Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮ , সময়- ৩:১৪ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
মুসল্লিরা জায়নামাজ ও ছাতা ছাড়া অন্য কিছু নিতে পারবেন না : ডিএমপি কমিশনার দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে জামাতের সময়সূচী  ব্রাজিলের সাপোর্টার প্রধানমন্ত্রী, একই দলের সমর্থক জয় মুসলিম উম্মাহর ঐক্যে ফাটল সৃষ্টি করতেই ইসরাইলের সৃষ্টি নূর চৌধুরী'কে দেশে ফেরাতে কানাডার আদালতে মামলা করেছে সরকার নির্বাচনী কৌশলগত কারনেই জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ছে বিএনপি বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচে ৫-০ ব্যবধানে জয় পেল স্বাগতিক রাশিয়া বাগেরহাট ৩ আসনের উপ-নির্বাচনে নির্বাচিত এমপি'র শপথগ্রহণ ঘরমুখো মানুষ, চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন ট্রেনের যাত্রীরা

শিক্ষিকার কান্না-ভূল স্বীকার এবং ক্ষমা


হায়দার আলী

আপডেট সময়: ২৩ মে ২০১৮ ১:০০ এএম:
শিক্ষিকার কান্না-ভূল স্বীকার এবং ক্ষমা

ফেসবুক স্ট্যাটাস :  স্কুল শিক্ষিকার নির্মম পিটুনিতে ঋদ্ধির হাতের জখম স্থানটি দেখার পর থেকেই আমি এবং আমার স্ত্রী সারারাত ঘুমাতে পারিনি। কোনভাবেই মেনে নিতে পারছিলাম না নির্যাতনের বিষয়টি। বাচ্চার ওই অবস্থা দেখে বুঝতে পারছিলাম না কি করা দরকার ? 

অনেক কষ্ট নিয়ে ঋদ্ধির আঘাতের বিষয়টি ফেসবুকের মাধ্যমে তুলে ধরেছিলাম আপনাদের কাছে। আপনারা সবাই আমার সন্তানের ব্যথায় ব্যথিত এবং মর্মাহত হয়েছেন। বিভিন্ন পরামর্শ এবং আইনগত দিকগুলো তুলে ধরে আমাকে সাহস দিয়েছেন। আমি আপনাদের সবার কাছে অনেক অনেক কৃতজ্ঞ এবং আপনাদের কাছে ঋনি। 

আপনাদের পরামর্শ অনুযায়ি স্কুলের প্রধান শিক্ষক, পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও মিরপুর থানর অফিসার ইনচার্জ বরাবর তিনটি পৃথক অভিযোগ লিখি। সিদ্ধান্তই নিয়েছিলাম আর এই স্কুলে বাচ্চাকে পড়াবো না, প্রয়োজনে অন্য স্কুলে ভর্তি করাবো। সেই মোতাবেক দুপুর ১২টায় চলে যাই স্কুলে। গিয়ে দেখা করি মনিপুর স্কুল এন্ড কলেজের (বালক-মেইন শাখা) দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম স্যারের সঙ্গে। ঋদ্ধির বিষয়টি লিখিতভাবে উনাকে জানাই এবং তিনি অবগত হয়েই অবাক এবং ক্ষুদ্ধ হন। তাৎক্ষনিক কয়েকজন শিক্ষক নিয়ে আমার সঙ্গে বসেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে ডেকে আনেন উনার কক্ষে। আমার উপস্থিতিতেই উনার কাছে বিষয়টি তুলে ধরলে অভিযুক্ত শিক্ষিকা ঘটনার জন্য ভূল স্বীকার করেন এবং ক্ষমা চান। আর কোনদিন এই স্কুলে এমন ঘটনার পুনারাবৃত্তি ঘটবে না বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। 

স্কুলের প্রধান শিক্ষকও কয়েকবার শিক্ষিকার পক্ষে ভূল স্বীকার করে দু:খ প্রকাশ করলেন। কি কারণে ঋদ্ধিকে মারা হয়েছে সেটার বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা কোন সুনিদ্দিষ্ট অভিযোগ উপস্থাপন করনেনি। প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম ওই সময় শিক্ষিকাকে বললেন, যেহেতু আপনি স্কুলের শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করেছেন, যেটা কোনভাবেই পারেন না সুতরাং আপনাকে আমরা স্কুলে রাখতে পারবো না, পরিচালনা কমিটি জানতে পারলে আপনাকে স্কুলেই ঢুকরতে দিবে না। তবে শিক্ষার্থীর অভিভাবক তিনি ক্ষমা করে দিলে আমরা বিবেচনা করবো। ওই সময় শিক্ষিকার কান্না এবং করুণ চাহনীতে নিজের ভেতরের কষ্ট কমতে থাকে। ভাবলাম যেহেতু তিনি ভূল স্বীকার করে ক্ষমা চাচ্ছে এবং লিখিতভাবে অঙ্গীকার করছেন।ওইসব ভেবে উনার চাকরি না খেয়ে রমজান মাসে ক্ষমাকেই উত্তম ভেবে একটি সুযোগ দিলাম কিন্তু বুকের ভেতরের কষ্টগুলো জমাট বেধেঁ আছে এখনও । 

বেশিরভাগ বন্ধু এবং শুভাকাংখীই আইনের আশ্রয় নিতে বলেছিলেন, কিন্তু আমি আইনের আশ্রয় নিতে পারিনি, উনাকে ক্ষমা করেছি আপনারাও আমাকেও ক্ষমা করবেন।আপনাদের সবার জন্য শুভকামনা

(বি.দ্র. এসবকিছুই হয়েছে আমার ছেলে ঋদ্ধির অগোচরে। একটুর জন্যও বুঝতে দেইনি আমরা শিক্ষিকার পিটুনিতে আমরা খুব কষ্ট পাচ্ছি কিংবা স্কুলে লিখিত প্রতিবাদ করেছি।)

ফেসবুক স্ট্যাটাস লিঙ্ক  : হায়দার আলী


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top