Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ১০:৩৪ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানকে আর্থিক অনুদান বন্ধের ঘোষণা আমেরিকার ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নেবেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী  ‘মদিনা সনদেই মহানবী (সা.) ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলেছেন’ : সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের হয়ে জাপার সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা  গুজব খবর : বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নিখোঁজ  ! আ'লীগ ও মহাজোটের মনোনয়ন ঘোষণা দিন পাঁচেক দেরি হবে : ওবায়দুল কাদের বিকৃত ইতিহাস থেকে দেশকে মুক্ত করতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী ঝিনাইদহে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান সমাপ্ত, আটক ১

ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী মামলা করা পরামর্শ


নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রজন্মকণ্ঠ

আপডেট সময়: ২৬ মে ২০১৮ ৭:৪১ পিএম:
ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী মামলা করা পরামর্শ

রহিম পেশায় একজন কৃষক। তাঁর সাভারের আশুলিয়াতে এক খণ্ড কৃষি জমি রয়েছে। তিনি সে জমিতে চাষাবাদ করেন। কিন্তু তার প্রতিবেশী তাঁর জমিটি গ্রাস করার জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছেন।এখন রহিম চিন্তা করছেন আইনিভাবে কীভাবে প্রতিবেশীকে মোকাবিলা করা যায়। তিনি একজন আইনজীবীর নিকট গেলেন সমস্যা সমাধানের জন্য। আইনজীবী তাঁকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী মামলা করা পরামর্শ দিলেন। 

সাধারণ ডায়েরি

ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ধারা মামলা করার প্রথম ধাপ হচ্ছে সাধারণ ডায়েরি বা জিডি। অনেক সময় অভিযোগটি গুরুতর হলে পুলিশ এ জিডি থেকেই নন-প্রসিকিউশন প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন।

এ ছাড়া কোনো ব্যক্তির কারণে পারিবারিক বা সামাজিক শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট হওয়ার, কোনো কলহ-বিবাদ তৈরির আশঙ্কা কিংবা বিরক্তিকর কোনো কাজের আশঙ্কা দেখা দিলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী প্রতিকার চাওয়া যায়।

কেউ আপনাকে অযথাই হুমকি-ধমকি দিলে, ভয়ভীতি দেখালেও ১০৭ ধারার আশ্রয় নিতে পারেন। এই ধারায় প্রতিকার সাধারণত শান্তি রক্ষার মুচলেকার মামলা বলেই পরিচিত। 

১০৭ ধারায় মামলা রুজু করে প্রতিপক্ষকে কিংবা দায়ী ব্যক্তিকে শান্তি বজায় রাখার জন্য বন্ড বা মুচলেকা সম্পাদনের জন্য বাধ্য করা যায়। এ ধরনের মামলা করতে হয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। আইনজীবীর মাধ্যমে আরজি উপস্থাপন করতে হবে। আরজিতে মূল অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম-ঠিকানাসহ কেন, কী কারণে আপনার শান্তি বিনষ্ট করছে এবং কোনো ভয়ভীতি দেখালে কখন ঘটনাটি ঘটেছে তা স্পষ্ট করে লিখতে হবে। আরজির সঙ্গে কোনো প্রমাণ থাকলে তা দাখিল করতে হবে।

কোনো সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করা থাকলে তাও দাখিল করতে হবে। ১০৭ ধারায় দায়ী কোনো ব্যক্তি জামিন পাওয়ার যোগ্য। এ ধারায় মামলার উদ্দেশ্য হলো দায়ী ব্যক্তি বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মুচলেকা সম্পাদনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির জীবনের নিরাপত্তা প্রদান করা।

অভিযোগের সত্যতা পেলে আদালত কী করবেন

১০৭ ধারায় আশ্রয় নিলে আদালত প্রাথমিক শুনানিতে অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পেলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মুচলেকা সম্পাদনের জন্য আদেশ দেবেন। তখন দায়ী ব্যক্তিকে আদালতে হাজির হয়ে মুচলেকা সম্পাদন করতে হবে। মুচলেকায় বলতে হবে ভবিষ্যতে তিনি আর কোনো ধরনের উৎপাত করবেন না এবং ভয়ভীতি দেখাবেন না। দায়ী ব্যক্তি যদি মুচলেকা সম্পাদন করতে না চান এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন, তাহলে জবাব প্রদান করতে পারেন লিখিতভাবে। এ জবাবেও ভবিষ্যতে কোনো প্রকার ভয়ভীতি দেখাবেন না কিংবা কোনো ধরনের শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ করবেন না এ মর্মে অঙ্গীকার করতে পারেন। যদি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো দোষ স্বীকার না করেন, তাহলে প্রসেডিং ড্র এর মাধ্যমে সাক্ষ্য শুরু হতে পারে আদালতে। সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী প্রমাণিত হলে মুচলেকা সম্পাদনের আদেশ দিতে পারেন আদালত। 

সাধারণত ১০৭ ধারায় মামলা করা হলেও আদালতে ১০৭ ধারার সঙ্গে ১১৭ (গ) ধারা অনুযায়ী মূলত মুচলেকা সম্পাদনের প্রতিকার চাইতে হয়। আদালতও সে অনুযায়ী আদেশ দিয়ে থাকেন। 

লেখক:  আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top