Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ , সময়- ১১:০১ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় গণসংযোগে মির্জা ফখরুল  বিতর্কিত সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ ও তাঁর রাজনীতি  প্রমাণিত হলো বিএনপি সন্ত্রাসী দল : কাদের  বিবাহবার্ষিকীতে দোয়া চাইলেন ক্রিকেট সুপারস্টার সাকিব টুঙ্গিপাড়া থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন সভানেত্রী শেখ হাসিনা  খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা নিয়ে রিটের আদেশ আগামীকাল  মনোনয়নপত্র ফিরে পাচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলম নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন শেখ হাসিনা, ১২ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য ২০১৫ থেকে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ২০৩০

ভাঙনের মুখে জাতীয় পার্টি : এরশাদ ও রওশন এরশাদের দ্বন্দ্ব ফের চরমে | প্রজন্মকণ্ঠ


প্রজন্মকণ্ঠ অনলাইন রিপোর্ট

আপডেট সময়: ৬ অক্টোবর ২০১৮ ৩:০৬ পিএম:
ভাঙনের মুখে জাতীয় পার্টি : এরশাদ ও রওশন এরশাদের দ্বন্দ্ব ফের চরমে | প্রজন্মকণ্ঠ

জাতীয় পার্টিতে (জাপা) হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও রওশন এরশাদের দ্বন্দ্ব ফের চরমে উঠেছে। এ দ্বন্দ্বের জেরে দলটি আবারও ভাঙনের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

২০১৪ সালের নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে দলের মধ্যে সৃষ্ট গ্রুপিংই মূলত আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে দলটির একাধিক সূত্র।

ওই নির্বাচনের পর সরকারের ক্ষমতার অংশীদার হওয়ায় স্বামী-স্ত্রীর দূরত্ব কিছুটা কমে এলেও আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুজনের নেতৃত্বে দলের অভ্যন্তরে বিদ্যমান গ্রুপিং আবারও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। দুজনের দ্বন্দ্বের জের ধরে আজ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পূর্বঘোষিত দলের মহাসমাবেশটিও হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় নির্বাচন সন্নিকটে এলেই জাপা চেয়ারম্যান এরশাদের আচার-আচরণ সন্দেহজনক হয়ে ওঠে। এবারও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরশাদ নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছেন। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকবেন কি না, নাকি বিএনপি জোটে শরিক হবেন এ নিয়ে অবিশ্বাস ও সন্দেহ দানা বাঁধছে।

গতবার শেষ সময়ে এসে তিনি জাতীয় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার নির্দেশে আড়াইশ’রও বেশি প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছিলেন। কিন্তু দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব ও দলের ভাঙনের শঙ্কা প্রকট হয়ে উঠেছিল। যদিও শেষতক সেটা আর হয়নি। রওশনের কারণে এরশাদ এখনো মহাজোট সরকারের ক্ষমতার অংশীদারিত্ব ভোগ করছেন। কিন্তু সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে এসে তিনি আবার ডিগবাজির চেষ্টা করছেন। শেষ সময়ে এরশাদ মহাজোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে ভিড়ে যেতে পারেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে- এমন আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। ফলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মধ্যেও এ নিয়ে দুশ্চিন্তা কাজ করছে। তবে ভরসাস্থল রওশন এরশাদ এখনো তাদের (আওয়ামী লীগ) অনুকূলেই রয়েছেন।

রওশনের অতিরিক্ত আওয়ামী লীগ ঘেঁষা নীতিই এরশাদের জন্য বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দলটির একটি সূত্র। এরশাদের ধ্যানে-জ্ঞানে রয়েছে আরেকবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হওয়া। আর রওশনের ধ্যানে-জ্ঞানে রয়েছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যে কোনো উপায়ে ক্ষমতার অংশীদার থাকা।

দুজনের দুই নীতির কারণে দলের অভ্যন্তরে এরশাদ ও রওশন গ্রুপের নামে বিভক্তি এখন প্রকাশ্য। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে থেকে এরশাদের রাষ্ট্রপতি হওয়ার ‘খায়েশ’ পূর্ণ হয়নি। হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। তাই তিনি বারবার চেষ্টা করেছেন বিএনপি জোটের সঙ্গে ভিড়ে তার ‘খায়েশ’ পূরণের পথকে পরিষ্কার করার।

ইতোমধ্যে বিএনপির সঙ্গে এ ব্যাপারে এরশাদের কথাবার্তা বা দেনদরবারও হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপির একটি সূত্র। সম্প্রতি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে ব্যক্তিগত দূত পাঠিয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনের খোঁজখবর নিয়েছেন তিনি।

এর মধ্যে অবশ্য এরশাদ জানিয়েছেন, বিএনপি নির্বাচনে এলে তিনি মহাজোটের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন আর বিএনপি নির্বাচনে না এলে তার দল এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে। কিন্তু ভোটের অঙ্কে যেহেতু জাতীয় পার্টি এখনো দেশের তৃতীয় বৃহত্তম দল এবং ভোটের রাজনীতিতে বড় ধরনের ‘ফ্যাক্টর’ সেহেতু নিজের শক্তিকে তিনি একেবারে অবহেলা করতে নারাজ। তিনি জানেন তার দল যেদিকেই ঝুঁকবেন সেদিকেই জয়ের পাল্লা অপেক্ষাকৃত ভারী হবে। ‘আম ও ছালা’ হারানোর বিপদে তিনি পড়তে চান না। তবে বিএনপি থেকে তাকে ‘নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি’ হওয়ার আশ্বাস দিলে তিনি সেদিকে ঝুঁকতে চান বলে জাতীয় পার্টির একটি সূত্র জানিয়েছে।

ভোটের রাজনীতির এ ধরনের জটিল সমীকরণে জাতীয় পার্টি আসলে দিশাহীন হয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগ রওশন এরশাদকে পুরোপুরি বাগে নিতে পারলেও এরশাদকে নিয়ে সংশয়ে রয়েছে। জাপার অভ্যন্তরে রওশন এরশাদের গ্রুপটি এবারও এরশাদের পথ ও মত অমান্য করতে পারে- এমন সম্ভাবনা প্রবল হয়েছে। রওশন গ্রুপটি দলের মধ্যে তাদের দল ভারী করারও চেষ্টা চালাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনে দলের মনোনয়ন নিয়েও স্বামী-স্ত্রীর গ্রুপের মধ্যে মতানৈক্য দৃশ্যমান হয়েছে। গ্রুপিং এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, নির্বাচনকালীন সরকারে মন্ত্রী হিসেবে দুই গ্রুপ পৃথক তালিকা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথকভাবে দেখা করেছেন এরশাদ ও রওশন।

জানা গেছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেছেন এরশাদ। সে বৈঠকে নির্বাচনকালীন সরকারে জাপা থেকে মন্ত্রী করার জন্য এরশাদ নাম দেন রুহুল আমিন হাওলাদার, জিয়াউদ্দিন বাবলু ও কাজী ফিরোজ রশিদের।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি ও কাজী ফিরোজ রশীদ। দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ওই বৈঠকের খবরই জানতেন না। বৈঠকের খবর পাওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রী রওশন এরশাদকে ডেকে আলাদা বৈঠক করেন। সেখানে নির্বাচনকালীন সরকারের জন্য জাপা থেকে নাম জমা দেওয়া হয়- মশিউর রহমান রাঙা, ফখরুল ইমাম এবং এক নারী সদস্যের নাম। বৈঠকে বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম ওমরকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ করার প্রস্তাব দেন রওশন।

জাতীয় পার্টির কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, দলের অভ্যন্তরে এরশাদ-রওশন দ্বন্দ্ব নতুন নয়। দুই গ্রুপ কখনো কখনো পৃথক কর্মসূচিও পালন করে। এমনকি অনেক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এক গ্রুপ উপস্থিত থাকলেও অপর গ্রুপ থাকে না। গত ১৮-১৯ সেপ্টেম্বর বসুন্ধরার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটিতে দুদিনব্যাপী ডিজিটাল নির্বাচনী প্রচারণার যে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় সে অনুষ্ঠানে রওশন এরশাদকে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি। এর জের ধরে দলের অধিকাংশ সংসদ সদস্য এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য ওই কর্মশালায় অংশ নেননি। তখন থেকেই দুজনের বিরোধ ও মতানৈক্যের বিষয়টি নতুন করে দলীয় কর্মীদের চোখে পড়ে।

জাপার রওশন গ্রুপের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন নিয়েও দুজনের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়েছে কিছুদিন ধরে। রওশন এরশাদ চাইছেন আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকতে। তাই তিনি তার অনুসারী নেতাদের নির্বাচনের মনোনয়ন দিতে চান। শুধু তাই নয়, সরকারে জাতীয় পার্টির মন্ত্রিত্ব বাড়ানোর চেষ্টাও করছেন তিনি।

অপরদিকে এরশাদ গ্রুপের সূত্র জানিয়েছে, এরশাদ যাদেরই সরকারের মন্ত্রিসভায় পাঠিয়েছেন তারাই এরশাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। অতীত ইতিহাস বলছে তারাই দল ভাঙনের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করেছে। এ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি পাঁচবারের মতো ভাঙনের মুখে পড়েছে। বিশ্বাসঘাতকরাই দল ভেঙেছে। ফলে এরশাদ এখন মন্ত্রিসভায় কারও নাম প্রস্তাব করার ক্ষেত্রে খুব চিন্তাভাবনা করছেন। দল যাতে আর কোনো ভাঙনের মুখে না পড়ে সে ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্ক রয়েছেন তিনি।

এরপরও দল ভাঙনের মুখে পড়তে যাচ্ছে-এমন খবর ছড়িয়ে পড়েছে জাপার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত। দলে এ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। এরশাদ-রওশনের দ্বন্দ্ব নিয়ে দলের একটি অংশ পড়েছেন চরম বিব্রত অবস্থায়। তারা দ্রুত বসে এর সমাধান চাইছেন। জাপার শীর্ষস্থানীয় এক নেতা এর সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, ‘এ নিয়ে আমরা শিগগিরই বসবো। আগামীকাল ৭ অক্টোবর সকালে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্যদের সভা ডাকা হয়েছে। দেখা যাক সেখানে কী সিদ্ধান্ত হয়।’


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top