Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ১২:৪০ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
হুজুরকে নিয়ে কটুক্তি দুঃখ জনক : মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিস রংপুর মেডিকেল থেকে থেকে চুরি হওয়ার ৫ দিন পর নবজাতককে উদ্ধার ট্রাম্পের হুমকির জবাবে পাল্টা হুমকি দিয়েছে সৌদি আরব নাটের গুরু ব্যারিস্টার মঈনুল শিশু আইন-২০১৩ সংস্কার কাজ সম্পন্ন, শিগগিরই সংসদে পাস হবে : রাশেদ খান মেনন দুর্গাপূজায় পটকা, আতশবাজি ও মাদক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ : ডিএমপি কমিশনার ভারতে মি-টু আন্দোলনের তীব্রতা ক্রমশ বাড়ছে পদ্মা সেতুর নামফলক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যৌন হয়রানির অভিযোগে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ  ঐক্যের নাম দিয়ে এখানে কোনো রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র হচ্ছে (ফোনালাপ) 

তৃণমূলের আওয়ামী লীগ কর্মীদের প্রত্যাশা কি ছিলো, কতটুকু পূরণ হয়েছে | প্রজন্মকণ্ঠ


মোঃ মাহমুদ হাসান

আপডেট সময়: ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ৬:১৫ পিএম:
তৃণমূলের আওয়ামী লীগ কর্মীদের প্রত্যাশা কি ছিলো, কতটুকু পূরণ হয়েছে  | প্রজন্মকণ্ঠ

উপ-সম্পাদকীয় : ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন ঢাকার তারিখে ঢাকার কে এম দাস লেন-এর বশির আহমেদ এর রোজ গার্ডেন নামক বাড়িতে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ জন্মলাভ করে, কালের বিবর্তনে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ উপহার দিয়ে দলটির নাম পরিবর্তন হয় “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ”। সময়ের ইতিবাচক এ নেতিবাক দিকের পরিক্রমায় দলটিতে আগমন-নির্গমন ঘটেছে বহুজনের। একদিকে যেমন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয় বীরদের উত্থান হয়েছে এ দলটি হতে, সেরা জাতীয় গাদ্দারদের উত্থানও এ দলটি হতেই। কিন্তু “নিজের খাইয়া নৌকা”, আর “জীবন গেলেও শেখ মুজিবের আদর্শ ছাড়বো না” টাইপের কিছু প্রকৃত মানুষ (কারো কারো মতে পাগল) এ দলটিতে ব্যাপকভাবে ছিলেন, এখনো কিছু আছেন, ভবিষ্যতে থাকবে কিনা, বলা মুশকিল। 

কেননা, এ ধরনের মুবিজপ্রেমী ও দেশপ্রেমিক পাগলদের পদ হতে, দল হতে, এলাকা হতে, এমনকি দেশ হতেও বিতাড়ন, এ দেশে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া-এর থেকে যেন কোন নিস্তার নেই। দলটি ক্ষমতার বাইরে থাকলেও এমন ঘটে, দলটি ক্ষমতায় আসলেও কর্মী-সমর্থক শুভানুধ্যায়িদের উপর এ ধরনের বর্বর নির্যাতন-নিপীড়ন যেনো বেশি ঘটে। ক্ষমতার বাইরে থাকলে বিষয়গুলি প্রকাশ হয়, ক্ষমতায় থাকাকালে এ বিতাড়নের সংবাদ প্রকাশ করতে দেয়া হয় না। তবুও, যারা এ দলটিকে নিজ প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন, তাদের একটাই চাওয়া থাকে, দলটি ক্ষমতায় থেকে দেশ পরিচালনা করুক, গড়ে উঠুক জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যখন সারা দেশবাসী নিশ্চিত; বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগই আবারও ক্ষমতায় আসছে জনগনের আশা-আকাঙ্খা অনুযায়ি দেশের উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রা অব্যাহত রাখতে। তখন, একের পর এক কর্মীদের বুকে কুঠারাঘাত করা হচ্ছে, দলের উপর মহলের কোন কোন নেতার পক্ষ হতে। কি বাক্যবাণে, কি প্রতারণা করে কর্মীর পরিবারটিকে পথে বসিয়ে দিয়ে, কি রাতারাতি পদ হতে বিতাড়ন করে। তবুও এ বেহায়ারা নির্বাচন এলেই উন্মাদ হয়ে যায়, চোর-ডাকাত, যুদ্ধাপরাধী, ব্যাঙ্ক ডাকাত, গণ-ধিকৃত যেই মার্কা পাক বা কিনুক, নৌকা জেতাতেই হবে, শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করতেই হবে। কিন্তু, সময়ের বিবর্তনে এ ধরণের পাগলের সংখ্যা কমে আসছে। 

এর দুটি কারন, প্রথমতঃ এরা সমাজে চিহ্নিত হয়ে যাচ্ছে পাগল হিসেবে, ক্ষমতার টানা ১০ বছরেও (আগামী তিন মাস সহ) এরা কার্যত ক্ষমতাহীন, গ্রামের একজন অসহায়, বৃদ্ধা হতদরিদ্র মহিলাকে একটি ভিজিডি কার্ড কিনে দেয়ার বা বিনা টাকায় পাইয়ে দেয়ার সামর্থ্য এরা দেখাতে পারেনি। দ্বিতীয়তঃ গ্রামের শহরের কোন মহল্লার ছোটখাট কোন দেন-দরবার, বিচার-সালিশে এরা কোন ভূমিকা রাখতে পারেনি, যদিও এরাই একসময়ে ন্যায়পরায়ন বিচারক হিসেবে নিজ গ্রাম বা মহল্লায় চিহ্নিত ছিলো। আমি শতভাগ নিশ্চিত যে, জামাতে ইসলামীর বর্তমানে সি-টিম বিএনপি (যা শুধু গণমাধ্যমে টিকে আছে বলে বতর্মানে “”গণ-মাধ্যম মোড়ল ফালুর দল”” হিসেবেই বিবেচিত) আগামী একাদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচনে কোনভাবেই আসবে না, তবু আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের কোন কোন নেতা রহস্যজনকভাবে এ দলটিকে ক্রেন দিয়ে টেনে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। যখন জননেত্রী শেখ হাসিনা স্বীয় মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতায় সমগ্র বিশ্বের প্রতিটি কল্যাণকর পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে বিশ্বনেত্রীর আসনে অধিষ্ঠিত; তখন ওনার নেতৃত্বাধীন দলটি কোথাও নিষ্ক্রিয় আর কোথাও চরম বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত ও জামাত-বিএনপি অনুপ্রবেশকারিদের খপ্পরে পড়ে আওয়ামী-চরিত্রবিহীন হয়ে জনবিচ্ছিন্ন। অবস্থা এমন পর্যায়ে দাড়াচ্ছে যে, বিএনপিবিহীন নির্বাচনেও ২০১৬ ইউপি ও পৌর নির্বাচনে ন্যাক্কারজনক কিছু অপখেলার দরুন আওয়ামী লীগের কপালেও গণ-বিচ্ছিন্ন তকমাটি লেগে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়তে পারে অধিকাংশ আসনে। নৌকা মার্কা কেনা বা আনুকুল্য পেতে ঋণ-ধার-সুদী করে মেম্বর-চেয়ারম্যান-কমিশনার-মেয়র প্রার্থীদের টাকা জোগাড় ও সেই টাকা কে কত পেয়েছে, এসব আলোচনা গ্রামের হাটের বা মোড়ের বা শহরের গলির মুখের চা দোকানে হওয়াতে অনেক মন্ত্রী-এমপি-নেতা ও তাদের চামুন্ডাদের মুখোশ নগ্নভাবে খুলে গেছে সাকা-নিজামীদের শাষণামলেনর লালু-ফালু-হারিসদের মতোই। এরপরেও জনমানুষের আস্থাটা একমাত্র জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনার উপরেই। কিন্তু উপায় কি গণ-মানুষের কাছে ভোট চাইতে যাওয়ার?

রাস্তা দিয়ে চলার সময়ে চোখ-কান খুলে চলি বলে আমি মনে করি এখনো কিছু পদক্ষেপ নিলে ও কিছু ঘোষণা দিলে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে ব্যালট বিপ্লব ঘটবে ১৯৭০ ও ২০০৮ এর মতোই। এখনো যাঁরা “নিজের খাইয়া নৌকা” বুকে ধারন করেন, তাঁদের প্রত্যাশার বিষয়গুলি তুলে ধরা হলো।

যেসকল বিষয় সাধারন মানুষ সরাসরি জানে এবং মানুষকে সরাসরি প্রভাবিত, লাভবান ও ক্ষতি করে এমন যেসব বিষয় আওয়ামী লীগকে বিবেচন করতে পারে, সেগুলি হলোঃ 

(১) গরিবের জন্য ১০টাকা কেজি চাল, ভিজিডি, ভিজিএফ সহ সকল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগী বাছাইয়ে দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতির উর্ধে উঠে, স্বচ্ছতা ও সততা নিশ্চিত করে প্রকৃত ও উপযুক্ত সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্ত করা;
(২) প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা, বয়ষ্ক ভাতা সহ সামজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীতে প্রদেয় টাকার পরিমান ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো;
(৩) সরাসরি সরকারি তত্ত্বাবধানে ৪০হাজার টাকায় বিদেশে শ্রমিক প্রেরণের ঘোষণাটির বাস্তব রুপ নিশ্চিত করা এবং সকল ধরনের আদম ব্যাবসায়ী ও আদম ব্যবসার দালাল চক্রকে এই লাইন হতে সরে গিয়ে অন্য পেশা/কাজে জড়িত হওয়ার কঠোর নির্দেশনা দেয়া, এরপরেও কেউ আদম পাচারে জড়িত হওয়ার চেষ্টা করলে জিরো-টলারেন্স নীতির ভিত্তিতে নির্মূল করা;
(৪) বিদেশে অদক্ষ শ্রমিক গমন পুরোপুরি বন্ধ করা, আধা দক্ষ ও দক্ষ পুরুষ শ্রমিক প্রেরণের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা, বর্তমান সরকারি ও বেসরকারি কেন্দ্রসমূহে পেশাগত প্রশিক্ষণ ও ভাষাগত প্রশিক্ষণ যাতে যথোপযুক্ত হয় তা নিশ্চিত করা; 
(৫) বিদেশে পেশাজীবি নারী ছাড়া সকল ধরনের নারী শ্রমিক গমন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা; 
(৬) সকল ধরনের শ্রমিক, পেশাজীবি বিদেশে গিয়ে বাংলাদেশের দুতাবাসে রিপোর্ট করবে এবং বাংলাদেশের দূতাবাস হতে শ্রমিকদের/পেশাজীবিদের কাজের ও থাকাখাওয়ার ব্যবস্থাদি উল্লেখ সহ উপযুক্ত নিয়োগপত্রের কপি জমা দিয়ে নিয়োগদাতারা নিয়ে যাবে এমন বিধান চালু করা ও তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা; 
(৭) কারিগরিভাবে অতি দক্ষ পেশাজীবি ও বিজ্ঞানীদের বিদেশে গমন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা ও তাদেরকে দেশেই তাদের দক্ষতা কাজে লাগানো ও গবেষণার জন্য উপযুক্ত সুবিধা ও পরিবেশ নিশ্চিত করা; 
(৮) ছোট ও মাঝারি সকল ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ দূর্নীতিমুক্ত করা;
(৯) স্বাধীনতা উত্তরকাল হতে এ যাবত সঙ্ঘটিত সকল ধরনের সাম্প্রাদয়িক হামলা, বাড়ি-জমি-ব্যবসার অবৈধ দখলের প্রতিকার ও বিচারের জন্য ‘মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ এর মতো বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে প্রতিকার ও বিচার কাজ শুরু করা, ২০০১এর সালসা নির্বাচনের প্রচারণাকালে ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সঙ্ঘটিত মানবতা বিরোধী অপরাধ সমূহের বিচার বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করে এখনই শুরু করা;
(১০) মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান বিচার সমূহ নিস্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা, পরিধি, কর্মী ও বাজেট বাড়ানো এবং সকল রাজাকার ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা;
(১১) দেশের আদালতসমূহে চলমান মামলাগুলোর দ্রুত বিচার সম্পন্নের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা, কারাগারগুলোতে নতুন অপরাধী সৃষ্টির বদলে অপরাধী সংশোধনের উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা, ছোটখাট অপরাধ ও জীবনে একটি মাত্র অপরাধ আদালত আমলে নিয়ে বিচার করে শাস্তি দিয়েছে, এমন অপরাধীদের প্যারোল ও প্রবেশন কর্মসূচীর মাধ্যমে সমাজসেবা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সংশোধনের প্রচেষ্টা কার্যকর করা-যা আইনে উল্লেখ রয়েছে;
(১২) ঢাকা শহরে যেমন অযথা পুলিশি হয়রানি কমে গিয়েছে তা সারা দেশেই কার্যকর হওয়া নিশ্চিত করা, যাতে “পুলিশ জনগনের বন্ধু” স্লোগানটি মানূষ স্বতস্ফুর্তভাবে উচ্চারন করে, প্রকৃতপক্ষেই পুলিশ জনগনের বন্ধু হয়ে ওঠে;
(১৩) সাইবার ক্রাইম দমন আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা, এ জন্য পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীসমূহে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ এবং/বা তৈরী করা;
(১৪) কৃষি পণ্য উৎপাদন ও বিপননে সহজে ব্যবহার যোগ্য ‘কৃষিনেটওয়ার্ক ওয়েব পেজ’ গড়ে তোলা; 
(১৫) কৃষিতে ভর্তুকি বাড়ানো ও তা প্রকৃত কৃষকরাই যেনো পান, তা নিশ্চিত করা; 
(১৬) মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রজনন মৌসুমে জেলেদের ভর্তুকী প্রদানের মাধ্যমে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি কার্যক্রমে প্রকৃত জেলেরাই যেনো সেই সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করা; 
(১৭) সুন্দরবন রক্ষায় বনজ়ীবিদের বেকার মৌসুমে ভর্তুকী দান ও বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা, এসব বিষয়ে আইন অমান্যকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা;
(১৮) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত বেতনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এবং কল-কারখানাসমূহের বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হয়নি, যা বেসরকারি শ্রমিক-কর্মচারিদের মনে তীব্র অসন্তোষ দানা বেধে আছে, অনতিবিলম্বে এ ক্ষোভ নিরসনের ও নূন্যতম মানবিক জীবন যাপনের জন্যে তাদের বেতন বৃদ্ধি বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া;
(১৯) শিক্ষা ও চিকিৎসা সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক মানবিক অধিকার, কিন্তু এ ক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব ও অবহেলার সুযোগে আজ সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তিসমূহের নীলনকশায় মৌলবাদী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে এবং দেশীয় মুনাফাখোরদের লালসায় শিক্ষা ও চিকিতসা একদিকে যেমন পণ্যে পরিণত হয়েছে, অপরদিকে জংগি উৎপাদনের কারখানা ও মৌলবাদীদের কর্মসংস্থানের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। দেশের চাহিদা অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ভিত্তিতে সরকারি শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং তাতে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের নিশ্চয়তার ঘোষণা দিয়ে তা কার্যকরের উদ্যোগ শুরু করা; 
(২০) আবার অনেক সরকারি শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, কিন্তু, প্রচারণার অভাবে জনগণ সেসব সুবিধা সম্পর্কে জানেও না, যেমন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে “কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল” সম্পর্কে জনগনের ধারণা এটা শুধুই সেনাবাহিনীর জন্য। এর পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহ হতে ৩/৪ ঘন্টা সময় নিয়ে জনগন ঢাকা মেডিক্যালে যায়, অথচ এখানে রোগী আসে না, ঢাকার আশেপাশে শিল্প এলাকায় বেশ কিছু সরকারি হাসপাতাল গড়ে উঠেছে, অথচ এসব এলাকার শ্রমিকেরা জানেও না যে, তাদের পাশেই সরকারি হাসপাতাল রয়েছে, এমনি একটি প্রতিষ্ঠান আশুলিয়া থানার বেগম ফজিলাতুন্নেসা হাসপাতাল; স্থানীয় শ্রমিকরা এটিকে প্রাইভেট ক্লিনিক মনে করে। সরকারি যুব-উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলি কোন কোনটি কর্মহীন হয়ে আছে। এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ সম্পর্কে প্রচার করে জনগনকে সেসব প্রতিষ্ঠান হতে সেবা প্রদানে উৎসাহিত করা, নতুন করে যেনো কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসা-ব্যবসাকেন্দ্র বেসরকারি পর্যায়ে গড়ে উঠতে না পারে তা কঠোরভাবে নজরদারি করা, গণমাধ্যমসমূহে এসব বেসরকারি শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবসা কেন্দ্রসমূহের প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা, এবং চলমান এইসব প্রাইভেট শিক্ষা ও চিকিৎসা কেন্দ্রকে কঠোর নজরদারিতে আনা;
(২১) দ্রুত ও অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও নগরায়নের স্বাভাবিক কুফল হিসবেই যৌথ পরিবার ভেঙ্গে একক এমনকি অনু পরিবার সৃষ্টি হচ্ছে, সামাজিক বন্ধন শিথিল হচ্ছে ও সামাজিক দায়িত্ববোধ কমে যাচ্ছে, অপরদিকে পুঁজিবাদের স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ীই বেকারত্ব, পেশাগত দুর্ঘটনা, অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন পরিচালনার জন্য সড়ক, রেল ও নৌ দুর্ঘটনা বাড়ছে, মানুষ কর্মহীন হচ্ছে এবং প্রতিবন্ধীর সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু, আমাদের দেশের সংবিধানে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানকে মৌলিক চাহিদা স্বীকার করে নেয়া হলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেই। হতদরিদ্র ও দরিদ্রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি রয়েছে, ধনী ও অতি ধনীদের জন্যও গোপনে ব্যাংক ঋণ মওকুফ, ঋণ পূণঃতফশিলীকরণ সুবিধা থাকলেও নিম্ম-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জন্য কোন নিরাপত্তা এবং/বা কল্যাণমূলক কর্মসূচী নেই, নিম্ম-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের জন্য আপদকালীন সময়ে সাময়িক কল্যাণমূলক কর্মসূচীর কথা এখনই ভাবা প্রয়োজন, যা উন্নত দেশসমূহে রয়েছে;
(২২) যার যার যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর শেষ করার পর বেকার হিসাবে তালিকাভূক্ত করা, আত্ম-কর্মসংস্থানের জন্য উৎসাহিত করা এবং যোগ্যতা ও শিক্ষা অনুযায়ী চাকুরি বা আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ না হওয়া পর্যন্ত্য বেকার-ভাতা দেয়া এবং সেই সময়টাতে চাকুরি/আত্ম-কর্মসংস্থানের চেষ্টার পাশাপাশি দিনে অন্ততঃ ৩/৪ঘন্টা সরকারি তত্ত্বাবধানে সামাজিক কর্মকান্ডে বা সরকারি কোন উন্নয়ন কর্মকান্ডে জড়িত রাখার কথা ভাবা যেতে পারে, এতে বেকার তরুণ-তরুণীরা একদিকে যেমন ‘অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা’ হয়ে অপরাধে জড়াবেনা, অন্যদিকে শ্রমের মর্যাদার প্রতিও আকৃষ্ট হবে;
(২৩) পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাহাড়ে এখনো বিরাজমান অসন্তোষ ও সঙ্ঘাত পরিস্থিতির অবসান ঘটানোর কার্যকর উদ্যোগ নেয়া, মনে রাখতে হবে, শরীরের একটি অঙ্গে পচন (ইনফেকশন) লালন করলে একসময় তা গ্যাংগ্রিনে রুপান্তরিত হবে, যা কারোই কাম্য নয়, সমতলের আদিবাসীদের/ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীসমূহের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি রক্ষা ও তাদের ভূমি অধিকার ভোগ নিশ্চিতকরনে পর্যাপ্ত সুরক্ষা দেওয়ার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করে তা কার্যকরের উদ্যোগ নিতে হবে;
(২৪) ২০১৭এর পাহাড়-ধ্বসে দুই শতাধিক আদম-সন্তানের প্রাণহানির পর কিছু অর্বাচীন সরকারি পদ-পদবীতে থেকে আবার কোন কোনটা সরকারি হেলিকপ্টারে চড়ে পাহাড়ে জুম-চাষ সম্পর্কে কিছু আপত্তিকর মন্তব্য করেছে, যা শুধু এদের অজ্ঞানতাপ্রসূতই নয় সারা বিশ্ব জুড়ে পাহাড়ীদের পাহাড়ে জুম্ম চাষের স্বীয় পরিক্ষীত সুদীর্ঘকাল ধরে চলা প্রযুক্তি (Indegineous Technology-ITK), ঐতিহ্য, রীতি, প্রথা ও সংস্কৃতিকে অপমানিত করেছে। অথচ জুম চাষ কোনভাবেই পাহাড়ের জন্য স্বল্পমেয়াদী বা দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর কোন বিষয় নয়, বরং পাহাড়ের জন্য উপকারী। এ বিষয়ে পাহাড়ের মানুষেদের কাছেই পাহাড়ে জুম্ম চাষ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া ও তা নিশ্চিত করা;
(২৫) পাহাড়ে জুম্ম চাষ সম্পর্কে যদি কোন অর্বাচীনের জানার খুব শখ থাকে, তবে তাকে পাহাড়ে এক বছরের জন্য পাঠিয়ে জুম্মে অন্যদের দেখে দেখে জুম্ম চাষ শিখে আসতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা; এসব অর্বাচীনেদের মধ্যে থেকে ৫ বা ১০ টাকে বাছাই করে পাহাড়ের যে কোন ক্যাম্পে ভলান্টিয়ার হিসেবে রেখে ১৯৭২ সালের পূর্ব হতে যেসব মুসলমান পরিবারগুলি পাহাড়ে বসবাস করে ও জুম্ম চাষ করে তাদের সাথে জুম চাষ করতে ওদের নিজ খরচে পাঠানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে; 
(২৬) দেশে একের পর এক বিশৃঙ্খলা-সৃষ্টিকারি আন্তর্জাতিক পরাশক্তিসমূহের এজেন্টদের উপযুক্ত তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে বিচার করতে হবে, সে সক্ষমতা এখন বাংলাদেশের আইন-শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীসমূহের রয়েছে;

(২৭) দূর্নীতি দমন কমিশনকে আরো স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা দিয়ে রাঘববোয়াল দূর্নীতিবাজদের, তারা যে দলের বা যে মতেরই হোক না কেনো, বিচারের সম্মূখীন করে সমাজ হতে দূর্নীতির মূলোৎপাটন করার অঙ্গীকার ও কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে; 
(২৮) চাকুরীতে যেসব নারী সুযোগ পাবেন না বা পারিবারিক কারনে চাকুরি করবেন না, সেসব নারীদের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় উৎসাহিত করে, প্রশিক্ষণ দিয়ে ও রাষ্ট্রের পক্ষ হতে সহজ শর্তে ঋণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ দিতে হবে;
(২৯) নানামূখী প্রাথমিক শিক্ষা বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য এবং আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আলোকে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত্য সিলেবাস প্রণয়নের মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গন হতে দেশপ্রেমিক ও কর্মঠ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগী ভুমিকা নিতে হবে; 
(৩০) শহরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে উঠে নাই, যার সুযোগ নিয়ে নানামূখী শিক্ষা ব্যবসাকেন্দ্রের নামে মৌলবাদ ও কুশিক্ষার আখড়াগুলো গড়ে উঠেছে, এগুলো পর্যায়ক্রমে নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টা শুরুর পাশাপাশি জরুরী ভিত্তিতে বিভিন্ন সরকারি অফিস ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের আবাসিক এলাকায় যেখানেই পতিত জমি আছে, দ্রুত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তুলতে হবে;
(৩১) মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধান পরিপন্থী যে কোন ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহীতামূলক ও উষ্কানিমূলক বক্তব্য প্রদানকারি ও প্রচারকারিকে দ্রুত বিচারের মুখোমুখী করতে হবে, কেননা এরা জেনে-বুঝে দীর্ঘমেয়াদী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এসব বলে থাকে। এদের ক্ষমা করে দেয়া বা এদের বিষয়ে ধীরে চলো নীতিতে তদন্ত করার ফলাফল অতীতেও শুভ হয়নি, আগামী দিনেও শুভ হবে না, সুতরাং, এ বিষয়ে রাষ্ট্রকে ভাবতে হবে এখনই।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সরকার উল্লেখিত বিষয়গুলি বিবেচনায় নিয়ে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বাস্তবায়ন ও কার্যকরের উদ্যোগ নিতে পারে, তবে জনগনই আগামী ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারো ১৯৭০ ও ২০০৮ এর মতোই আওয়ামী লীগের পক্ষে ব্যালট বিপ্লব ঘটাবে।

লেখকঃ মোঃ মাহমুদ হাসান (ভূতপূর্ব কলেজ অধ্যক্ষ ও সমাজ গবেষণা কর্মী), ঢাকা, তারিখ ২১শে জুন, ২০১৭, সময় রাত-০৮.০০ টা। 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top