Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বুধবার, ১৬ জানুয়ারী ২০১৯ , সময়- ৮:১৬ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা হলেন সালমান আরেকটি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা : কারণ এবং প্রতিকার কী ? পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর ভারত প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেলেন জয়  ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ৫ আমি কখনও সংলাপের কথা বলিনি : ওবায়দুল কাদের কাদের'কে স্টেডিয়ামে প্রকাশ্যে মাফ চাওয়ার আহ্বান  বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী জাপান সংরক্ষিত নারী আসনে আ'লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু  পদ্মা সেতুর পাশেই হবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

তথ্য প্রযুক্তি খাতে প্রকৃত উন্নয়নের চেয়ে প্রচার বেশি


প্রজন্মকণ্ঠ অনলাইন রিপোর্ট

আপডেট সময়: ১৭ অক্টোবর ২০১৮ ৮:৫৭ পিএম:
তথ্য প্রযুক্তি খাতে প্রকৃত উন্নয়নের চেয়ে প্রচার বেশি

গত এক বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রতিযোগিতার সক্ষমতায় এগিয়েছে, তবে তা বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বড় কিছু নয়৷ তাই সূচকে বাংলাদেশের এক ধাপ অবনমন হয়েছে৷ তথ্য প্রযুক্তি খাতে অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক না হওয়াই এর কারণ৷

এই অবস্থান জানা গেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিবেদনে৷ তাদের ‘গ্লোবাল কমপিটিটিভনেস রিপোর্ট ২০১৮' অনুযায়ী,  এবার ১৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে ১০৩তম অবস্থানে৷ আগের বছর ১৩৫ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০২তম৷  সূচকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় একধাপ পিছিয়ে পড়লেও বাংলাদেশের স্কোর গত বছরের তুলনায় ভালো৷ ০ দশমিক ৭ ভাগ উন্নতি ঘটেছে৷ অর্থনীতিবিদরা একে ভালো বললেও, বলছেন ধীর গতির উন্নয়ন৷ ২০১৭ সালে এ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানে সাত ধাপ আর ২০১৬ সালে এক ধাপ অগ্রগতি হয়েছিল৷

ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম ২০০১ সাল থেকে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে৷ এবার তাঁরা নতুন মানদণ্ডের ভিত্তিতে এই সূচক তৈরি করেছে৷ আর সেই ১২টি মানদণ্ড হলো: প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা, পণ্য বাজার, শ্রম বাজার, আর্থিক ব্যবস্থা, বাজারের আকার, বাজারের গতিশীলতাও নতুন ধারণার আত্মীকরণ৷ এই ১২টি মানদণ্ডের ভিত্তিতে ১০০ ভিত্তিক সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ৫২ দশমিক ১৷ এটা গত বছরের স্কোরের চেয়ে ০ দশমিক ৭ বেশি৷ এখানে তথ্যপ্রযুক্তি নতুন মানদণ্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে৷

বিশ্বব্যাপী এই রিপোর্ট প্রকাশের অংশ হিসেবে বুধবার ঢাকায় সিরডাপ মিলনায়তনে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের পক্ষে বাংলাদেশে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)৷

বিশ্বে প্রতিযোগিতা সক্ষমতার দিক দিয়ে সূচকের শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, তাদের স্কোর ৮৫ দশমিক ৬৷ এরপর যথাক্রমে রয়েছে সিঙ্গাপুর, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, জাপান, নেদারল্যান্ডস, হংকং, যুক্তরাজ্য সুইডেন ও ডেনমার্ক৷ সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে এগিয়ে ভারত৷ ৬২ স্কোর নিয়ে ভারত আছে সূচকের ৫৮ নম্বরে৷ গত বারের চেয়ে পাঁচ ধাপ উন্নতি হয়েছে দেশটির৷ শ্রীলঙ্কা ৫৬ স্কোর নিয়ে সূচকের  ৮৫তম, ৫১ স্কোর নিয়ে পাকিস্তান সূচকের ১০৭ নম্বরে এবং নেপাল ৫০ দশমিক ৮ স্কোর নিয়ে ১০৯ নম্বর অবস্থানে রয়েছে৷

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশে কাজ করে সিপিডি৷ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সিপিডির গবেষণা পরিচালক অর্থনীতিবিদ খন্দকার ড.গোলাম মোয়াজ্জেম জানান, সার্বিকভাবে এবার বাংলাদেশের পয়েন্ট কমেনি৷ ০ দশমিক ৭  পয়েন্ট বেড়েছে৷ এবার মানদণ্ড হিসেবে নতুন করে তথ্য-প্রযুক্তি খাত অন্তর্ভুক্ত হয়েছে৷ এ খাতে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ কিছুটা পিছিয়ে থাকায় সার্বিকভাবে অবস্থানগত পরিবর্তন হয়েছে৷

তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, ধীরে ধীরে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ছে৷ হয়তো এক দুই বছরে কিছুটা বেশি কম হয়, কিন্তু উন্নয়ন হচ্ছে৷ তবে এই উন্নয়নের গতিটা শ্লথ৷ এই সূচকটা মাত্র কয়েকটি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে করা হয়৷ কিন্তু যে ব্যাপকভিত্তিক উন্নয়ন করলে আমরা আরো এগিয়ে যেতাম, সেই জায়গায় ঘাটতি আছে৷

তিনি বলেন, অবকাঠামো খাতে যে ব্যাপক বিনিয়োগ হয়েছে তার কিছু কিছু সুফল বেসরকারি খাত পাচেছ৷ এর বাইরে সামষ্টিক স্থিতিশীলতা এবং বড় আকারের বাজার আমাদের সুবিধা করে দিচ্ছে৷ আইসিটি খাতে বিশেষভাবে নজর দেয়ায় তার ইতিবাচক ফলাফল শিক্ষা খাতে, ব্যবসা বাণিজ্যে, সরকারি কর্মকাণ্ডে, ব্যবসায়িক লেনদেনে ধীরে ধীরে বাড়ছে৷ যদিও এটা এখনো অনেক নিচু পর্যায়ে আছে৷ তারপরও একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যায়৷ 

তিনি মনে করেন, আইসিটি খাতে যে ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়েছে তা অব্যাহত থাকলে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সক্ষমতা আরো বাড়বে৷

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ণ অর্থনীতির অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তীতুমীর বলেন, বাংলাদেশ তার শিল্প বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে৷ পোশাক শিল্পের আধিপত্য বেড়ে যাচ্ছে৷ তার মানে হচ্ছে, এখনে শিল্পের বহুমূখীকরণ হচ্ছে না৷ উৎপাদন যদি বহুমূখী হয়, তাহলে প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়ে৷ বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও শিল্পখাতে বহুমূখীকরণ থমকে আছে৷ বহুমূখীকরণের জন্য প্রয়োজন প্রযুক্তিগত উন্নয়ন৷ প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং অভিযোজন এই দু'টি বিষয়েই বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে হবে৷

তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তি খাতে প্রকৃত উন্নয়নের চেয়ে প্রচার বেশি হয়েছে৷ প্রকৃত উন্নয়ন প্রয়োজন। 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top