Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ১:৪১ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
আয়কর মেলার শেষ দিন আজ দুর্নীতিসহ ১১ সূচকে রেড জোনে বাংলাদেশ : এমসিসি  চিকিৎসা বিষয়ে খালেদা জিয়ার রিটের আদেশ আজ  নাজমুল হুদাকে ৪৫ দিনের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ  নির্বাচনকালীন সম্ভাব্য নাশকতা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার  একজন শিশুকে পিইসি পরীক্ষার জন্য যেভাবে পরিশ্রম করতে হয়, সত্যিই অমানবিক : সমাজকল্যাণমন্ত্রী নির্বাচনকে সামনে রেখে আদর্শগত নয়, কৌশলগত জোট করছে আওয়ামী লীগ : সাধারণ সম্পাদক থার্টিফার্স্ট উদযাপন নিষিদ্ধ : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে পেশাদারিত্ব বজায় রাখবে সেনাবাহিনী  মহাজোটের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে যাওয়ার শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসছে 

অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়েই পাঠ্যক্রম অনুসরণ করা হচ্ছে না | প্রজন্মকণ্ঠ


প্রজন্মকণ্ঠ অনলাইন রিপোর্ট

আপডেট সময়: ১৬ নভেম্বর ২০১৮ ৫:৫৪ এএম:
অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়েই পাঠ্যক্রম অনুসরণ করা হচ্ছে না | প্রজন্মকণ্ঠ

কুষ্টিয়ার কুমারখালী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। ষষ্ঠ থেকে দশম— সব শ্রেণীতেই প্রতিদিন আটটি বিষয়ে ক্লাস নেয়া হয় এ বিদ্যালয়ে। যদিও পাঠ্যক্রম অনুযায়ী প্রতিদিন ছয় পিরিয়ড ক্লাস নেয়ার কথা। প্রতিদিন অতিরিক্ত দুটি বিষয়ে ক্লাস নেয়ার কারণে একদিকে যেমন ক্লাসে সময়ের ব্যাপ্তি কমে যায়, অন্যদিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর তৈরি হয় বাড়তি চাপ।

শুধু কুমারখালী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নয়; দেশের অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়েই পাঠদানের ক্ষেত্রে পাঠ্যক্রম অনুসরণ করা হচ্ছে না। জাতীয় পাঠ্যক্রম ২০১২ অনুযায়ী, শনি থেকে বুধবার প্রতিদিন ছয় পিরিয়ড ও বৃহস্পতিবার চার পিরিয়ড ক্লাস নেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়া শ্রেণিভিত্তিক পাঠদানের জন্য বিষয় কাঠামো ও সময় বণ্টন, বাড়ির কাজ, ধারাবাহিক মূল্যায়ন, দলগত কাজসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে নির্দেশনা রয়েছে পাঠ্যক্রমে। কিন্তু তা অনুসরণ না করে নিজস্ব রুটিনেই পাঠদান কার্যক্রম চালাচ্ছে অধিকাংশ বিদ্যালয়।

দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোয় একসময় প্রতিদিন আটটি পিরিয়ডেই ক্লাস নেয়া হতো। এক্ষেত্রে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রতি ক্লাসের ব্যাপ্তি ছিল ৪০ মিনিট। তবে সৃজনশীল পদ্ধতি চালুর পর পাঠদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তন আসে। নতুন সিলেবাস ও পদ্ধতির পাঠদানের জন্য ৪০ মিনিট সময় খুবই অপ্রতুল। তাই পাঠদানের সুবিধার্থে নতুন পাঠ্যক্রমে পিরিয়ড আট থেকে ছয়টিতে নামিয়ে এনে ক্লাসে সময়ের ব্যাপ্তি বাড়িয়ে দেয়া হয়। এক্ষেত্রে প্রথম পিরিয়ডে ৬০ মিনিট ও অন্যান্য পিরিয়ডে ৫০ মিনিট করে ক্লাস নিতে বলা হয়।

পাঠদানের ক্ষেত্রে পাঠ্যক্রম অনুসরণ না করাকে ‘শিখন ফল’ অর্জনে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, শিক্ষাক্রমে সিলেবাসের আলোকে বছরের মোট কর্মদিবস বিবেচনায় নিয়ে একটি বিষয়ের কোন অধ্যায় কত পিরিয়ডে শেষ করতে হবে, সেটিও বলে দেয়া আছে। সব মিলিয়ে প্রতিটি শ্রেণীর জন্য এক বছরের একটি প্যাকেজ তৈরি করে দেয়া হয়েছে পাঠ্যক্রমে। যদিও অধিকাংশ বিদ্যালয়েই তা অনুসরণ করা হচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, অতিরিক্ত ক্লাস নেয়ার ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের ওপরই বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে, যাকে আমরা টপিক লোড বলে থাকি। বেশি ক্লাস নেয়ার চাপ থাকায় শিক্ষকরা ঠিকমতো প্রস্তুতি নিতে পারেন না। আবার একইভাবে অতিরিক্ত ক্লাসের চাপ (টপিক লোড) পড়ে শিক্ষার্থীদের ওপরও। বেশি ক্লাস নেয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত বই-খাতা বহন করতে হচ্ছে। এতে ব্যাগের ভারও কমানো যাচ্ছে না। বাড়ির কাজের চাপও বেশি থাকে। সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, পাঠ্যক্রম অনুসরণ না করার কারণে প্রভাব গিয়ে পড়ছে শিখন ফল অর্জনে।

ছয়টির বদলে আটটি ক্লাস নেয়া হয় সিলেটের পুলিশ লাইন উচ্চ বিদ্যালয়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়টির এক শিক্ষার্থী বলে, আটটি ক্লাস নেয়ার কারণে মাঝে মধ্যে মানসিক চাপ অনুভব হয়। ক্লাসে মনোযোগ দিতে কষ্ট হয়। জোর করে মনোযোগ দিতে গেলে মাথাব্যথা শুরু হয়। এছাড়া বেশি ক্লাসের কারণে আমাদের বেশি বই-খাতা বহন করতে হয়। এতে ব্যাগের ওজনও বেড়ে যায়।

৩৫ মিনিটেই ক্লাস শেষ করা হয়— এমন বিদ্যালয়ও বের হয়ে এসেছে অনুসন্ধানে। এর একটি রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। বিদ্যালয়টির নবম-দশম শ্রেণীতে প্রতিদিন সাত পিরিয়ড ক্লাস নেয়া হয়। এর মধ্যে প্রথম পিরিয়ডের ব্যাপ্তি ৫০ মিনিট হলেও পরের তিনটি পিরিয়ডের ব্যাপ্তি মাত্র ৩৫ মিনিট। আবার বিরতির পর নেয়া তিনটি ক্লাসের প্রথমটি ৫০ মিনিট ও পরের দুটি ৩৫ মিনিট করে নেয়া হয়।

এদিকে দুই শিফটে পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে পিরিয়ডের সংখ্যা ছয়টি থাকলেও সময়ের ক্ষেত্রে পাঠ্যক্রম অনুসরণ করা হচ্ছে না। পাঠ্যক্রমে বলা হয়েছে, দুই শিফটে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে সব ক্ষেত্রে ৫ মিনিট করে সময় কম হবে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে প্রথম পিরিয়ডে ৫৫ মিনিট ও অন্যান্য পিরিয়ডে ৪৫ মিনিট করে ক্লাস নেয়ার কথা।

পিরিয়ডের ব্যাপ্তির ক্ষেত্রে পাঠ্যক্রম অনুসরণ না করা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে চট্টগ্রাম সরকারি বালিকা বিদ্যালয়। দুই শিফটে পরিচালিত বিদ্যালয়টিতে প্রথম পিরিয়ডে ৫০ মিনিট ও পরবর্তী পিরিয়ডগুলো ৪০ ও ৩৫ মিনিট করে নেয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হাসমত জাহান বলেন, আসলে আমাদের দেশের অধিকাংশ বিদ্যালয়ই এক শিফটে পরিচালিত হয়। কারিকুলাম করার ক্ষেত্রে সেসব বিদ্যালয়ই বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। তাই দুই শিফটের স্কুলের ক্ষেত্রে পাঠ্যক্রম অনুযায়ী ক্লাস রুটিন করা সম্ভব হয় না। আমাদের শিক্ষকরা ৪০ মিনিট কখনো ৩৫ মিনিটেই কাভার করে ফেলেন।

বিদ্যালয়গুলোয় পাঠ্যক্রম অনুসরণ না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, ক্লাস রুটিন ও পিরিয়ড বিষয়ে শিক্ষাক্রমে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, তা খুবই যৌক্তিক ও বিজ্ঞানসম্মত। কিন্তু দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে, আমাদের বিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষকরা তা অনুসরণ করছেন না। বিদ্যালয়ে পাঠ্যক্রম অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা, তা মনিটরিংয়ের জন্য জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমিক সুপারভাইজার রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ হিসেবে মাউশি এ বিষয়ে দায়বদ্ধ।

তিনি আরো বলেন, আসলে কোনো নিয়ম বা প্রবিধান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সব ধাপের অংশীজনদেরই আন্তরিক হতে হয়। কোনো একটি ধাপে নিষ্ক্রিয়তা দেখা দিলে পুরো প্রক্রিয়াই ব্যাহত হয়। সম্প্রতি মাউশির মনিটরিং ও ইভ্যালুয়েশন বিভাগ গঠন করা হয়েছে। এ বিভাগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা হবে।

এদিকে পাঠ্যক্রম অনুযায়ী ক্লাস নেয়া বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা জানান, ক্লাসের সংখ্যা কমে যাওয়ায় শ্রেণিকক্ষে বেশি সময় নিয়ে পাঠদান করার সুযোগ পাওয়া যায়। পাঠ্যক্রম মেনে চলে এমন একটি প্রতিষ্ঠান রংপুরের কারমাইকেল কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো. আব্দুল ওয়াহেদ মিঞা বলেন, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় পাঠ্যসূচির বাইরেও শিক্ষকদের কিছু কাজ করতে হয়। এছাড়া বইয়ের বাইরেও বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটির মাধ্যমে ক্লাস নিতে হয় শিক্ষককে। এজন্য প্রয়োজন হয় সময়ের। আগে আমাদের প্রতিষ্ঠানেও আটটি করে ক্লাস নেয়া হতো। এখন সেটি কমিয়ে ছয়টি পিরিয়ড করা হয়েছে। ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের ওপর থেকে কিছুটা হলেও চাপ কমেছে।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top