Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ৭:২৭ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
ভাসানীর আদর্শকে ধারণ করে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান  তরুণ ভোটারদের প্রাধান্য দিয়ে প্রণয়ন করা হচ্ছে আ'লীগের ইশতেহার  মওলানা ভাসানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ  বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত করা হয়নি  দাবানলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৪, নিখোঁজ সহস্রাধিক রাজনৈতিক দলগুলোর রেকর্ড পরিমান মনোনয়নপত্র বিক্রি ঐক্যফ্রন্ট সংখ্যাগরিষ্ট আসন পেলে কে হবেন প্রধানমন্ত্রী ?  আ’লীগ নেতা রেজনু ও ছাত্রদল নেতা জিলানির ফোনালাপ ফাঁস প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ইসিকে সহযোগিতার নির্দেশনা | প্রজন্মকণ্ঠ আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে চারজন নিহত | প্রজন্মকণ্ঠ

রোজার সেহেরির বরকত ও ফজিলত


ডেস্ক রিপোর্ট

আপডেট সময়: ৪ জুন ২০১৮ ৯:৪৬ পিএম:
রোজার সেহেরির বরকত ও ফজিলত

সেহরি’ উর্দু শব্দ, মূল আরবি ‘সুহুর’; এর শাব্দিক অর্থ নিদ্রাভঙ্গ, ঘুম থেকে জেগে ওঠা, রাত্রি জাগরণ প্রভৃতি। রোজা পালনের জন্য সুবহে সাদিকের আগে ভোররাতে যা কিছু খাওয়া হয়, একে উর্দুতে সাহরি আর আরবিতে সুহুর বলা হয়। রোজা পালনের জন্য সেহরি খাওয়া সুন্নত ও অধিক পুণ্যের কাজ।

ক্ষুধা না থাকলেও রমজান মাসে শেষ রাতে যে খাবার খাওয়া হয়, তা-ই সেহরি। সামান্য একটু পানি পান করাকেও সেহরি হিসেবে গণ্য করা হয়। সেহরি খাওয়ার মধ্যে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নতের ওপর আমল করা হয়। সেহরি খাওয়ার মধ্যে অফুরন্ত রহমত, বরকত, নিয়ামত ও কল্যাণ আছে। তাই নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরি খাওয়ার মধ্যে বরকত নিহিত রয়েছে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে রোজা রাখার শক্তি অর্জিত হয়। সেহরি খেলে রোজাদার সহজে দুর্বল ও মনোবলহীন হয়ে পড়েন না, সারা দিন দীর্ঘ সময়ের উপবাস বা অনাহারে থাকলেও কর্মঠ থাকার প্রাণশক্তি আসে এবং সিয়াম পালন সহ্যসীমার মধ্যে থাকে। রমজান মাসে শেষ রাতে ক্ষুধা না থাকলেও অন্তত দু-একটি খুরমা বা খেজুর অথবা অন্য কোনো জিনিস খাবেন। কিছু না হলে একটু পানি পান করবেন। এতে সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। পেট ভরে সেহরি খাওয়া জরুরি নয়, সামান্যই যথেষ্ট। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যদি কিছু না জোটে তবে একটি খেজুর এবং এক গ্লাস পানি পান করো।’ হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘তোমরা সেহরি খাও! যদি তা এক ঢোঁক পানিও হয়।’ অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘তোমরা সেহরি খাও! যদিও তা এক লোকমা হয়।’

রমজান মাসে সেহরি যথাসম্ভব দেরি করে খাওয়া ভালো। তবে সুবহে সাদিকের আগে রাতের শেষ ভাগে সেহরি খাওয়া মুস্তাহাব বা পছন্দনীয়। রোজাদার ব্যক্তির যেন সাধ্যাতীত কোনো কষ্ট না হয়, এ জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) সেহরিকে সুন্নত এবং বিলম্বে সেহরি গ্রহণ করাকে মুস্তাহাব ঘোষণা করেছেন। সেহরি খাওয়ার আসল সময় সূর্যাস্ত থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত যে কয় ঘণ্টা সময়, তার ছয় ভাগের শেষ ষষ্ঠ ভাগ।

যদি কেউ এর আগে ভাত খান; কিন্তু চা, পান ইত্যাদি এ ষষ্ঠাংশে করেন, এতেও মুস্তাহাবের সওয়াব পাবেন। যদি শেষ রাতে ঘুম না ভাঙে এবং এ জন্য সেহরি খেতে না পারেন, তাহলে সেহরি না খেয়ে রোজা রাখবেন। সেহরি না খাওয়ার কারণে রোজা ছেড়ে দেওয়া বড়ই গুনাহর কাজ। যদি নিদ্রা বা অন্য কোনো কারণে কেউ সেহরি খেতে না পারেন, তাহলে সেহরি না খাওয়ায় তাঁর রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত সুবহে সাদিক না হয় অর্থাৎ পূর্ব দিগন্তে সাদা বর্ণ না দেখা যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত সেহরি খাওয়া দুরস্ত আছে। সুবহে সাদিক হয়ে গেলে তারপর আর কিছু খাওয়াদাওয়ার সুযোগ নেই। সেহরি খাওয়ার সময়সীমা সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা পানাহার করো, যতক্ষণ না কালো রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রাত পর্যন্ত রোজা পূর্ণ করো।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৭)

রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বয়ং সেহরি খেয়েছেন এবং অন্যদের খাওয়ার জন্য তাগিদ দিয়েছেন। সাহাবায়ে কিরামও সেহরি খেয়ে রোজা রাখতেন। এ সম্পর্কে সাহাবি হজরত জায়িদ ইবনে সাবিত (রা.) বলেছেন, ‘আমরা রাসুলে করিম (সা.)-এর সঙ্গে খেয়েছি।তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, সেহরি ও নামাজের মধ্যে (ফজরের) কী পরিমাণ সময় ছিল? তিনি উত্তরে বললেন, “৫০ আয়াত তিলাওয়াতের সমান।”’ মোটকথা, সেহরি দেরিতে খাওয়া উত্তম। আগেভাগে খেয়ে নেওয়া সুন্নতের বরখেলাফ। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘সেহরি বরকতময়, আল্লাহ তোমাদের যা দান করেছেন, তা তোমরা ত্যাগ করো না।

সেহরির সময় আরামের ঘুম পরিহার করে জাগ্রত হওয়া আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ ও ইবাদত। এতে শেষ রাতে ওঠার অভ্যাস হয়। কেননা শেষ রাতে আল্লাহর রহমত অবিরাম ধারায় বর্ষিত হতে থাকে। এ সময় আল্লাহ প্রেমিকেরা সৃষ্টিকর্তার কাছে কায়মনোবাক্যে মোনাজাত, নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরে লিপ্ত থাকেন।

এ সময়টি আল্লাহর পক্ষ থেকে মাগফিরাত বা ক্ষমা লাভের সর্বোত্তম সময়। সেহরির সময় জাগ্রত হওয়ার দ্বারা রোজার প্রতি বান্দার আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সেহরির ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত আছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা সেহরি গ্রহণকারীদের জন্য দোয়া করে থাকেন। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সেহরি খায়, তার ওপর আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা রহমত বর্ষণ করেন।’ (তাবারানি)


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top