরেও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী আ'লীগ  

সদ্য অনুষ্ঠিত খুলনা সিটির চেয়ে আরও ভালো ব্যবধানে গাজীপুরে দলীয় প্রার্থী বিজয়ী হবে বলে আশাবাদী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। শাসক দলের নেতারা তাদের এমন আশাবাদের পক্ষে বেশ কিছু যুক্তি তুলে ধরেছেন, তা হলো- খুলনায় আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করায়, গাজীপুর আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপরও মনস্তাত্ত্বিক চাপ থাকবে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার। খুলনার চেয়ে গাজীপুরে আওয়ামী লীগের ভোট বেশি এবং খুলনা সিটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হওয়ায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে।

২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর কাজে পরাজিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা। গত ১৫ মে অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে জয়ী তালুকদার আব্দুল খালেক প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে পরাজিত করেছেন। ২০১৩ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির কাছে প্রায় ৬০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন তালুকদার খালেক। গাজীপুর সিটির বিগত নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমতউল্লাহ খানকে প্রায় এক লাখ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপক এম এ মান্নান। গাজীপুর জেলা ও মহানগর, সিটি করপোরেশনের মধ্যকার এক সংসদ সদস্যের মধ্যে দলীয় সাংগঠনিক কোন্দল প্রকট।

খুলনা ও গাজীপুরে ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগের নিজ দলের মধ্যে বিরোধ ছিল চরমে। কিন্তু এবার আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের সার্বিক তদারকির কারণে এবার খুলনায় ঐক্যবদ্ধ ছিল আওয়ামী লীগ। এর ধারাবাহিকতায় গাজীপুরেও পুরো আওয়ামী লীগকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নিয়ে এসে খুলনার মতো জয় চায় ক্ষমতাসীনরা। 

‘খুলনা বিএনপির ঘাঁটি’ বিবেচনায়- এখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জয়ী হওয়ায়, গাজীপুরেও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে আওয়ামী লীগের। এখানে আওয়ামী লীগের বড় শত্রু দলের নেতাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব-কোন্দল। আগামী ২৬ জুন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে পর্যাপ্ত সময় থাকায় আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড সে কোন্দল নিরসনে মনোযোগ দিতে পারবে।

আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, এ সময়ে গাজীপুর আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যকার বিভেদ দূর করতে দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড কাজ করবে। আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের এক নেতা আজকালের খবরকে বলেন, খুলনার মতো নেগেটিভ জায়গায় যদি আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে পারে; গাজীপুরে কেন পারবে না। দলের স্বার্থে খুলনার নেতাদের মতো ঐক্যবদ্ধ হতে গাজীপুর আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বেড়েছে। আর গাজীপুরে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ হলে দলের প্রার্থীর সুনিশ্চিতভাবে বিজয়ী হবে। 

খুলনা নির্বাচনের পর দলের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে একটু বাড়তি চাপের কথা স্বীকার করেছেন গাজীপুরের স্থানীয় নেতারা। তারা বলছেন, খুলনা সিটিতে জয়লাভের পর আমাদের নেতাকর্মীরা জয়ের ব্যাপারে এখন উজ্জীবিত। দলের মধ্যে এখনও যেটুকু অনৈক্য আছে তা অচিরেই দূর হয়ে যাবে। দলীয় মেয়র প্রার্থীকে বিজয়ী করতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামবে। গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বড় দল। আর বড় দলে বিরোধ থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু শেখ হাসিনার প্রার্থীকে জয়ী করতে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মান-অভিমান ভুলে মাঠে নামবে বলে বিশ্বাস করি। নৌকার জয় হবে ইনশাআল্লাহ।

গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ বলেন, খুলনার বিজয় আমাদের গাজীপুরের বিজয়কে আরও সহজ করে তুলেছে। মানুষ উন্নয়নের কথা ভেবে খুলনায় ভোট দিয়েছে। একই অবস্থা গাজীপুরেও সৃষ্টি হয়েছে। গাজীপুরে আমরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হব।

ক্ষমতাসীন দলের নেতারা জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর প্রথমবারের মতো ভোটের মাঠে মুখোমুখি হয় নৌকা ও ধানের শীষ। আদালতের নির্দেশে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পর গোটা দেশের নজর ছিল খুলনা সিটি নির্বাচনে। এই নির্বাচন প্রশ্নমুক্ত হবে কিনা- তা নিয়ে সংশয় ছিল আওয়ামী লীগের অনেকের মনেও। কিন্তু দিনশেষে প্রশ্নমুক্ত নির্বাচন হওয়ায় সন্তুষ্ট আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। খুলনা সিটি নির্বাচনের আগের দিন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ ১৪টি পদের মধ্যে ১২টি পদে বিজয়ী হয়। টানা দুই নির্বাচনে জয়ের ধারা আগামী সব নির্বাচনে অব্যাহত চায় আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ বিষয়ে বলেন, খুলনা সিটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে এতিমের টাকা আত্মসাৎকারী, অর্থ পাচারকারী, দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের দল বিএনপি-জামায়াত ক্রমাগত জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। তাদের জন্য আরও বড় পরাজয়ের পরিণতি অপেক্ষা করছে সামনে। 

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে, সে আভাস পাওয়া গেছে খুলনা সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে। দেশের মানুষ যে আজকে উন্নয়ন অগ্রযাত্রার পথে সেটা আবারও প্রমাণ হয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। গাজীপুর সিটি নির্বাচনসহ আগামী সব নির্বাচনে জনগণ উন্নয়নের প্রতীক নৌকায় ভোট দিবে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, খুলনার তুলনায় গাজীপুর আওয়ামী লীগের জন্য আরও বেশি উর্বর জায়গা। দেশের মানুষ এখন উন্নয়নের ধারাবাহিকতার মুডে আছে। তারা উন্নয়ন চায়। আর এজন্য আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই। যে দলের প্রধান দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত, সে দলের প্রার্থীকে মানুষ কেন ভোট দিবে।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top