Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ৯:১৫ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
এ পর্যন্ত ১১টি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ  আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ রোহিঙ্গারা, প্রত্যাবাসন স্থগিত  ক্ষমা চাইতে ফখরুলকে ছাত্রলীগের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলো ছাত্রলীগ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের যড়যন্ত্র সফল হবে না : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩০ ডিসেম্বরই নির্বাচন, পেছানোর সুযোগ নেই : নির্বাচন কমিশন সচিব প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী রবিবার বোনের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ভালোবাসা বিএনপিকে রাজনৈতিক দল বলা যায় না, তারা একটি সন্ত্রাসী সংগঠন : সজীব ওয়াজেদ  নির্বাচনী সহিংসতা ঠেকাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে পুলিশ | প্রজন্মকণ্ঠ বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে আদেশ আগামী রোববার

তথ্য প্রযুক্তি খাতে প্রকৃত উন্নয়নের চেয়ে প্রচার বেশি


প্রজন্মকণ্ঠ অনলাইন রিপোর্ট

আপডেট সময়: ১৭ অক্টোবর ২০১৮ ৮:৫৭ পিএম:
তথ্য প্রযুক্তি খাতে প্রকৃত উন্নয়নের চেয়ে প্রচার বেশি

গত এক বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রতিযোগিতার সক্ষমতায় এগিয়েছে, তবে তা বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বড় কিছু নয়৷ তাই সূচকে বাংলাদেশের এক ধাপ অবনমন হয়েছে৷ তথ্য প্রযুক্তি খাতে অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক না হওয়াই এর কারণ৷

এই অবস্থান জানা গেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিবেদনে৷ তাদের ‘গ্লোবাল কমপিটিটিভনেস রিপোর্ট ২০১৮' অনুযায়ী,  এবার ১৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে ১০৩তম অবস্থানে৷ আগের বছর ১৩৫ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০২তম৷  সূচকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় একধাপ পিছিয়ে পড়লেও বাংলাদেশের স্কোর গত বছরের তুলনায় ভালো৷ ০ দশমিক ৭ ভাগ উন্নতি ঘটেছে৷ অর্থনীতিবিদরা একে ভালো বললেও, বলছেন ধীর গতির উন্নয়ন৷ ২০১৭ সালে এ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানে সাত ধাপ আর ২০১৬ সালে এক ধাপ অগ্রগতি হয়েছিল৷

ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম ২০০১ সাল থেকে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে৷ এবার তাঁরা নতুন মানদণ্ডের ভিত্তিতে এই সূচক তৈরি করেছে৷ আর সেই ১২টি মানদণ্ড হলো: প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা, পণ্য বাজার, শ্রম বাজার, আর্থিক ব্যবস্থা, বাজারের আকার, বাজারের গতিশীলতাও নতুন ধারণার আত্মীকরণ৷ এই ১২টি মানদণ্ডের ভিত্তিতে ১০০ ভিত্তিক সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ৫২ দশমিক ১৷ এটা গত বছরের স্কোরের চেয়ে ০ দশমিক ৭ বেশি৷ এখানে তথ্যপ্রযুক্তি নতুন মানদণ্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে৷

বিশ্বব্যাপী এই রিপোর্ট প্রকাশের অংশ হিসেবে বুধবার ঢাকায় সিরডাপ মিলনায়তনে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের পক্ষে বাংলাদেশে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)৷

বিশ্বে প্রতিযোগিতা সক্ষমতার দিক দিয়ে সূচকের শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, তাদের স্কোর ৮৫ দশমিক ৬৷ এরপর যথাক্রমে রয়েছে সিঙ্গাপুর, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, জাপান, নেদারল্যান্ডস, হংকং, যুক্তরাজ্য সুইডেন ও ডেনমার্ক৷ সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে এগিয়ে ভারত৷ ৬২ স্কোর নিয়ে ভারত আছে সূচকের ৫৮ নম্বরে৷ গত বারের চেয়ে পাঁচ ধাপ উন্নতি হয়েছে দেশটির৷ শ্রীলঙ্কা ৫৬ স্কোর নিয়ে সূচকের  ৮৫তম, ৫১ স্কোর নিয়ে পাকিস্তান সূচকের ১০৭ নম্বরে এবং নেপাল ৫০ দশমিক ৮ স্কোর নিয়ে ১০৯ নম্বর অবস্থানে রয়েছে৷

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশে কাজ করে সিপিডি৷ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সিপিডির গবেষণা পরিচালক অর্থনীতিবিদ খন্দকার ড.গোলাম মোয়াজ্জেম জানান, সার্বিকভাবে এবার বাংলাদেশের পয়েন্ট কমেনি৷ ০ দশমিক ৭  পয়েন্ট বেড়েছে৷ এবার মানদণ্ড হিসেবে নতুন করে তথ্য-প্রযুক্তি খাত অন্তর্ভুক্ত হয়েছে৷ এ খাতে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ কিছুটা পিছিয়ে থাকায় সার্বিকভাবে অবস্থানগত পরিবর্তন হয়েছে৷

তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, ধীরে ধীরে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ছে৷ হয়তো এক দুই বছরে কিছুটা বেশি কম হয়, কিন্তু উন্নয়ন হচ্ছে৷ তবে এই উন্নয়নের গতিটা শ্লথ৷ এই সূচকটা মাত্র কয়েকটি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে করা হয়৷ কিন্তু যে ব্যাপকভিত্তিক উন্নয়ন করলে আমরা আরো এগিয়ে যেতাম, সেই জায়গায় ঘাটতি আছে৷

তিনি বলেন, অবকাঠামো খাতে যে ব্যাপক বিনিয়োগ হয়েছে তার কিছু কিছু সুফল বেসরকারি খাত পাচেছ৷ এর বাইরে সামষ্টিক স্থিতিশীলতা এবং বড় আকারের বাজার আমাদের সুবিধা করে দিচ্ছে৷ আইসিটি খাতে বিশেষভাবে নজর দেয়ায় তার ইতিবাচক ফলাফল শিক্ষা খাতে, ব্যবসা বাণিজ্যে, সরকারি কর্মকাণ্ডে, ব্যবসায়িক লেনদেনে ধীরে ধীরে বাড়ছে৷ যদিও এটা এখনো অনেক নিচু পর্যায়ে আছে৷ তারপরও একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যায়৷ 

তিনি মনে করেন, আইসিটি খাতে যে ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়েছে তা অব্যাহত থাকলে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সক্ষমতা আরো বাড়বে৷

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ণ অর্থনীতির অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তীতুমীর বলেন, বাংলাদেশ তার শিল্প বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে৷ পোশাক শিল্পের আধিপত্য বেড়ে যাচ্ছে৷ তার মানে হচ্ছে, এখনে শিল্পের বহুমূখীকরণ হচ্ছে না৷ উৎপাদন যদি বহুমূখী হয়, তাহলে প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়ে৷ বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও শিল্পখাতে বহুমূখীকরণ থমকে আছে৷ বহুমূখীকরণের জন্য প্রয়োজন প্রযুক্তিগত উন্নয়ন৷ প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং অভিযোজন এই দু'টি বিষয়েই বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে হবে৷

তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তি খাতে প্রকৃত উন্নয়নের চেয়ে প্রচার বেশি হয়েছে৷ প্রকৃত উন্নয়ন প্রয়োজন। 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top