Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ৯:০৯ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
এ পর্যন্ত ১১টি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ  আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ রোহিঙ্গারা, প্রত্যাবাসন স্থগিত  ক্ষমা চাইতে ফখরুলকে ছাত্রলীগের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলো ছাত্রলীগ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের যড়যন্ত্র সফল হবে না : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩০ ডিসেম্বরই নির্বাচন, পেছানোর সুযোগ নেই : নির্বাচন কমিশন সচিব প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী রবিবার বোনের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ভালোবাসা বিএনপিকে রাজনৈতিক দল বলা যায় না, তারা একটি সন্ত্রাসী সংগঠন : সজীব ওয়াজেদ  নির্বাচনী সহিংসতা ঠেকাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে পুলিশ | প্রজন্মকণ্ঠ বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে আদেশ আগামী রোববার

তরুণী ও কম বয়সী রোহিঙ্গা মেয়েরা পাচারের শিকার হচ্ছে : জাতিসংঘ


প্রজন্মকণ্ঠ অনলাইন রিপোর্ট

আপডেট সময়: ১৯ অক্টোবর ২০১৮ ১১:২৫ পিএম:
তরুণী ও কম বয়সী রোহিঙ্গা মেয়েরা পাচারের শিকার হচ্ছে : জাতিসংঘ

রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু ক্যাম্পগুলোয় বসবাসরত তরুণী ও কম বয়সী মেয়েরা জোরপূর্বক শ্রম ও পাচারের শিকার হচ্ছে বলে জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা আইওএম জানিয়েছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে মেয়েদের বিক্রিও করে দেয়া হচ্ছে। জাতিসংঘের অধীন সংস্থাটি গতকাল এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায়।

আইওএমের মানব পাচার প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, রোহিঙ্গা শিবিরগুলোয় অর্থ উপার্জনের কোনো পথ খোলা না থাকায় মরিয়া রোহিঙ্গা পরিবারগুলো তাদের কম বয়সী মেয়েদের বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে অর্থ উপার্জন করতে পাঠাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে পরিস্থিতির শিকার এক রোহিঙ্গা তরুণীর উদ্ধৃতি ব্যবহার করে আইওএম। ওই তরুণী বর্তমানে স্থানীয় মত্স্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। দীর্ঘসময় কাজ করে সে তুলনায় অনেক কম মজুরি অর্জন করছেন ওই তরুণী। বিজ্ঞপ্তিতে ওই তরুণীর বরাত দিয়ে ক্যাম্পে অর্থোপার্জনের সুযোগ অত্যন্ত কম এবং নারীদের ক্ষেত্রে তা প্রায় নেই বললেই চলে। এ কারণে ওই তরুণী ক্যাম্পের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন।

জোরপূর্বক শ্রমের পাশাপাশি পাচারের শিকার হচ্ছে রোহিঙ্গা নারী ও অল্পবয়সী মেয়েরা। আইওএমের মানব পাচার প্রতিরোধী কার্যক্রমের আওতায় গত এক বছরে ৯৯টি জোরপূর্বক শ্রম ও মানব পাচারের ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্ত করার পর তাদের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় আইওএম। সংস্থাটির কাছ থেকে গত এক বছরে সহায়তা পাওয়া নারী ও তরুণীদের দুই-তৃতীয়াংশকেই প্রলোভন দেখিয়ে বিপদের মুখে টেনে আনা হয়েছিল। যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে ১০ শতাংশ।

দেখা গেছে, এসব ক্ষেত্রে কম বয়সী মেয়েরাই তুলনামূলক বেশি নাজুক অবস্থানে রয়েছে। জোরপূর্বক শ্রম ও পাচারের শিকারদের মধ্যে কম বয়সী মেয়ের সংখ্যা ৩৫। নারী রয়েছে ৩১ জন। এছাড়া ২৫ জন পুরুষ ও আট বালকও রয়েছে এ তালিকায়।

তাদের মধ্যে পাঁচ নারী ও চার কম বয়সী মেয়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে জানানো হয়। মানব পাচারকারীদের খপ্পরে পড়েছিলেন চারজন। যদিও শেষ পর্যন্ত তারা সেখান থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশী নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, প্রতিদিনই বেশ কিছুসংখ্যক নারী ও কম বয়সী মেয়েকে শিবির ত্যাগকালে বাধা দেয়া হচ্ছে। তারা সাধারণত ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে শিবির ত্যাগের প্রয়াস চালায়। জিজ্ঞাসাবাদ করে দেখা যায়, তাদের অনেককেই ধরা পড়লে কী বলতে হবে তা শিখিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু আরো জোরালো জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে দেখা যায়, তারা আসলে কার সঙ্গে এবং কোথায় দেখা করতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণাই নেই।

শুধু নারী বা কম বয়সী মেয়ে নয়, পূর্ণবয়স্ক পুরুষ ও বালকরাও পাচারকারীদের টার্গেটে রয়েছে বলে জোর দিয়ে জানান আইওএম বিশেষজ্ঞরা। কাজের খোঁজে বের হয়ে তাদের অনেকেই এখন জোরপূর্বক শ্রমের শিকার হয়েছেন।

দীর্ঘসময় ধরে কাজ করেও কোনো মজুরি পাননি এক রোহিঙ্গা ব্যক্তি। উল্টো কর্মদাতার প্রহারের শিকার হতে হয়েছে তাকে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রতিদিনের প্রয়োজন মেটাতেই হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি এবং ক্যাম্পের মধ্যেও কাজ পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ কারণে ক্যাম্পের বাইরে গিয়ে কাজ করতে বললে আমরা রাজি হয়ে যাই।

কক্সবাজারে আইওএমের নিরাপত্তা সেবা প্রধান দিনা পারমার বলেন, ‘আমরা সাধারণত কাজ ও উন্নততর জীবনের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাজুক অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের দিকেই পাচারকারীরা হাত বাড়ায় বলে শুনতে পাই। কেউ কেউ এখানে ঝুঁকির বিষয়টি অনুধাবন করতে পারেন না। অন্যরা হয়তো জানেন, এটি বিপজ্জনক; কিন্তু তাদের পরিস্থিতি এতটাই মরিয়া যে, তারা চরম পদক্ষেপ নিতেও রাজি থাকেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা হয়তো পরিবারের অন্যদের স্বার্থে একজনকে ত্যাগ করে দেয়া পর্যন্তও গড়ায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘পুরুষ, নারী ও শিশু— মানব পাচারকারীদের প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে সবাই। কিন্তু এক্ষেত্রে দেখা যায়, ঘরবাড়িতে গৃহপরিচারক ও গৃহপরিচারিকা হিসেবে কম বয়সী ছেলে-মেয়েদের চাহিদা বেশি। অর্থাৎ তারাই সাধারণত টার্গেট হয়।’


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top