Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮ , সময়- ৭:১৫ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
গ্রেনেড হামলার মামলার রায়ে আমরা সন্তুষ্ট কিন্তু কিছু আপত্তি আছে : শাহরিয়ার আলম ড. কামাল বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ : খালেদা জিয়া জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে সেনাকর্মকর্তার থানায় সাধারণ ডায়েরি, তদন্তে ডিবি কেন কমিশন সভা বর্জন করেছেন কমিশনার মাহবুব তালুকদার দেশের অন্যতম বৃহত্তম পুজো হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে সিকদার বাড়ি গণমাধ্যমকর্মীদের সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা হবে সর্বোচ্চ ৩৬ ঘণ্টা  ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবিতে সম্পাদকদের মানববন্ধন, পরিষদের সাত দফা দাবি  একটি কমিশন গঠনের প্রস্তাব রেখে ‘সম্প্রচার আইন, ২০১৮’ এর খসড়া অনুমোদন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে র‌্যাব : বেনজীর আহমেদ মজুরির নতুন কাঠামো বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের অভিযোগ

ইসলাম ধর্ম প্রচারে ও প্রসারে শেখ হাসিনার ভূমিকা 


ডেস্ক রিপোর্ট

আপডেট সময়: ২৬ মে ২০১৮ ৩:০৪ পিএম:
ইসলাম ধর্ম প্রচারে ও প্রসারে শেখ হাসিনার ভূমিকা 

১৪৬৩ এদেশে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে আসা হযরত বায়েজিদ বোস্তামী (রহ.) এর অন্যতম প্রধান সহচর দরবেশ শেখ আউয়াল পরবর্তীতে প্রচারের জন্য নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বসবাস শুরু করেছিলেন। অনেক বছর পর তার তৃতীয় প্রজন্মের বংশধর শেখ বোরহানুদ্দিন ব্যবসার উদ্দেশ্যে গোপালগঞ্জে যান এবং সেখানকার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলেন তার চতুর্থ প্রজন্মের বংশধর শেখ লুৎফর রহমানের সন্তান। আর শেখ হাসিনা হলেন শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম সন্তান।

সুতরাং, জন্মগতভাবে শেখ হাসিনা ইসলামী শিক্ষা ও আদর্শে গড়ে উঠেছেন, তা নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ১৯৭৪ সালে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) সদস্য হন। ১৯৭৫ সালের ২২ মার্চ বঙ্গবন্ধু ইসলামী ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। জাতির পিতার সুযোগ্য উত্তরাধিকারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামী মূল্যবোধকে সুসংহত ও আরও বেগবান করার লক্ষ্যে ইসলামী ফাউন্ডেশনের পরিধি ও কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

ইসলাম প্রচারে নিবেদিত তাবলিগ জামায়াতের সদস্যদের স্থান সংকুলানের কথা চিন্তা করে কাকরাইল মসজিদের জায়গা বাড়িয়েছেন এবং সেখানে ভবন নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। তাবলিগ জামায়াতের জন্য টঙ্গী ইজতেমা ময়দান বরাদ্দ দিয়ে সেখানে সরকারিভাবে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছেন। ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে শেখ হাসিনা বায়তুল মোকাররম মসজিদকে একসঙ্গে পাঁচ হাজার ছয় ‘শ জন মহিলা ও বিশ হাজার পুরুষ মুসল্লির নামাজ আদায়ের স্থান সম্প্রসারণ করেন। সেই সঙ্গে বায়তুল মোকাররম মসজিদ কমপ্লেক্সকে পাঁচ তলা বিশিষ্ট ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লাইব্রেরি করে দিয়েছেন।

চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক আন্দরকিল্লা শাহী মসজিদের উন্নয়নের জন্য ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সকল বিভাগ, জেলা, উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা ইসলামী শিক্ষার প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে প্রথম ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। স্বতন্ত্র মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন করেন। সেই সঙ্গে মাদ্রাসাগুলোতে অনার্স কোর্স চালু করার অনুমতি দিয়েছেন। শেখ হাসিনার সরকারই দীর্ঘ সময় পর কওমি সনদের স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১০১০ জন কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে সরকারি চাকরি দিয়েছেন।

শেখ হাসিনার সরকার দীর্ঘদিন জ্বরাজীর্ণভাবে পড়ে থাকা মাদ্রাসা ভবনগুলোর মধ্যে ১০০০টি মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য ৭৩৮ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ এবং তার দ্রুত বাস্তবায়ন করে। কালের আবর্তে হারিয়ে যাওয়া মক্তব শিক্ষার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য শেখ হাসিনার সরকার ইতোমধ্যে ১০১০টি দারুল আরকাম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো সঠিকভাবে বর্ণনা ও পালন করার লক্ষ্যে দেশে ৭টি ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও গঠন করেছে।

২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত ৩০ কোটি ৪০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে মঞ্জুর করে ‘ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট’গঠন করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যেটা আগে ছিল না। ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা সারাজীবন মসজিদে খেদমত করেন কিন্তু শেষ বয়সে এসে তারা কিছুই পান না। বরং সবসময় তারা তাদের চাকরি চলে যাওয়ার আতঙ্কে থাকতেন।

ধর্মীয় শিক্ষাদানের পাশাপাশি আলেম-ওলামাদের কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে শেখ হাসিনা মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের ষষ্ঠ পর্যায় ১৫০০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। যার ফলে ছিয়াত্তর হাজার এবং আটান্ন হাজার আলেম-ওলামার কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। যেটি পৃথিবীর ইতিহাসে অনন্য নজিরস্বরূপ।

বাংলাদেশের ফতোয়া নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা মতবিরোধ দেখা দেয়। এমনকি দ্বন্দ্বেরও সৃষ্টি হয়। শেখ হাসিনা সেই মতবিরোধ দূর করার পাশাপাশি সঠিক ফতোয়া প্রস্তুত করার জন্য ৫ জন আলেমকে এমিকাস কিউরি মনোনীত করে তাদের মতামতের ভিত্তিতে ফতোয়া প্রদানের আইনগত অধিকার সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

শেখ হাসিনা আল-কুরআন নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ, পঠন ও অনুশীলনের জন্য ৭৪ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে আল-কুরআন ডিজিটালাইজেশন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পবিত্র কুরআন মুদ্রণ, প্রচার ও অনুবাদে সহযোগিতা করা, হিফজ, কিরাত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান, মসজিদ নির্মাণ ও সংস্কারের ক্ষেত্রে কারিগরি ও স্থাপত্যের বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ আরও কিছু বিষয়ে সৌদি সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্বাক্ষর করেছে।

শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নির্দেশনায় ২০১০ সালে পাঁচ বছর মেয়াদি হজনীতি প্রণয়ন করা হয়। ২০১০ সালে আশকোনায় হজক্যাম্পের ডরমিটরিতে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি লিফট স্থাপন করা হয়। হজযাত্রীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে ২০১১ সালে জেদ্দা হজ টার্মিনালে প্লাজা ভাড়া নেওয়া হয়েছে। যার জন্য ২০১০-১১ সালে বাংলাদেশ হজ ব্যবস্থাপনায় দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম হয়েছে।

এছাড়াও কন্যাশিশু ও বয়স্ক নারীদের ধর্মীয় শিক্ষাদানের জন্য ছয় হাজার ধর্মপরায়ণ নারীর কর্মসংস্থান করেছেন। ইসলামের দাওয়াতি কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইসলামী ফাউন্ডেশনের চল্লিশটি মিশনের পাশাপাশি আরও সাতটি মিশন কেন্দ্র স্থাপন করেছেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন, তাই ইসলামী মূল্যবোধের ব্যাপারে তিনি সচেতন। শেখ হাসিনা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন, রোজা রাখেন, পবিত্র হজব্রত পালন করেন। নিজ নিজ ধর্ম পালনের সুরক্ষাসহ সকল প্রতিকূলতা দূর করে ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসারে শেখ হাসিনার অবদানকে কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ রাখবে বলেই মনে করেন এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top